লাহোরে জিততে মার্করামদের লাগবে ২২৬, নোমান–সাজিদদের ৮ উইকেট
Published: 14th, October 2025 GMT
ঘরের মাঠে পাকিস্তানের টেস্ট জয়ের সূত্র এখন একটাই। যত পারো স্পিনারদের হাতে বল তুলে দাও। বাকি কাজটা তারাই করবে। লাহোর টেস্টসহ সর্বশেষ ৫ টেস্টে তো পাকিস্তানের নেওয়া ৯০ উইকেটের ৮৮টিই নিয়েছেন স্পিনাররা। এর মধ্যে এই টেস্টেও স্পিনাররাই দক্ষিণ আফ্রিকার ১২টি উইকেটই নিয়েছেন।
আগামীকালও কাজটা করতে হবে নোমান ও সাজিদকেই। সিরিজের প্রথম টেস্ট জিততে দক্ষিণ আফ্রিকার দরকার ২২৬ রান, পাকিস্তানের ৮ উইকেটে। ২৭৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা আজ তৃতীয় দিন শেষ করেছে ২ উইকেটে ৫১ রান করে।
প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া নোমান তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে ফিরিয়েছেন এইডেন মার্করাম ও উইয়ান মুল্ডারকে। তবে ১৮ রানে দুই উইকেট হারানোর পর অবিচ্ছিন্ন ৩৩ রানের জুটি গড়ে দিন শেষ করেন রায়ান রিকেলটন ও টনি ডি জর্জি। রিকেলটন অপরাজিত ২৯ রানে, ডি জর্জি ১৬ রানে।
পাকিস্তানের দেওয়া লক্ষ্যটা আরও বড়ও হতে পারত। দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার সেনুরান মুতুসামী ও সাইমন হারমারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সেটি আর হয়নি। প্রথম ইনিংসে ৩৭৮ রান করা পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে গেছে ১৬৭ রানে।
ইনিংসের শুরু থেকেই মুতুসামী ও হারমারের তোপে পড়ে পাকিস্তান। দ্বিতীয় ওভারেই হারমারের বলে শূন্য রানে ফেরেন প্রথম ইনিংসে ৯৩ রান করা ইমাম উল হক। প্রথম ইনিংসে ৭৬ রান করা শান মাসুদও ফিরেছেন দ্রুত। ৭ রান করে আউট হয়েছেন হারমারের বলেই।
ওপেনার আবদুল্লাহ শফিক করেন ৪১ রান। তিনি ফেরেন মুতুসামীর ওভারে। বাবর আজম আজ বড় ইনিংসের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। যদিও এমন টার্নিং উইকেটে সেটি কঠিনই ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত বাবর (৪২) আউট হয়েছেন পেসার রাবাদার বলে।
রাবাদা স্পিনিং উইকেটেও দারুণ বোলিং করেছেন। রাবাদার বলে পাকিস্তান ওপেনার শফিকেরই তিনবার ব্যাটের কানায় লেগেছে, তিনবারই সৌভাগ্যক্রমে চার হয়ে গেছে। রাবাদার সৃষ্টি করা চাপ কাজে লাগিয়েই মূলত অন্য পাশে স্পিনাররা উইকেট নিয়েছেন।
প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া মুতাসামী দ্বিতীয় ইনিংসে নিয়েছেন ৫ উইকেট। ক্যারিয়ারে খেলা আগের ৫ টেস্টে ১১ উইকেট নেওয়া মুতুসামী এই ম্যাচেই উইকেট পেয়েছেন ১১টি। হারমার নিয়েছেন ৪ উইকেট।
এর আগে ৮১ রানে দিন শুরু করা টনি ডি জর্জি পেয়েছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। জর্জি প্রথম সেঞ্চুরিটিও করেছিলেন উপমহাদেশে, চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে গত বছর খেলেছিলেন ১৭৭ রানের ইনিংস।
জর্জির এই সেঞ্চুরির পরও অবশ্য পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে বড় লিড পেয়েছে। ৬ উইকেটে ২১৬ রান নিয়ে দিন শুরু করা দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে যায় ২৬৯ রানে। আজ ৪ উইকেট হারিয়ে দলটি যোগ করতে পেরেছে ৫৪ রান।
পাকিস্তানকে প্রথম ইনিংসে ১০৯ রানের লিড উপহার দেন মূলত বাঁহাতি স্পিনার নোমানই। ৬ উইকেট নেন এই বাঁহাতি স্পিনার। টেস্টে এ নিয়ে টানা চার ম্যাচে পাঁচ উইকেট পেয়েছেন নোমান। ঘরের মাঠে এটি নোমানের সপ্তম পাঁচ উইকেট, সব মিলিয়ে নবম।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: প রথম ইন ৬ উইক ট উইক ট ন র ন কর
এছাড়াও পড়ুন:
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনার গ্রিন সিগন্যাল ছিল: কমিশন
বিডিআর বিদ্রোহের নামে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তের জন্য গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন তাদের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছে।
কমিশনের প্রধান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ল ম ফজলুর রহমান ও অন্য সদস্যরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ৩০ নভেম্বর (রবিবার) প্রধান উপদেষ্টার হাতে এই প্রতিবেদন তুলে দেন।
আরো পড়ুন:
খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা
কড়াইল অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা নিশ্চিতের আশ্বাস প্রধান উপদেষ্টার
কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন: অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান বীর প্রতীক, অবসরপ্রাপ্ত মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ যুগ্মসচিব, অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি ড. এম. আকবর আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন।
বাসস লিখেছে, প্রতিবেদন গ্রহণের সময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতি দীর্ঘদিন ধরে অন্ধকারে ছিল। আপনারা সত্য উদ্ঘাটনে যে ভূমিকা রেখেছেন, জাতি তা স্মরণে রাখবে। জাতির পক্ষ থেকে আপনাদের প্রতি ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”
তিনি বলেন, “ইতিহাসের এই ভয়াবহতম ঘটনা নিয়ে জাতির অনেক প্রশ্ন ছিল, এই কাজের মধ্য দিয়ে সেসব প্রশ্নের অবসান ঘটবে।”
এই প্রতিবেদনে শিক্ষণীয় বহু বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, যা জাতির জন্য মূল্যবান সম্পদ হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক ইউনূস।
কমিশন প্রধান ফজলুর রহমান বলেন, “তদন্তকাজ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ত্রুটিমুক্ত করার স্বার্থে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “আমরা যখন কাজ শুরু করি তখন ১৬ বছর আগের এই ঘটনার বহু আলামত ধ্বংস হয়ে গেছে। এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেকে বিদেশে চলে গেছেন।”
ফজলুর রহমান বলেন, “আমরা দুটো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়েছি। সাক্ষীদের ডাকলাম, কারো কারো ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বক্তব্য শুনেছি আমরা; যতক্ষণ তিনি বলতে চেয়েছেন। যারা তদন্তে জড়িত ছিলেন তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের তদন্তের রিপোর্ট কালেক্ট করেছি, অন্যান্য এলিমেন্ট কালেক্ট করেছি।”
তিনি বলেন, “এই তদন্তের মাধ্যমে বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে জনমনে থাকা প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে, উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা হয়েছে- কার কী ভূমিকা ছিল। কেন সেনাবাহিনী দাঁড়িয়ে থাকল; অ্যাকশন নিল না।”
বাসস লিখেছে, তদন্তে বিডিআর হত্যাকাণ্ডে বহিঃশক্তির সরাসরি সম্পৃক্ততা ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সরাসরি জড়িত থাকার শক্তিশালী প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছেন ফজলুর রহমান।
এসময় কমিশনের ফাইন্ডিংস সম্পর্কে জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার বলেন, এই ঘটনার কিছু বাহ্যিক ও প্রকৃত কারণ বের করেছে কমিশন।
তিনি বলেন, “এই হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত এবং এর পেছনে প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছে তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস।”
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের রক্ষা করতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সরাসরি ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য উদ্ধৃত করে জাহাঙ্গীর কবির বলেন, তারা ২০ থেকে ২৫ জনের একটি মিছিল নিয়ে পিলখানায় ঢুকেছে এবং বের হবার সময় সেই মিছিলে দুই শতাধিক মানুষ ছিল।
কমিশন প্রধান বলেন, পুরো ঘটনাটি সংঘটিত করার ক্ষেত্রে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছিল।
তিনি এই ঘটনার দায় নিরূপণের ক্ষেত্রে বলেন, দায় তৎকালীন সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে সেনাপ্রধানেরও রয়েছে। এই ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে সমাধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও র্যাব এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোরও রয়েছে চরম ব্যর্থতা।
ওই ঘটনার সময় কিছু প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং কয়েকজন সাংবাদিকের ভূমিকা ছিল অপেশাদারসুলভ, বলেন জাহাঙ্গীর কবির।
তিনি বলেন, ওই হত্যাকাণ্ডের সময় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন) যেসব বিডিআর সদস্যদের সঙ্গে শেখ হাসিনা বৈঠক করেছেন, তাদের সঠিক নাম, পরিচয় ও তথ্য সংরক্ষণ করা হয়নি।
কমিশন তাদের প্রতিবেদনে বেশকিছু সুপারিশ করেছে, যাতে করে ভবিষ্যতে বাহিনীগুলোতে এই ধরনের ঘটনা এড়ানো যায় এবং এই ঘটনার ভিকটিমরা যেন বিচার পান।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সহকারী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দুল হাফিজ ও স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি।
ঢাকা/রাসেল