খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে নির্যাতিত : মাসুদুজ্জামান
Published: 30th, November 2025 GMT
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত এমপি প্রার্থী মাসুদুজ্জামানের মাসুদুজ্জামান মাসুদ বলেছেন, “আজকের এ উঠান বৈঠককে আমরা নির্বাচনি প্রচারণা থেকে পরিবর্তন করে মিলাদ ও দোয়ার মাহফিলে রূপ দিয়েছি।
কারণ আমাদের দেশমাতা, গণতন্ত্রের মা-বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে নির্যাতিত এই জননেত্রী আজ অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর সুস্থতা কামনাই আমাদের আজকের প্রার্থনা।
এই মা তাঁর স্বামী হারিয়েছেন, সন্তান হারিয়েছেন, কারাবরণ করেছেন, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করেছেন। যদি স্বৈরাচারী সরকার আগে থেকেই তাঁকে যথাযথ চিকিৎসার সুযোগ দিতো, তাহলে হয়তো আমরা আজকের এই দুশ্চিন্তায় থাকতাম না। শাসকগোষ্ঠী তাঁকে আপোষে বাধ্য করতে চেয়েছিল কিন্তু তিনি কখনো নত হননি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে শহরের দক্ষিণ রেলিবাগান, ১৫ নং ওয়ার্ডে মাসুদুজ্জামানের উদ্যোগে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড.
এ সময় তিনি আরও বলেন, দেশনেত্রীর জন্য সারা দেশের মানুষের কান্না ও প্রার্থনার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আজ শুধু বিএনপি নয়-সারা বাংলাদেশের মানুষ তাঁর জন্য দোয়া করছেন। কোটি মানুষের এই প্রার্থনা আল্লাহ নিশ্চয়ই কবুল করবেন।
আমরা চাই আল্লাহ তাঁকে সুস্থতা দান করুন, হায়াতে ত্বয়্যিবা দান করুন - যাতে তিনি আবার আমাদের মাঝে ফিরে এসে জনগণের নেতৃত্ব দিতে পারেন।”
দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা সাগর, আনোয়ার হোসেন আনু, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন আনু, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাখাওয়াত ইসলাম রানা, নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা,মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে এলাহী সোহাগ, যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন কমল, আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য রাফি উদ্দিন রিয়াদ, সাইফুল ইসলাম আপন, নারায়ণগঞ্জ সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম হারুন, মহানগর মহিলা দলের সভানেত্রী দিলারা মাসুদ ময়নাসহ স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, মহিলদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।
দোয়া মাহফিলে আলেম-ওলামাদের বিশেষ মোনাজাতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য, দীর্ঘায়ু এবং জাতীয় জীবনে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার জন্য মোনাজাত পরিচালনা করেন; পাশাপাশি দেশ, জাতি, গণতন্ত্র ও শান্তি-স্থিতিশীলতার জন্যও দোয়া করা হয়।
এই দোয়া মাহফিলের আয়োজনটি দক্ষিণ রেলিবাগান পঞ্চায়েত কমিটি এবং এলাকার চারটি সামাজিক সেচ্ছাসেবী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন যে, আল্লাহর অশেষ রহমতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে জাতির মাঝে ফিরে আসবেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় পুনরায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি মাসুদুজ্জামান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনায় আয়োজিত আরেকটি দোয়া মাহফিলে যোগ দিতে জামি’আ হুসাইনিয়া আরাবিয়া হাজীগঞ্জ মাদ্রাসায় উপস্থিত হন।
উৎস: Narayanganj Times
কীওয়ার্ড: ব এনপ ন র য়ণগঞ জ ন র য়ণগঞ জ ব গম খ ল দ ব এনপ র র জন য ইসল ম য বদল
এছাড়াও পড়ুন:
২০ লাখ ভোটকর্মীর ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে একটি প্রস্তাব
লেখাটি ছোট। প্রস্তাবও সহজ। কিন্তু ব্যাপ্তি অনেক। এ দাবি মানা উচিত, মানতে হবে! বাংলাদেশে প্রায় ২০ লাখ মানুষ নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের বেশির ভাগই ভোট দিতে পারেন না। এটি গণতন্ত্রের এক চাক্ষুষ বৈষম্য। এ বৈষম্য রোধ করতে রাষ্ট্রকে সহজ পথ খুঁজে বের করতে হবে।
সামনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একটু পেছনে ফিরলে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তখন দেশে ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্র ছিল। ৬৬ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৫৯২ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ৪২ হাজার ১৪৯ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ওই নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেন।
একটি কেন্দ্রে একাধিক বুথ বা ভোটকক্ষ থাকে। দ্বাদশ নির্বাচনে এ সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৬১ হাজারের বেশি। প্রতিটি ভোটকক্ষের দায়িত্বে থাকেন একজন করে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। সুতরাং সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাও ছিল ২ লাখ ৬১ হাজারের বেশি। প্রতি কক্ষে দুজন করে পোলিং এজেন্ট ছিলেন, সংখ্যা ৫ লাখের বেশি। এ হিসাবে দ্বাদশ নির্বাচনে শুধু ব্যালটের সঙ্গে যুক্ত ভোটকর্মীই ছিলেন ৮ লাখের বেশি। আসন্ন নির্বাচনেও এ সংখ্যা প্রায় এমনই থাকবে।
এর বাইরে সাধারণত প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার মিলে নিরাপত্তাকর্মী থাকেন প্রায় ১৬ জন। এ হিসাবে মোট ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা সাত লাখের মতো। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে এ সংখ্যা আরও বেশি হয়। এ ছাড়া রিজার্ভ পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাসদস্যরা রয়েছেন। সব মিলিয়ে বিভিন্ন স্তরে ২০ লাখের মতো মানুষ নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
নিজ শহর ছেড়ে অন্যত্র দায়িত্ব পালন করা গণমাধ্যমকর্মীদের সংখ্যা অনেক। হাসপাতাল, বিদ্যুৎ, থানাসহ জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে অনেক। ভোট দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও এ মানুষদের অনেকের পক্ষেই ভোট দেওয়া সম্ভব হয় না। অথচ এ মানুষগুলো গণতন্ত্রের প্রত্যক্ষ অংশীদার। এ মানুষগুলো তাঁদের কর্মের কারণে দেশের ভালো–মন্দের বিষয়ে অধিক জ্ঞান রাখেন। সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং এজেন্ট সাধারণত শিক্ষকদের মধ্য থেকে হয়ে থাকেন। এ মানুষগুলো রাষ্ট্রের নাগরিক গড়ার মূল কারিগর। অথচ তাঁরা নির্বাচনে তাঁদের রায় দিতে পারেন না।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এ ভোটকর্মীদের জন্য পোস্টাল ভোটিং পদ্ধতি রয়েছে। কিন্তু তা অত্যন্ত জটিল। নির্বাচনী প্রজ্ঞাপন জারির ১৫ দিনের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর সংশ্লিষ্ট ভোটারকে আবেদন করতে হয়। এরপর রিটার্নিং কর্মকর্তা ওই ভোটারের ঠিকানা বরাবর ডাকযোগে ব্যালট পেপার পাঠাবেন। সেটি আবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পূরণ করে আরেকজন ব্যক্তির দ্বারা সত্যায়ন করে রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর পাঠাতে হবে। এই পদ্ধতি পড়তে গেলেই মাথা ঝিম করে ওঠে। এ ঝক্কি পেরিয়ে কয়জনের পক্ষে এ পোস্টাল ভোট দেওয়া সম্ভব?
কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনে ভোট নেওয়ার দায়িত্ব পালন করেছেন—এমন ১০ জন শিক্ষককের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছি। তাঁদের কেউই তাঁদের পোস্টাল ভোটিং সম্পর্কে অবগত নন। পাশাপাশি নির্বাচন নিয়ে কাজ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিকসহ সাতজনের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা জানালেন, ভোটকর্মীদের পোস্টাল ভোটিংয়ের বিষয়টি মোটাদাগে নির্বাচনী নথি ও আরপিওর ভেতরই সীমাবদ্ধ, জনপরিসরে চর্চিত নয়।
সহজ প্রস্তাবরিটার্নিং কর্মকর্তা থেকে শুরু করে আনসার পর্যন্ত সব ধরনের ভোটকর্মীর ভোটাধিকার সহজ করা হোক। এ ক্ষেত্রে আমার প্রস্তাব হলো, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) স্ক্যান করে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ করে দেওয়া। এর জন্য একবার ব্যবহারযোগ্য টেমপ্লেট ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারে নির্বাচন কমিশন। কারণ, জাতীয় পরিচয়পত্রের কল্যাণে ব্যক্তির আঙুলের ছাপ তাঁদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে, স্মার্ট কার্ডধারীদের আইরিশও আছে। আর এই ডিভাইসগুলোও পর্যাপ্ত আছে বলে মনে করি। এনআইডি স্ক্যানের পর ক্রস চেকের জন্য শুধু আঙুলের ছাপ নিতে চাইলে সিম বিক্রির প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে নির্বাচনের দিনের জন্য কিছু বায়োমেট্রিক মেশিনও ধার নিতে পারে কমিশন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একটি মেশিন সেটআপের বেশি প্রয়োজন হবে না।
মনে রাখতে হবে, এই যে কমবেশি ২০ লাখ ভোটকর্মীর ধারণা দেওয়া হলো, তাঁরা সবাই কিন্তু রাষ্ট্রে সচেতন শ্রেণির নাগরিক, শিক্ষিত শ্রেণির নাগরিক। তাঁদের মধ্যে রয়েছে শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তাই এই মানুষগুলোর নির্বাচনী রায় অনেকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি। তাঁরা একজন প্রার্থীকে বা একটি দলকে অনেক কিছুর ওপর ভিত্তি করে রায় দেবেন। তাঁদের পাশাপাশি পুলিশ স্টেশন, ফায়ার সার্ভিস, হাসপাতালের মতো জরুরি সেবা-পরিষেবামূলক খাতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও এনআইডি স্ক্যান করে কর্মস্থলের পাশের কোনো কেন্দ্রে ভোটাধিকার দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হোক। এটা একটি নাগরিক অধিকার বলে মনে করি।
মো. ছানাউল্লাহ প্রথম আলোর সহসম্পাদক
*মতামত লেখকের নিজস্ব