বিএসএফের বিবৃতি: ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে ছোড়া’ গুলিতে নিহত হয়েছে
Published: 30th, November 2025 GMT
চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে শনিবার বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় বিবৃতি দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। নিহত বাংলাদেশির পরিচয় সেই বিবৃতিতে না থাকলেও বিএসএফ জানিয়েছে ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে’ গুলি চালানোর কারণে দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিহত হয়েছে ওই বাংলাদেশি।
বিএসএফ বলেছে, “পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলায় অবৈধ চোরাচালান চেষ্টা করার সময় বাংলাদেশি চোরাকারবারিরা দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের উপর হামলা চালায়। ঘটনাটি ঘটে ৩২ ব্যাটালিয়নের অধীনে বিওপি মাটিয়ারিতে।.
বিএসএফের দেওয়া তথ্য অনুসারে, ২৯ নভেম্বর বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিটেরি দিকে ৩২ ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা সীমান্ত বেড়ার কাছে ৬-৭ জন ভারতীয় চোরাকারবারিকে প্লাস্টিকের বান্ডিল বহন করতে দেখে। তারা বেড়ার ওপারে এই বান্ডিলগুলো ছুঁড়ে মারছিল একং অন্য দিকের বাংলাদেশি চোরাকারবারীরা সেগুলো সংগ্রহ করছিল। জওয়ান তাদের থামাতে সতর্কতামূলক এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালায়, কিন্তু এতে কোনো কজা হয়নি। চোরাকারবারীদের চোরাচালান থেকে আটকানোর উদ্দেশ্যে, জওয়ান তাদের দিকে এগিয়ে যায়। এই সময় ভারতীয় বাহিনী লক্ষ্য করে যে, বাংলাদেশি চোরাকারবারীরা ধারালো অস্ত্র (দা) নিয়ে সজ্জিত। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে সীমান্তরক্ষীদের এক জন অস্ত্র থেকে ফাঁকা গুলি ভর্তি ম্যাগাজিনটি সরিয়ে ফেলে এবং তাজা গুলি ভর্তি একটি ম্যাগজিন প্রবেশ করায়। এই পদক্ষেপের ফলে পাচারকারীরা আক্রমণাত্মক এবং উস্কানিমূলক প্রতিক্রিয়া দেখায়। তাদের মধ্যে একজন বিএসএফ সদস্যকে দা দিয়ে আঘাত করে। বিশৃঙ্খলার মধ্যে, অনিচ্ছাকৃতভাবে ট্রিগারটি চাপ দেওয়া হয়, যার ফলে একটি তাজা গুলি একজন বাংলাদেশি চোরাকারবারিকে আঘাত করে।
গুলির শব্দ শুনে এবং তাদের দলের একজনকে পড়ে যেতে দেখে, অন্য চোরাকারবারীরা আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যেতে শুরু করে। পিছু হটার সময়, তারা তাদের আহত সহযোগীকে প্রায় ৫০-৬০ মিটার টেনে টেনে নিয়ে যায়। কিন্তু জলমগ্ন এলাকায় পৌঁছানোর পর তাকে এবং তার বান্ডিলগুলো ফেলে রেখে বাংলাদেশে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর, এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় একটি কাটার, চারটি ধারালো অস্ত্র, ৯৬ বোতল ফেনসিডিল এবং দুই বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।
আহত বাংলাদেশি পাচারকারীকে চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কৃষ্ণগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। উদ্ধারকৃত সমস্ত জিনিসপত্র সহ তার মৃতদেহ কৃষ্ণগঞ্জ পুলিশের কাছে আরও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে। স্থানীয় থানায় একটি এফআইআরও দায়ের করা হয়েছে।
বিএসএফ দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের জনসংযোগ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিএসএফ বারবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে বাংলাদেশি পাচারকারীদের অনুপ্রবেশ এবং আক্রমণের বিষয়টি উত্থাপন করেছে। দুর্ভাগ্যবশত, অপর্যাপ্ত পদক্ষেপের কারণে, এই অপরাধীদের মনোবল বেড়েছে।
এদিকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানা গেছে, গুলিতে নিহত বাংলাদেশির নাম শহীদ হোসেন (৩৮) । চুয়াডাঙ্গা সীমান্তের ৭০ নম্বর প্রধান খুঁটি (মেইন পিলার) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শহীদ হোসেনের বাড়ি উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামে।
ঢাকা/সুচরিতা/শাহেদ
উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর চ র ক রব র র ব এসএফ
এছাড়াও পড়ুন:
ঘাম ঝরে একজনের, নম্বর জোটে সবার
ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন