জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় পার্টির (জাপা) একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠিত হচ্ছে। জোটের মুখপাত্র করা হচ্ছে জাপা মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারকে। এই জোটের সম্ভাব্য নাম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক জোট’।

আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর গুলশানের হাওলাদার টাওয়ারে জাপার উদ্যোগ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। জাপার (একাংশ) চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জোটে অন্তর্ভুক্ত সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সমন্বয়ে একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যেই জোটের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ করা হবে।

সভায় জাপার মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, যেসব রাজনৈতিক দল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, উদার গণতন্ত্র, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী সেসব দলের সঙ্গে একটি বৃহত্তর জোট গঠন করার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপস্থিত ১৬টি রাজনৈতিক দলের নেতারা বৃহত্তর জোট গঠন করার লক্ষ্যে একমত হয়েছেন। চলতি সপ্তাহে এ জোটের আত্মপ্রকাশ হতে পারে।

রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, যদি দেশে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ থাকে, তাহলে দলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। তবে এখন পর্যন্ত দেশে নির্বাচন আয়োজনের মতো ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ (সবার জন্য সমান সুযোগ) তৈরি হয়নি।

মতবিনিময় সভায় আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে এখন একটা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। সবার মধ্যে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়া নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করছে। তারপরও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে।

আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, দেশের জনগণের কাছে একটি তৃতীয় ধারার সুস্থ রাজনীতি উপহার দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে দলগুলোর। দেশ আজ বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে দুই ভাগে বিভক্ত। আওয়ামী লীগ নির্বাচন করতে পারবে কি না, সন্দেহ আছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারলে ভালো ফল করার সম্ভাবনা আছে।

আরও পড়ুনআনিসুলের জাতীয় পার্টি ও জেপি ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করবে, নতুন জোট গঠনেরও উদ্যোগ২৭ নভেম্বর ২০২৫

আনিসুল ইসলাম মাহমুদ জানান, জোটের মূলমন্ত্র হবে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, উদার গণতন্ত্র ও সকল ধর্মের মানুষের সহাবস্থান।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন জাপার জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক, জনতা পার্টি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার মিলন, মহাসচিব শওকত মাহমুদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (মতিন) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এ এন এম সিরাজুল ইসলাম, মহাসচিব জাফর আহমেদ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি মহসিন রশিদ, গণফ্রন্টের চেয়ারম্যান আকমল হোসেন, মহাসচিব জাহাঙ্গীর আলম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান শেখ সালাউদ্দিন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির একাংশের নির্বাহী সভাপতি আশরাফুল হক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান সেকান্দার আলী মনি, বাংলাদেশ ইসলামিক জোটের চেয়ারম্যান আবু নাসের ওহেদ ফারুক, জাতীয় সংস্কার জোটের সভাপতি মেজর (অব.

) আমীন আহমেদ আফসারী, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান শেখ মুস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ মানবাধিকার পার্টির চেয়ারম্যান মো. আখতার হোসেন, সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেন এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি মহিউদ্দিন বাবলু।

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: র হ ল আম ন র জন ত ক

এছাড়াও পড়ুন:

রাজনৈতিক জনসভায় জনসাধারণের ভোগান্তির কথা কে ভাবে

রাজনৈতিক জনসভা গণতন্ত্রচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ নিয়ে তেমন দ্বিমতও থাকার কথা নয়। দলগুলো তাদের শক্তি প্রদর্শন, কর্মসূচি ঘোষণা কিংবা জনগণের মতামত জানাতে এসব আয়োজন করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এসব আয়োজনের কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন কতটা ব্যাহত হয়, তা কি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করি?

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ‘সময়’ সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। কিন্তু হতাশার বিষয় হচ্ছে, এসব রাজনৈতিক সমাবেশ ঘিরে মানুষের সময় নিয়ে ভোগান্তির শেষ থাকে না। এসব জনসভা বা সমাবেশের ফলে যখন রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যায়, যান চলাচল সীমিত হয়, তখন অফিসগামী কিংবা শ্রমজীবী মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে কাটাতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্কুলগামী শিশুদেরও নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স প্রচণ্ড বিপাকে পড়ে জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নিতে গিয়েও নানা বাধার মুখোমুখি হতে হয়, যা কখনো কখনো জীবনহানির ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। এটি অত্যন্ত চিন্তা ও উদ্বিগ্নের বিষয়।

শুধু যানজটই নয়, লাউডস্পিকারের অতিরিক্ত শব্দ মানুষকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করে। বয়স্ক, অসুস্থ কিংবা পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য এটি আরও বেশি কষ্টদায়ক। পাশাপাশি মাইকিং, ভিড় ও সড়ক দখল—সব মিলিয়ে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল দুরূহ হয়ে পড়ে, যা গণতন্ত্রের জন্য কোনোভাবেই ভালো বার্তা নয়।

রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্য অবশ্যই জনস্বার্থে হওয়া উচিত। তাই জনসভার পাশাপাশি মানুষের দৈনন্দিন জীবন যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকও সমান গুরুত্ব পাওয়া জরুরি। আমরা জানি, অনেক দেশেই রাজনৈতিক দলগুলো বড় সমাবেশ নির্দিষ্ট মাঠ বা খোলা স্থানে আয়োজন করে থাকে, যা আমাদের জন্য অনুসরণীয়।

জনপ্রিয়তা বা শক্তি প্রদর্শনের চেয়ে মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখা অনেক বেশি প্রয়োজনীয়। কেননা, গণতন্ত্রের শক্তি মানুষের অংশগ্রহণে, কিন্তু সেই অংশগ্রহণ যেন মানুষের কষ্ট বাড়িয়ে না তোলে এই সচেতনতা রাজনীতি ও প্রশাসন উভয়েরই থাকা প্রয়োজন।

তৌহিদ-উল বারী

শিক্ষার্থী, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে নির্যাতিত : মাসুদুজ্জামান
  • ‘অসুস্থ মায়ের পাশে থাকতে না পারা কত যন্ত্রণার, সেটা সন্তানই বুঝতে পারে’
  • খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় মসজিদ-মাদ্রাসায় মাসুদুজ্জামানের দোয়া 
  • ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি
  • টাকায় কেনা যায় এমন একটা গণতন্ত্র আমরা প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছি: বদিউল আলম মজুমদার
  • খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় ঝিনাইদহে দোয়া মাহফিল
  • গণতন্ত্রের পুনরুত্থানে খালেদা জিয়ার উপস্থিতি এখন জরুরি: নাহিদ 
  • রাজনৈতিক জনসভায় জনসাধারণের ভোগান্তির কথা কে ভাবে
  • ভিন্নমত পোষণ করলেই তাকে শত্রু মনে করা হয়: ফখরুল