ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন করছে স্মার্টফোন ও গ্যাজেট ব্যবসায়ীদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ রোববার সকাল ১০টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজার মোড়ে মানববন্ধনের জন্য জড়ো হন এমবিসিবির সদস্যরা।

রাজধানীর বিভিন্ন শপিংমলের মোবাইল ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি দোকান কর্মচারীরাও মানববন্ধনে অংশ নেন। তাঁরা দোকান বন্ধ রেখে মানববন্ধন করেন।

আরও পড়ুনঅনিবন্ধিত মুঠোফোনের ব্যবহার বন্ধে ১৬ ডিসেম্বর চালু হচ্ছে এনইআইআর২৯ অক্টোবর ২০২৫

মানববন্ধনকারীরা বলেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে চালু হতে যাওয়া এনইআইআর ব্যবস্থার নীতিমালায় দেশের প্রায় ২০ হাজার ব্যবসায়ীর স্বার্থ বিবেচনা করা হয়নি। তাই সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করছেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া রাজধানীর একটি শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী আনোয়ার প্রথম আলোকে বলেন, এনইআইআর বাস্তবায়ন হলে লাখো ব্যবসায়ী ও পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে লাভবান করার জন্য নতুন এই নিয়ম করা হচ্ছে। মোবাইলের ওপর বাড়তি করের কারণে ভোক্তাদের বেশি দামে মোবাইল কিনতে হবে।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দেখা যায়, কাপ্তানবাজার মোড়ে বিচ্ছিন্নভাবে মানববন্ধনকারীরা অবস্থান নিয়েছেন। এ সময় তাঁরা দাবিদাওয়া লেখা ব্যানার-প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করছেন। পাশাপাশি এনইআইআর সংশোধনের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় তাঁদের। এ সময় সড়কে কিছুটা যানজট দেখা যায়।

আরও পড়ুনঅবৈধ মুঠোফোন বন্ধ হবে ১৬ ডিসেম্বর থেকে, কীভাবে জানবেন বৈধ কি না৩০ অক্টোবর ২০২৫

এনইআইআর চালুর আগের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার দাবি জানান মানববন্ধনকারীরা। তাঁরা বলেন, দাবি আদায় না হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে।

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, অনিবন্ধিত মুঠোফোন হ্যান্ডসেটের ব্যবহার রোধ ও টেলিযোগাযোগ খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে চালু হবে এনইআইআর ব্যবস্থা। এটি চালু হলে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে নিবন্ধনবিহীন, চুরি হওয়া বা আমদানি অননুমোদিত মুঠোফোনের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ হবে।

আরও পড়ুনসেই সংবাদ সম্মেলন করেছে ‘মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি’, অভিযোগ তুলেছে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের বিরুদ্ধে১৯ নভেম্বর ২০২৫.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: ব যবস য় দ র র ব যবস ন বন ধ

এছাড়াও পড়ুন:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই হামলায় মদদদাতা শিক্ষকদের বিচার দাবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই আন্দোলন চলাকালে ছাত্র–জনতার ওপর হামলায় মদদ ও পরীক্ষার অনিয়মে জড়িত শিক্ষকদের বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা–কর্মীরা। আজ বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।

মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন জাতীয় ছাত্রশক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সংগঠক কাজী মেহরাব। এতে বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনে হামলায় মদদদাতা শিক্ষকদের বিচার না করে গাদ্দারি করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একাডেমিক ক্ষেত্রে শিক্ষকদের আক্রোশের শিকার হয়ে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ‘রেজাল্ট টেম্পারিংয়ের’ শিকার হচ্ছেন। এই প্রশাসন ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের বলির পাঁঠা বানিয়ে তারা শিক্ষক সিন্ডিকেট জিইয়ে রেখেছে। অবিলম্বে এসব শিক্ষকের বিচারকাজ শেষ করার দাবি জানান তাঁরা।

ইংরেজি বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ছাত্রশক্তির সংগঠক খন্দকার আল ফাহাদ বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিচারের দাবি করে আসছি। কিন্তু আমাদের প্রশাসন একটা কথা বলে যে, তারা শিক্ষকদের প্রতি কোনো অবিচার করতে পারবে না। ঠিক কথা, তারা শিক্ষকদের প্রতি কোনো অবিচার করতে পারবে না। কিন্তু তারা ঠিকই প্রতিবার শিক্ষার্থীদের প্রতি অবিচার করতে পারে; এমনটি আগেও করেছে, বর্তমানেও করছে। যে প্রশাসনকে আমরা একটি গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বসিয়েছি, তারা আজ এটিকে হাস্যকর বিষয়ে পরিণত করছে।’

ব্যবস্থাপনা বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ছাত্রশক্তির সংগঠক নাদিয়া রহমান বলেন, হামলাকারী শিক্ষার্থীদের বিচার যদি এই দেড় বছরে করা সম্ভব হয়, তাহলে মদদদাতা শিক্ষকদের বিচার কেন এই দেড় বছরে করা সম্ভব নয়? তারা জাকসুর আগে মিটিংগুলোয় বলেছিল, জাকসু হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই এসব শিক্ষকের বিচার সম্ভব। কোথায় সেই বিচার? জাকসু হওয়ার পর আজ প্রায় দুই মাস হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এ পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষকদের কোনো ধরনের বিচারের তৎপরতা প্রশাসনের ভেতরে দেখা যাচ্ছে না।

অবিলম্বে শিক্ষকদের বিচার না হলে এই প্রশাসনকে টেনেহিঁচড়ে নামানোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রশক্তির সংগঠক জিয়াউদ্দিন আয়ান বলেন, এই শিক্ষকদের বিচার না হওয়ার পেছনে আওয়ামীপন্থী সিন্ডিকেট জড়িত আছে। যে শিক্ষকেরা রেজাল্ট টেম্পারিং করছেন, তাঁদের অধিকাংশই আওয়ামীপন্থী সিন্ডিকেট। যদি প্রশাসন এসব শিক্ষকের বিচার না করে, তাহলে সাবেক ভিসি নুরুল আলমের প্রশাসন যেভাবে বিদায় নিয়েছিল, এই প্রশাসনকেও সেভাবে নামানো হবে।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলী চিশতি, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আহসান লাবিব, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদ ইমন প্রমুখ।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • এনইআইআর সংস্কারের দাবিতে আগামীকাল সারা দেশে মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধের ঘোষণা
  • রাজশাহীর আরডিএ কমপ্লেক্সের ইজারা বাতিল করে সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র করার দাবিতে মানববন্ধন
  • সেলিমা রহমানকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে বাবুগঞ্জে মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ
  • সিদ্ধিরগঞ্জ মসজিদ ভাঙ্গায় যুবদল নেতার শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ
  • বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে শেখ সাদীর কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভ
  • বাউলদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব
  • ভোলা-বরিশাল সেতুসহ ছয় দফা দাবিতে ভোলায় মানববন্ধন
  • খুলনায় আপ বাংলাদেশের নেতা ফাইজুল্লাহ শাকিলকে দল থেকে অব্যাহতি
  • জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই হামলায় মদদদাতা শিক্ষকদের বিচার দাবি