‘শিক্ষকদের কর্মবিরতি সরকারি চাকরি আইনের পরিপন্থী’
Published: 30th, November 2025 GMT
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের লাগাতার কর্মবিরতি সরকারি চাকরি আইন ও সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার পরিপন্থী বলে হুঁশিয়ার করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। অবিলম্বে এ কর্মসূচি থেকে সরে এসে বার্ষিক পরীক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে শিক্ষকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) রাতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ১ ডিসেম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। এমন সময়ে কর্মবিরতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ঝুঁকিতে ফেলবে।
তিন দফা দাবিতে অনড় শিক্ষকরা
তিন দফা দাবিতে গত ২৭ নভেম্বর থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করছেন প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ। তাদের দাবিগুলো হলো—বেতন স্কেলে দশম গ্রেড বাস্তবায়ন, ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড সমস্যার সমাধান এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি।
সরকার আপাতত সহকারী শিক্ষকদের জন্য ১১তম গ্রেডের প্রস্তাব দিয়েছে এবং মন্ত্রণালয়ও সেটিকে ‘যৌক্তিক’ বলে উল্লেখ করেছে।
দাবি বাস্তবায়নে অগ্রগতি দাবি মন্ত্রণালয়ের
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড অনুমোদনের পর সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে ১০ নভেম্বর অর্থ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে। পে-কমিশনে বেতন কাঠামো উন্নয়নের প্রক্রিয়াও চলমান।
উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ করছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
পরীক্ষা বর্জনে বিদ্যালয় পর্যায়ে সতর্কতা
এর আগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরও বার্ষিক পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব জেলা ও বিভাগীয় কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়েছে। পরীক্ষায় কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তার উদাসীনতা পরিলক্ষিত হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি শিক্ষকদের
মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সতর্কতা সত্ত্বেও পরীক্ষা বর্জনে অনড় অবস্থান জানিয়ে প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি দিয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, চলমান পূর্ণ দিবস কর্মবিরতির ধারাবাহিকতায় দাবি না মানা পর্যন্ত বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত দাবি বাস্তবায়ন করে তাদের পরীক্ষার কক্ষে ফেরানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সহকারী শিক্ষকদের দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও পে-কমিশন কাজ করছে এবং প্রতিবেদন পাওয়ামাত্রই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঢাকা/এএএম/রফিক
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ব র ষ ক পর ক ষ শ ক ষকদ র কর মকর ত সহক র সরক র
এছাড়াও পড়ুন:
প্রাথমিক শিক্ষকদের একাংশের বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনের হুমকি, আরেকাংশ পরীক্ষা নেবেন
সহকারী শিক্ষকদের বেতন ‘আপাতত’ ১১তম গ্রেড দেওয়াসহ তিন দফা দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন প্রাথমিক শিক্ষকদের একাংশ। ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’–এর ব্যানারে এ কর্মসূচি চলছে। এই সংগঠনের এক নেতা মোহাম্মদ শাসছুদ্দীন প্রথম আলোকে বলেছেন, আজ রোববারের মধ্যে দাবি পূরণের ব্যবস্থা না করা হলে আগামীকাল সোমবার শুরু হওয়া বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করবেন তাঁরা।
অবশ্য সহকারী শিক্ষকদের আরেকাংশ সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ বার্ষিক পরীক্ষা নেবেন। এই অংশ ২৩ থেকে ২৭ নভেম্বর কর্মবিরতির কর্মসূচি পালন করেছেন। সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি আদায়ে এই অংশ আগামী ১১ ডিসেম্বর থেকে অনশন কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে অপর অংশের দাবি ও কর্মসূচির প্রতি নৈতিক সমর্থন আছে বলে জানিয়েছেন ঐক্য পরিষদের এক নেতা।
প্রসঙ্গত, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মূল বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে আগামীকাল ১ ডিসেম্বর।
সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক কোটির বেশি। শিক্ষক রয়েছেন পৌনে চার লাখের বেশি। সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২১৬টি, বর্তমানে কর্মরত ৩ লাখ ৫২ হাজার ২০৮ জন।
বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেডে আছেন (শুরুর মূল বেতন ১১ হাজার টাকা)। সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১০ম করাসহ তিন দফা দাবি জানিয়ে সহকারী শিক্ষকেরা এ মাসের শুরুতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান ও বিদ্যালয়ে কর্মবিরতি শুরু করেছিলেন।
আন্দোলন চলাকালেই অর্থ বিভাগের সচিব এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে বৈঠকের পর আন্দোলনকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। ওই বৈঠকের পর সরকার থেকে বলা হয়েছিল, সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১১তম করার বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি জাতীয় বেতন কমিশনে পাঠানো হয়েছে, যা বেতন কমিশনের বিবেচনাধীন। কমিশনের সুপারিশ পাওয়ার পর অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে।
আরও পড়ুনসারা জীবন পড়ান, অবসরে এসে নিজের টাকা পেতে ভোগান্তিতে শিক্ষকেরা২৭ নভেম্বর ২০২৫আর শিক্ষকদের ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার জটিলতার বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রস্তাব পাঠালে অর্থ বিভাগ বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। এ ছাড়া শিক্ষকদের শতভাগ পদোন্নতির বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান বিধিমালার আলোকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পদক্ষেপ নেবে। এরপর কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছিলেন শিক্ষকেরা। যদিও এর ভিত্তিতে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা নিয়ে শিক্ষকেরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছিলেন। এখন আবার একাংশ কর্মবিরতি শুরু করেছেন।
আরও পড়ুনপ্রাথমিক শিক্ষকদের একাংশের কর্মবিরতির মধ্যে আজ আরেকাংশেরও শুরু২৭ নভেম্বর ২০২৫