জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের সেবা করলে মানুষকে হয়তো আরেকবার জেগে উঠতে হবে: বদিউল আলম মজুমদার
Published: 30th, November 2025 GMT
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, রাজনীতিটা এখন ব্যবসায়িক জায়গায় পরিণত হয়েছে। রাজনীতির সঙ্গে অর্থবিত্তের মালিক হওয়া এখন প্রায় নিশ্চিত। ভবিষ্যতেও যদি রাজনীতিকদের ক্ষমতায় গিয়ে সম্পদ আহরণের ধারা চলতে থাকে, তাহলে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথ সহজ হবে না। জনপ্রতিনিধিরা যদি জনগণের সেবা করতে গিয়ে নিজেদের সেবা করেন, তাহলে মানুষকে হয়তো আরেকবার জেগে উঠতে হবে।
আজ রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে এ কথা বলেন বদিউল আলম মজুমদার। ‘ভয়েস নেটওয়ার্ক’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাবনা’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে বদিউল আলম মজুমদার ২০০৮ সালে রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে নির্বাচিত মেয়রদের সম্পদের হিসাব তুলে ধরেন। তিনি জানান, নির্বাচনের পর পাঁচ বছরে খুলনা সিটি মেয়রের সম্পদ বাড়ে সাড়ে ১৪ হাজার শতাংশের বেশি। বরিশাল সিটি মেয়রের সম্পদ বাড়ে ৫ হাজার ৯১৭ শতাংশ। রাজশাহী সিটি মেয়রের সম্পদ বাড়ে ২ হাজার ৩০৮ শতাংশ। আর সিলেট সিটি মেয়রের সম্পদ বাড়ে ৬০৮ শতাংশ।
বাংলাদেশের নির্বাচনী অঙ্গনকে অপরিচ্ছন্ন বলে উল্লেখ করেন বদিউল আলম মজুমদার। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টাকা দিয়ে কেনা যায়, এমন একটা গণতন্ত্র এখানে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
সরকারের উপদেষ্টারা যদি নির্বাচনে অংশ নেন, তাহলে আরপিও (নির্বাচনসংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) অনুযায়ী তা নিয়মের ব্যত্যয় হবে কি না, সে বিষয়ে সেমিনারে নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
দেশের রাজনীতিবিদদের চাহিদা অসীম উল্লেখ করে মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘সিসিটিভি ক্যামেরা বা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের মতো কাজ যতই করা হোক, মানসিকভাবে যদি আমরা আমাদেরকে অন্তর থেকে ধৌত করতে না পারি, তাহলে অন্য কোনো বিষয় দিয়ে কোনো কিছু হবে না।’
বিএনপির এই নেতা মনে করেন, বাংলাদেশের মানুষ যদি জাতি হিসেবে নিজেদের ঐক্যবদ্ধ করতে না পারে, তাহলে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব হবে না।
নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি বলেন, তাত্ত্বিকভাবে দেখলে নির্বাচনকে খুব সহজ মনে হবে। কিন্তু বাস্তবে এটা অত্যন্ত জটিল সমীকরণ।
জেসমিন টুলি মনে করেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অবৈধ অর্থ ও অস্ত্রের ব্যবহার বাড়বে। তাই সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে আগেই সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে।
আগামী নির্বাচনে যাতে ফ্যাসিস্টরা কোনোভাবে অংশ নিতে না পারে, তা খেয়াল রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য অধ্যাপক দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন। তিনি বলেন, ‘আমরা তাকিয়ে আছি নির্বাচন কমিশনের দিকে, তারা যাতে সুষ্ঠুভাবে এবং স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।’
নির্বাচন ঘিরে গণমাধ্যমে যাতে সঠিক সংবাদ প্রচারিত হয়, সেই আহ্বান জানান উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য। নির্বাচনের সময় সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলে সংঘর্ষের ঘটনা কমে আসবে বলে মনে করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশন গঠনের পর থেকে কমিশনের কার্যক্রম এখনো জনপ্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, বিশেষ করে সম্প্রতি যে নির্বাচন কর্মকর্তা অথবা ডিসি-এসপির যে নিয়োগগুলো হয়েছে, এগুলো কিছুটা প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। কোনো একটি দলের দিকে তাঁরা হেলে পড়ছেন কি না, এই প্রশ্নটিও আসছে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এখনো নিরপেক্ষতার প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে যেকোনো সময় সরকারের এই অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তিনি মনে করেন, আগামী নির্বাচনে যদি কোনো জবরদখলের ঘটনা ঘটে, তা দেশের জন্য কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে।
বিগত সময়ে দেশের মানুষের ভোটাধিকার আইসিইউতে চলে গিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। তিনি বলেন, ‘এটা থেকে বের হওয়াটা এখন আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
বিভিন্ন হেভিওয়েট প্রার্থীর পিএসকে থানার ওসিরা ‘স্যার’ ডাকেন বলে অভিযোগ করেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। তিনি বলেন, মাঠ প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও জনপ্রশাসন মূলত এখনো পেশিশক্তি যেদিকে, সেদিকে হেলে থাকে। একটা চাঁদাবাজির মামলা নেওয়ার আগে পুলিশ বারবার খোঁজ নেয়, তাঁর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে কি না। তাঁদের এই হচ্ছে অভিজ্ঞতা।
অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে আহ্বান জানিয়ে গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, আগামী নির্বাচনে যেন আওয়ামী লীগের কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থীও অংশ নিতে না পারেন। ফ্যাসিবাদ ও তার দোসররা যাতে অংশ নিতে না পারে। ডামি নির্বাচনে যারা অংশ নিয়েছে, তারাও যাতে অংশ নিতে না পারে। এ নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো.
আয়োজকেরা জানান, ভয়েস নেটওয়ার্ক নামের এই প্ল্যাটফর্মে ২১টি নিবন্ধিত পর্যবেক্ষক সংস্থা যুক্ত আছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে সংলাপ, গবেষণা, বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে তারা কাজ করবে।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওয়ারেছুল করিম, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি প্রমুখ।
উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
সাড়ে ১২ মণ ওজনের অবৈধ ৫টি শাপলা পাতা মাছ জব্দ
পটুয়াখালীর বাউফলে সাড়ে ১২ মণ ওজনের অবৈধ ৫টি শাপলাপাতা মাছ জব্দ করেছে বন বিভাগ।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুর বারোটার দিকে বাউফল থানার সামনে অভিযান চালিয়ে অন্তরা পরিবহনের একটি বাস থেকে এসব মাছ জব্দ করা হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ অনুযায়ী শাপলা পাতা মাছ ধরা, মারা, পরিবহন বা বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবুও চোরাচালানের মাধ্যমে ঢাকা থেকে বাউফলে এসব মাছ আনা হচ্ছিলো। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এসব মাছ জব্দ করা হয়।
বাউফল বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা বদিউজ্জমান সোহাগ বলেন, “গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি অন্তরা পরিবহনের একটি বাসে অবৈধ শাপলা পাতা মাছ আনা হচ্ছে। পরে অভিযান চালিয়ে তথ্যের সত্যতা পাই এবং মাছগুলো আটক করি। এ বিষয়ে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বাসের চালক ও হেলপারকে পাওয়া যায়নি।”
ঢাকা/ইমরান/এস