দেশকে এগিয়ে নিতে মননশীল, উন্নত ও যুক্তিনির্ভর প্রজন্ম গড়ে ওঠা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বরিশাল–১ (গৌরনদী–আগৈলঝাড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জহির উদ্দিন (স্বপন)। তিনি বলেন, ‘এই প্রজন্ম তৈরিতে বিতর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর মাধ্যম। বিতর্ক তরুণদের মধ্যে বিশ্লেষণাত্মক চিন্তা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করে, যা তাঁদের উদ্ভাবনী ও ইতিবাচক পরিবর্তনের অংশ হতে সহায়তা করে।’

আজ রোববার দুপুরে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত ‘সংসদীয় বিতর্ক কর্মশালা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব–২০২৫’–এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে জহির উদ্দিন এ কথা বলেন।

জহির উদ্দিন বলেন, বিতর্কের মাধ্যমে অর্জিত বিশ্লেষণাত্মক দক্ষতা ও সৃজনশীলতা তরুণদের দেশের বিভিন্ন জটিল সমস্যা সমাধানে নতুন ও কার্যকর পথ খুঁজে নিতে উদ্বুদ্ধ করে। একটি মুক্ত পরিবেশে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় ঘটার ফলে শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি আরও গভীর ও যুক্তিনির্ভর হয়ে ওঠে। এতে তরুণদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তনের মানসিকতা গড়ে ওঠে, যা দেশের উন্নয়নের প্রক্রিয়ায় তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারে।

সকালে কর্মশালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.

ইব্রাহীম। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপির রিসার্চ অ্যান্ড মনিটরিং সেলের প্রধান ও টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ রেহান এ আসাদ। এ ছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মির্জা সাকি বক্তব্য দেন। কর্মশালায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, বিতার্কিক ও বিতর্ক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। গৌরনদী ডিবেটিং সোসাইটি এই কর্মশালার আয়োজন করে।

দুপুরে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন। এ সময় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা দেশের রাজনীতি, গণতন্ত্র, সামাজিক নেতৃত্ব, শিক্ষা উন্নয়ন, নারী স্বাধীনতা, মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, যোগাযোগব্যবস্থা ও উচ্চশিক্ষা–সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন উপস্থাপন করেন। তিনি এসব প্রশ্নের উত্তর দেন।

প্রশ্নোত্তর পর্বে জহির উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত প্রতিটি প্রশ্নই একটি দেশের মানুষের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। দেশের সার্বিক অগ্রগতি ও গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য এসব অধিকার অপরিহার্য। বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে এই মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে আসছে। তিনি বলেন, ‘অতীতে ভোট দিয়ে তোমাদের অভিভাবকেরা আমাকে কয়েকবার জাতীয় সংসদে পাঠিয়েছেন। আগামী দিনেও নির্বাচিত হলে এসব অধিকার ও শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন জাতীয় সংসদে তুলে ধরে সেগুলো বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখব।’

দিনভর অনুষ্ঠিত বিতর্ক কর্মশালায় গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার ৯টি কলেজের প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন। কর্মশালা শেষে সেরা প্রশ্নকারী শিক্ষার্থীদের উপহার হিসেবে বই তুলে দেন প্রধান অতিথি জহির উদ্দিন। আয়োজকেরা জানান, ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের বিতর্ক কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তরুণ প্রজন্ম যুক্তিবাদী, সচেতন ও নেতৃত্বগুণে সমৃদ্ধ হয়ে দেশের জন্য দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত হতে পারে।

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: প রজন ম ব তর ক ব এনপ গ রনদ

এছাড়াও পড়ুন:

নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না, জাতির সামনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে: গোলাম পরওয়ার

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার নির্বাচনের রূপরেখা ঘোষণা করলেও সেই নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি না, তা নিয়ে জাতির সামনে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কিছু ব্যক্তির কুপরামর্শে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে, যা নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।’

আজ রোববার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত আট–দলীয় জোটের সমাবেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কথা বলেন। আট দলের বিভাগীয় সমাবেশগুলোর মধ্যে এটি প্রথম সমাবেশ।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে ও মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডলের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল হক আজাদ, খেলাফত মজলিসের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল বাসিত আজাদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি আনোয়ারুল হক, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহম্মেদ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ হক্কানী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার প্রমুখ বক্তব্য দেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘দেশ গড়ার স্বপ্ন পূরণে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পরিবর্তনের বার্তায় বাংলাদেশের সব মানুষকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানাই। আমরা এবং অন্যান্য দল সরকারের নির্বাচনী ঘোষণাকে মেনে নিয়েছি। কিন্তু নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা করলেই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।’ তিনি জুলাই সনদের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সংস্কারের বিষয়গুলো জনগণের সামনে স্পষ্ট না করেই গণভোট আয়োজন করা হলে জনগণ বিভ্রান্ত হবে। সাংবিধানিক, বিচার বিভাগীয় ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত অনেক সংস্কার হয়েছে। কিন্তু এগুলো সম্পর্কে জনগণকে আগে জানাতে হবে। জনগণ না জেনে কোথায় “হ্যাঁ” বলবে আর কোথায় “না” বলবে?’

প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো তৈরি হয়নি। একটি বিশেষ দলের গোপন ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে ইচ্ছেমতো ডিসি, এসপি ও ওসি নিয়োগ দিয়ে প্রশাসনকে নষ্ট করা হচ্ছে। প্রশাসন যদি রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশে হামলা বন্ধ করতে না পারে, তবে তাদের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে দিনের বেলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে যাওয়ার পর খুলনার আদালতের চত্বরে দুজনকে গুলি করে, কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। যে দেশে প্রকাশ্যে এইভাবে কোর্টের সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়, সেই প্রশাসনের দায়িত্বে নির্বাচনের দিন ভোট ডাকাতি হবে না, ভোটকেন্দ্রে হত্যা হবে না, আমাদের জানমালকে তারা খুন করে ভোটাধিকার লুট চাইবে না, তার কোনো গ্যারান্টি নাই।’

দেশের সরকার ও পথের পরিবর্তন হলেও জনগণের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে মন্তব্য করেন ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল হক আজাদ। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে ১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে, প্রতিপক্ষ ঘায়েল হয়েছে। কিন্তু যে উদ্দেশ্যে আন্দোলন হয়েছিল, সেই ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হয়নি।’

সম্পর্কিত নিবন্ধ