আলোচিত অভিনেত্রী তমা মির্জা। সর্বশেষ অভিনয় করেছেন ‘দাগি’ সিনেমায়। সম্প্রতি ব্যাংককে মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বের অনুষ্ঠানও সরাসরি উপভোগ করেছেন। জানা গেছে, সেখানে ১১ দিনের ট্যুরে গেছেন অভিনেত্রী। থাইল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে তুলেছেন অনেকগুলো স্থিরচিত্র। এরপর ফুলেল সাদা পোশাকে ক্যামেরায় ধরা পড়েছেন অভিনেত্রী। আবার কখনো কালো পোশাকে নিজেকে জমকালো সাজে হাজির করেছেন অভিনেত্রী।

তমা মির্জা দেশ টেলিভিশনের এক অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে তাঁর সমসাময়িক-ব্যক্তিগত নানা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন। কাজের জায়গার রাজনীতি নিয়ে বেশ সোজাসাপটা উত্তর তমার। তিনি বলেন, ‘আমাদের ইন্ডাস্ট্রির মধ্যেই একটা মানুষের সফলতা আমরা দেখতে পারি না। তাঁকে টেনে নামানোর চেষ্টা করি। আমরাই পলিটিকস করি। আমি চুপ থাকি বলে এই না যে আমি দেখছি না।’

তমা মির্জা। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে.

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

সালাহউদ্দিন সুমনের ক্যামেরায় দুনিয়া দেখতে যেমন 

বাংলাদেশে ভ্রমণবিষয়ক ভিডিও এখন জনপ্রিয় ধারার কনটেন্ট। অনেক ভ্লগার বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ক্যামেরায় বন্দি করছেন প্রকৃতির সৌন্দর্য, তুলে ধরছেন স্থানীয়দের জীবনাচার, জানাচ্ছেন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। ট্রাভেল ভ্লগারদের এই ভিড়ে কিছু মুখ আলাদা করে চোখে পড়ে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একজন হলেন সালাহউদ্দিন সুমন।

ভ্রমণ, ইতিহাস আর মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গল্প যেভাবে তিনি উপস্থাপন করেন, তা তাকে এই প্রজন্মের অন্যতম জনপ্রিয় ভ্রমণ ডকুমেন্টরি নির্মাতা হিসেবে খ্যাতি এনে দিয়েছে।

সাংবাদিকতা ছেড়ে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হয়ে ওঠা 
সুমনের যাত্রা শুরু সাংবাদিকতা দিয়ে। মাঠে-ময়দানে ছুটে বেড়ানো, খবর সংগ্রহ, মানুষের সমস্যার মুখোমুখি হওয়া—এসবই ছিল তার নিত্যদিনের কাজ। এর পাশাপাশি আরেকটি আগ্রহ হৃদয়ে নীরবে জায়গা করে নেয়—দেশের ইতিহাস, অজানা গ্রাম, পুরনো নির্মাণ, নদীপথের গল্প ইত্যাদি।

এই আগ্রহ ধীরে ধীরে এতটাই প্রবল হয়ে ওঠে যে, একসময় মনে হতে থাকে, শুধু টেলিভিশনের খবর তার জন্য যথেষ্ট নয়। তিনি নিজের দেখা, শোনা, অনুভব করা গল্পগুলো সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চান আরো সাবলীলভাবে ও স্বাধীনভাবে। এরই ধারাবাহিকতায় শুরু হয় তার ভ্রমণকেন্দ্রীক কাজ। একপর্যায়ে সাংবাদিকতা ছেড়ে পুরোদমে কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ও সাহসী সিদ্ধান্ত নেন সুমন, যা তাকে মানুষের মনে আলাদা একটি স্থান তৈরি করে দিয়েছে, করে তুলেছে জনপ্রিয়। 

দেখানোর পাশাপাশি জানানো—অন্যরকম দৃষ্টিভঙ্গি
সুমনের ভিডিও দেখলে প্রথমেই চোখে পড়ে তার পর্যবেক্ষণ শক্তি। তিনি কোথাও গেলে কেবল দৃশ্য দেখান না; খুঁজে বের করেন সেই জায়গার পেছনের ইতিহাস, মানুষের জীবনযাত্রা, সময়ের পরিবর্তন আর স্থানটির বিশেষত্ব। একটি ভাঙা মসজিদ বা অবহেলিত শিলালিপিও তার বর্ণনায় নতুন অর্থ পায়। একটি গ্রামের কৃষকের সঙ্গে দুই মিনিটের কথোপকথনেও উঠে আসে জীবনবোধ। সহজ কিন্তু গভীর গল্প বলার ধরনই তাকে আলাদা করেছে অন্যদের থেকে।

দেশকে দেখানোর নতুন আয়োজন
বাংলাদেশে ভ্রমণ মানে অনেকের কাছে শুধু পাহাড়-সমুদ্র—এই সীমাবদ্ধতা সুমন ভেঙেছেন। তিনি তুলে এনেছেন ভুলে যাওয়া মঠ, প্রাচীন নদীঘাট, অপেক্ষাকৃত অজানা দুর্গ, প্রত্যন্ত গ্রামীণ সংস্কৃতি, সীমান্ত অঞ্চলের বহু বর্ণের জীবন। 

অনেক দর্শক মন্তব্য করেন, “জায়গাটার নাম কখনো শুনিনি, সুমনের ভিডিও দেখে প্রথম জানলাম।” এসব তথ্যনির্ভর কনটেন্ট দেশের ভ্রমণপিপাসুদেরকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে।

দেশের বাইরে গিয়ে আরো বিস্তৃত দৃষ্টি
দেশের মতো বিদেশেও তার কাজ সমান মনোযোগ পায়। তিনি এরইমধ্যে কয়েকটি দেশ ঘুরে অসংখ্য ভ্রমণবিষয়ক কন্টেন্ট তৈরি করেছেন। সৌদি আরবে গিয়ে তুলে ধরেছেন ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য, ট্রেনে চেপে নিষিদ্ধ নগরী লাসায় গিয়ে জানিয়েছেন অজানা তথ্য। তিব্বত মালভূমি ভূ-প্রকৃতি কিংবা মঙ্গোলীয়ার বিস্তৃর্ণ তৃণভূমিতে যাযাবরদের জনজীবন তুলে ধরেছেন পরম মমতায়। 

অপরিচিত শহর, ভিন্ন সংস্কৃতি, নতুন মানুষের সঙ্গে আলাপ—সবকিছুর মধ্যেই তিনি খুঁজে নেন অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার দিক।

সুমনের ভিডিওতে শুধু ‘কি সুন্দর’ এটা থাকে না, থাকে ‘মানুষগুলো এমন কেন?’, ‘এ সংস্কৃতির শেকড় কোথায়?’, ‘আমরা এখান থেকে কী শিখতে পারি?। এমন সব মানবিক ও অনুসন্ধানী দৃষ্টিভঙ্গি তাকে অন্যরকম ভ্রমণ-কথ্যকার করে তুলেছে।

জনপ্রিয়তা নয়, আন্তরিকতাই মূল শক্তি
সুমন নিজে খুব সাদামাটা। ক্যামেরার সামনে অতিরঞ্জিত আবেগ দেখান না, নিজের উপস্থিতিকে বড় করে তোলেন না। তার ভিডিওতে জায়গার গুরুত্ব বেশি, নিজের কম। দর্শক তাই খুব সহজেই তার সঙ্গে সংযোগ খুঁজে পান। এই স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতাই তার জনপ্রিয়তার মূল পুঁজি।

স্বীকৃতি ও অর্জন: পরিশ্রমের প্রাপ্য ফল
দীর্ঘদিনের ধৈর্য ও গবেষণাভিত্তিক কনটেন্ট তাকে এনে দিয়েছে স্বীকৃতি। দেশি-বিদেশি প্ল্যাটফর্ম তার কাজকে প্রশংসা করছে। সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিন। তবে, সংখ্যার চেয়ে বড় কথা তিনি এখন দেশের ভ্রমণ-ডকুমেন্টারি ধারাকে আরো সমৃদ্ধ করে তোলার পথিকৃৎদের একজন।

ভ্রমণ থেকে উদ্যোগে
সম্প্রতি সুমন শুধু ভিডিও নির্মাণেই সীমাবদ্ধ নেই। তিনি ভ্রমণেও নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মানুষের সঙ্গে সরাসরি পথচলার অভিজ্ঞতা ভাগ করছেন। এভাবে তার কাজ আরো বাস্তব ও প্রভাবশালী হয়ে উঠছে।

আগামী দিনের দিকনির্দেশনা
সুমনের কনটেন্ট দেখলে মনে হয় এই পথ চলা কেবল শুরু। তার গল্প বলার ধরন, পর্যবেক্ষণশক্তি এবং মানুষের প্রতি টান তাকে আরো বড় পরিসরে নিয়ে যাবে। হতে পারে পূর্ণাঙ্গ ডকুমেন্টারি, বই বা আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সিরিজের দিকে। বাংলাদেশকে নতুনভাবে তুলে ধরার আরো অনেক সুযোগ তার সামনে অপেক্ষা করছে।

আস্থা ও অনুপ্রেরণার এক নাম
সালাহউদ্দিন সুমন শুধু ভ্রমণ ভিডিও নির্মাতা নন; তিনি দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সাধারণ মানুষের গল্পকে নতুনভাবে সামনে আনার একটি নীরব শক্তি। তার কাজ প্রমাণ করেছে— ভ্রমণ শুধু চোখে দেখার বিষয় নয়, মন দিয়ে বোঝার বিষয়ও।

এ কারণেই ভ্রমণপিপাসু ও অনুসন্ধিৎসু মানুষের কাছে এক আস্থা ও অনুপ্রেরণার নাম সালাহউদ্দিন সুমন।

ঢাকা/রফিক

সম্পর্কিত নিবন্ধ