তিন ঘণ্টা অবরোধের পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচল শুরু
Published: 30th, November 2025 GMT
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেন করার দাবিতে বিভিন্ন স্থানে করা অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন আন্দোলনকারী ব্যক্তিরা। আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া উপজেলায় এবং বেলা পৌনে ১টার দিকে কক্সবাজারের চকরিয়ায় মহাসড়ক অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
এর আগে সকাল ৯টার দিকে লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া এবং সকাল ১০টা থেকে চকরিয়ায় মহাসড়ক অবরোধ করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন আন্দোলন’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে মহাসড়কটির একাধিক স্থানে অবরোধ করা হয়। এতে দীর্ঘ যানজট দেখা দেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন কক্সবাজারমুখী পর্যটক ও যাত্রীরা।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি দুই লেনের। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পর্যটন নগর কক্সবাজারের কারণে এই সড়কে সব সময় যানবাহনের চাপ থাকে। ফলে প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজটে পড়তে হয় যাত্রীদের। এ ছাড়া সরু মহাসড়ক হওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।
আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে লোহাগাড়ার আমিরাবাদ স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে ছয় লেনের দাবিতে নানা স্লোগান দিচ্ছেন অবরোধকারী ব্যক্তিরা। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট দেখা গেছে।
লোহাগাড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.
সাতকানিয়ার ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, মহাসড়কটি সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া চলমান। এটি দরপত্রের অপেক্ষায় রয়েছে। আন্দোলনকারীদের কাছে এই তথ্য ছিল না। এটা জানার পর তারা কেরানীহাট থেকে অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরি সেতু এলাকায় সকাল ১০টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে সেতু এলাকায় অবস্থান করছেন আন্দোলনকারী ব্যক্তিরা। পুলিশের একটি দল তাঁদের সরে যেতে অনুরোধ করলেও দাবি পূরণের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সরবেন না বলে জানান তাঁরা। পরে বেলা পৌনে একটার দিকে প্রশাসনের আশ্বাসে তাঁরা মহাসড়ক থেকে সরে যান।
চকরিয়ার ইউএনও মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হয়েছে। এখন ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) প্রণয়নের কাজ চলছে। আন্দোলনকারীদের তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
পাহাড়চূড়ায় ‘অতিকায় জাহাজ’, দূরে তাকালে সাগর, কোথায় এমন জায়গা
শীতের মিষ্টি রোদ জড়ানো নীল পাহাড়ের সারি। নিচে এক চিলতে সরু ফিতার মতো পাহাড়ি নদী। আরও দূরে তাকালে দেখা যায় সাগরের তটরেখা। উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় একটা আস্ত জাহাজের মতো বাড়ি। নাম টাইটানিক পয়েন্ট। সেখানকার আঙিনায় দাঁড়িয়ে এমন দৃশ্য দেখতে দেখতে বিস্ময়ে অভিভূত হতে হবে। প্রশান্তিতে ভরে উঠবে মন।
নিসর্গশোভিত এই জায়গাটি বান্দরবানের লামা উপজেলার মিরিঞ্জা পাহাড়ে অবস্থিত। মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স নামের এই স্পটটি সরকারি। সমুদ্রপৃষ্ট থেকে প্রায় দেড় হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থান। পাশের আরেকটি পাহাড়ের উচ্চতা ২ হাজার ২৫০ ফুট।
পর্যটন কমপ্লেক্সের টাইটানিক পয়েন্টে দাঁড়িয়ে পশ্চিম দিকে তাকালে খালি চোখে দেখা যায় শত কিলোমিটার দূরের মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লি। বিকেলে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সূর্যাস্ত এবং সকালে বান্দরবানের উঁচু পাহাড় ভেদ করে পূর্বাকাশের সূর্যোদয় দৃশ্য উপভোগ করা যায়। পাহাড়ের নিচে ম্রো, ত্রিপুরা,চাকমা, বম, মারমা সম্প্রদায়ের টংঘর, সবুজ গাছপালার সুখী ও দুঃখী নামে জোড়া পাহাড় পর্যটকদের বিমোহিত করে। জোছনা রাতে টেলিস্কোপে চাঁদ দেখা যায় গোলঘরে বসে। রাতে থাকার সুযোগও রয়েছে মিরিঞ্জা কমপ্লেক্সে। তবে এ জন্য আগে থেকে উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে। তবে আশপাশের পাহাড়ে বিভিন্ন রিসোর্টে রয়েছে রাত যাপন ও খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা।
যেভাবে গড়ে উঠল টাইটানিক পয়েন্টউপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স গড়ে ওঠার ইতিহাসটাও জানা গেল। তাঁরা বললেন, ২০০১ সালের শেষ দিকে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে যোগ দেন হেলালুদ্দিন আহমদ। লামা শহরে ঢুকতে রাস্তার পাশের উঁচু পাহাড়টি দেখে দূর থেকে জাহাজের মতো মনে হয়েছিল তাঁর। ভাবলেন, পাহাড়চূড়ায় জাহাজের আদলে একটি কমপ্লেক্স তৈরির। ২০০২ সালে পাহাড়চূড়ায় পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ১৬ একর পাহাড়ি ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। ২০০৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর শুরু হয় টাইটানিক ভিউ পয়েন্টসহ মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ। ২০০৫ সালের ১৯ এপ্রিল কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন বান্দরবানের তৎকালীন জেলা প্রশাসক শেখ আলা উদ্দিন। ২০ টাকা মূল্যের টিকিটের বিনিময়ে পর্যটকদের বেড়ানোর জন্য খুলে দেওয়া হয় কমপ্লেক্সটি।
লামার এই পর্যটন কমপ্লেক্স নিয়ন্ত্রণ করে লামা উপজেলা পরিষদ। লামার বর্তমান ইউএনও মো. মহিউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স মাঝে বেশ বেহাল হয়ে পড়ে। এরপর এর সংস্কার করা হয়। নতুন করে সংস্কারের পর দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। রাত যাপনসহ পর্যটকদের বিনোদন সুবিধা বাড়াতে কমপ্লেক্সে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হচ্ছে।
মিরিঞ্জা ভ্যালির পাশের পাহাড়ে তৈরি হয়েছে সুখিয়া ভ্যালি রিসোর্ট, মিরিঞ্জা হিল রিসোর্ট, মারাইংছা হিল রিসোর্ট, মেঘ মাচাং রিসোর্ট, চুংদার রিসোর্ট, ডেঞ্জার হিল রিসোর্ট, মেঘকুঞ্জ রিসোর্ট, জঙ্গলভিলা রিসোর্ট, মিরিঞ্জা ইকো রিসোর্টসহ ১০-১৫টি থাকার ঘর। প্রতিটা কক্ষের ভাড়া পড়ে ১ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা। কয়েকটি রিসোর্টে তাঁবুতে রাত কাটানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়। সে ক্ষেত্রে ভাড়া গুনতে হবে ৫০০-৯০০ টাকা। তবে মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্সের মতো অধিকাংশ পাহাড়ি রিসোর্টে গাড়িতে যাওয়া যায় না। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তায় পায়ে হেঁটে কিংবা মোটরসাইকেলে যেতে হয়। রিসোর্টে যেতে মোটরসাইকেল ভাড়া পাওয়া যায়।সংস্কারের পর টাইটানিক পয়েন্টের সৌন্দর্য অনেকখানি বেড়েছে। ২০ নভেম্বর এই কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেল, সমতল থেকে টাইটানিক ভিউ পয়েন্টে ওঠার সিঁড়িতে নতুন করে রেলিং লাগানো হয়েছে। জাহাজের আদলে তৈরি ভবনের চারপাশেও নতুন রেলিং দেওয়া হয়েছে। কমপ্লেক্সের মাঝে তৈরি হয়েছে নজরকাড়া একটি মাস্তুলও।
হাড়ের নিচে ম্রো, ত্রিপুরা, চাকমা, বম, মারমা সম্প্রদায়ের টংঘর, সবুজ গাছপালার সুখী ও দুঃখী নামে জোড়া পাহাড় পর্যটকদের বিমোহিত করে। সম্প্রতি বান্দরবানের লামা উপজেলার মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স থেকে তোলা