ভেনেজুয়েলা ও দেশটির আশপাশের আকাশসীমা ‘সম্পূর্ণ বন্ধ’ বিবেচিত হবে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ঘোষণা দিয়েছেন, তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কারাকাস। দুই দেশের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন।

গতকাল শনিবার বিকেলে এক বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ট্রাম্পের করা ওই মন্তব্য ‘ঔপনিবেশিক হুমকি’র শামিল।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ভেনেজুয়েলা তাদের আকাশসীমার সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করার এ ঔপনিবেশিক হুমকির নিন্দা জানায়। এটি ভেনেজুয়েলার জনগণের বিরুদ্ধে আরেকটি বাড়াবাড়ি রকমের, অবৈধ ও অন্যায্য আগ্রাসন।’

গতকাল সকালে ট্রাম্প তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে লেখেন, ‘সব উড়োজাহাজ সংস্থা, পাইলট, মাদক ব্যবসায়ী ও মানব পাচারকারীর উদ্দেশে বলছি, দয়া করে ভেনেজুয়েলার ওপরের এবং চারপাশের আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ বলে বিবেচনা করুন।’

যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ক্যারিবীয় অঞ্চলে একটি বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন করেছে। মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকটি জাহাজে প্রাণঘাতী বোমা হামলাও চালিয়েছে দেশটি। হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। এটিকে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যেই গতকাল ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণাটি দেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, তারা মাদক পাচার মোকাবিলার অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলাকে লক্ষ্যবস্তু করছে। তবে বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, ওয়াশিংটন মাদুরোকে অবৈধভাবে ক্ষমতা থেকে অপসারণের চেষ্টার ভিত্তি তৈরি করছে।

আরও পড়ুনভেনেজুয়েলাকে ঘিরে নতুন অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র২৩ নভেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ক্যারিবীয় অঞ্চলে একটি বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন করেছে। মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকটি জাহাজে প্রাণঘাতী বোমা হামলাও চালিয়েছে তারা। হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। এটিকে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, তিনি খুব শিগগির ‘স্থলপথে’ ভেনেজুয়েলার মাদক পাচার নেটওয়ার্ককে নিশানা করবেন।

এ সতর্কবার্তার পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে নিকোলা মাদুরো বলেন, ভেনেজুয়েলাবাসীকে কোনোভাবেই ভয় দেখানো যাবে না।

গত আগস্টে মাদুরোকে গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্য দেওয়ার বিনিময়ে পাঁচ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। এটি তাঁর বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন ঘোষিত আগের পুরস্কারের অঙ্কের দ্বিগুণ। চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করে যে তারা ‘কার্টেল দে লস সোলেস’কে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এ সংগঠনের সঙ্গে মাদুরোর সংশ্লিষ্টতা আছে।

গত আগস্টে নিকোলা মাদুরোকে গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্য দেওয়ার বিনিময়ে পাঁচ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। এটি মাদুরোর বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন ঘোষিত আগের পুরস্কারের অঙ্কের দ্বিগুণ। চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করে, তারা ‘কার্টেল দে লস সোলেস’ নামের সংগঠনকে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এ সংগঠনের সঙ্গে মাদুরোর সংশ্লিষ্টতা আছে।

১৯৯০-এর দশকে মাদক পাচার থেকে বিরাট সম্পদশালী হয়ে ওঠা উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের বোঝাতে ভেনেজুয়েলার নাগরিকেরা কার্টেল দে লস সোলেস শব্দটি ব্যবহার শুরু করেন।

এদিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন। শুক্রবার দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, গত সপ্তাহে ট্রাম্প মাদুরোর সঙ্গে কথা বলেছেন। দুই নেতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য একটি বৈঠক নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

এ বিষয়ে অবগত কয়েকজনকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, এ মুহূর্তে এমন কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। তবে যদি বৈঠকটি হয়, তবে এটি হবে মাদুরো ও কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যে প্রথম কোনো সরাসরি বৈঠক।

আরও পড়ুনট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কী কথা হলো ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোর২০ ঘণ্টা আগে.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: য ক তর ষ ট র র র প রস ক র স গঠন

এছাড়াও পড়ুন:

ভেনেজুয়েলার আকাশপথ ‘পুরোপুরিই বন্ধ’ বিবেচনা করা উচিত: ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলা ও এর আশপাশের আকাশপথ ‘পুরোপুরিই বন্ধ’ বিবেচনা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। এতে করে লাতিন আমেরিকার দেশটির বামপন্থী প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের চলমান উত্তেজনা নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

ট্রাম্প পোস্টে লিখেছেন, ‘সব এয়ারলাইনস, পাইলট, মাদক কারবারি এবং মানব পাচারকারীদের প্রতি আহ্বান থাকবে—অনুগ্রহ করে ভেনেজুয়েলার ওপরের এবং আশপাশের আকাশপথকে পুরোপুরিই বন্ধ বলে বিবেচনা করুন।’ কিন্তু এর দ্বারা তিনি কী বুঝিয়েছেন, তা ট্রাম্প ব্যাখ্যা করেননি।

জ্বালানি তেলসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলার ওপর চাপ তৈরি করতে সম্প্রতি ক্যারিবীয় অঞ্চলে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অঞ্চলটিতে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ মোতায়েন করা হয়েছে। এটি বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি।

ওয়াশিংটনের দাবি, মাদকের পাচার ঠেকাতে এই সামরিক শক্তি মোতায়েন করা হয়েছে। কিন্তু কারাকাসের দাবি, মাদুরো সরকারকে উৎখাত করাই ওয়াশিংটন আসল উদ্দেশ্য।

গত সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকে ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ২০টির বেশি ‘মাদকবাহী’ নৌযানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব হামলায় ৮০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এসব নৌযান ভেনেজুয়েলার বলেও দাবি করা হচ্ছে।

কিন্তু এসব নৌযান মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত, যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। তা ছাড়া নৌযানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছিল, এমন কোনো প্রমাণও তারা দিতে পারেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের এসব অভিযান এবং সামরিক শক্তি মোতায়েনের কারণে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

আরও পড়ুনট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কী কথা হলো ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোর১০ ঘণ্টা আগে

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি উড়োজাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষ ভেনেজুয়েলার আকাশসীমায় চলাচলকারী বেসামরিক উড়োজাহাজকে ‘সতর্কতা অবলম্বনের’ নির্দেশ দিয়েছে। কারণ হিসেবে তারা বলেছে, ‘ভেনেজুয়েলা ও আশপাশের অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং সামরিক তৎপরতা বেড়েছে।’

এই সতর্কবার্তার পর দক্ষিণ আমেরিকার আকাশপথে চলাচলকারী ছয়টি বড় এয়ারলাইনস ভেনেজুয়েলাগামী নিজেদের সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে। এয়ারলাইনসগুলো হলো—স্পেনের ইবেরিয়া, পর্তুগালের টিএপি, কলম্বিয়ার অ্যাভিয়াঙ্কা, চিলি ও ব্রাজিলের ল্যাটাম (এলএটিএএম), ব্রাজিলের গোল (জিওএল) এবং তার্কিশ এয়ারলাইনস।

ফ্লাইট স্থগিতে ক্ষুব্ধ কারাকাস এসব এয়ারলাইনসকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ভেনেজুয়েলার অভিযোগ, এসব কোম্পানি ‘মার্কিন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছে।’

শুক্রবার নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নিকোলা মাদুরো ফোনে কথা বলেছেন। দুই নেতা যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য এক বৈঠক নিয়েও আলোচনা করেছেন।

ট্রাম্প-মাদুরো ফোনালাপের খবর প্রকাশের আগের দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, স্থলপথে ভেনেজুয়েলার মাদক পাচার ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগির পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর ওয়াশিংটন-কারাকাস উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

আরও পড়ুনএ দফায় কি টিকতে পারবেন নিকোলা মাদুরো১৩ ঘণ্টা আগে

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • ভেনেজুয়েলার আকাশপথ ‘পুরোপুরিই বন্ধ’ বিবেচনা করা উচিত: ট্রাম্প