সরকারকে টেকসই সমাধান বের করতে হবে
Published: 30th, November 2025 GMT
ভবিষ্যৎ মানবসম্পদ তৈরিতে শিক্ষাকে মেগা প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ করার বিকল্প নেই। অথচ দশকের পর দশক ধরে আমাদের নীতিনির্ধারকদের কাছে শিক্ষা খাত গৌণ বিষয় হিসেবেই থেকে গেছে। এর একটা চাক্ষুষ দৃষ্টান্ত হতে পারে বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের অবসর–সুবিধা পেতে ভোগান্তি বাড়ার ঘটনাটি। শিক্ষকেরা সারা জীবন ধরে পড়ান, সমাজের নানা জায়গায় শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অবদান রাখেন, অথচ অবসরের পর তাঁদেরকেই প্রাপ্য সুবিধার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরতে হয়—এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় আর কী হতে পারে?
প্রথম আলোর খবর জানাচ্ছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মচারীরা দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অবসর ও কল্যাণসুবিধা পান। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী অবসরে যাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে তাঁদের অবসর–সুবিধা পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে এই সুবিধা পেতে তিন–চার বছর সময় লেগে যায়। স্কুলপর্যায়ের ২০২১ সালের আগস্ট পর্যন্ত যেসব শিক্ষক-কর্মচারী আবেদন করেছেন, তাঁরা সুবিধা পেয়েছেন। কলেজ ও মাদ্রাসা পর্যায়ে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে। অবসর–সুবিধার জন্য নিষ্পত্তি না হওয়া আবেদনের সংখ্যা ৬৪ হাজার ৭৭৫। আর কল্যাণ ট্রাস্টের ক্ষেত্রে ৪৪ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর আবেদন অপেক্ষায় আছে। ২০২২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁরাই এখান থেকে টাকা পেয়েছেন।
দেখা যাচ্ছে যে অবসরে যাওয়ার পর অবসর–সুবিধা পেতে শিক্ষকদের তিন–চার বছর পার হয়ে যাচ্ছে। ভারত, শ্রীলঙ্কাসহ দক্ষিণ এশিয়ার বেশির ভাগ দেশের তুলনায় বাংলাদেশে শিক্ষকদের বেতন ও সুযোগ–সুবিধা কম। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অবস্থাটা আরও শোচনীয়। ফলে বেশির ভাগ এমপিওভুক্ত শিক্ষককে নিম্ন বেতনে কষ্ট করেই জীবন চালাতে হয়। অবসরের পর সময়মতো অবসর ভাতা না পাওয়ায় তাঁদের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। নিজের ও পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা, সন্তানদের পড়াশোনা ও বিয়ে, হজ ও অন্যান্য ধর্মীয় ব্রত পালনে তাঁদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতেই জানা যাচ্ছে, অনেক শিক্ষক অবসর–সুবিধার টাকা পাওয়ার আগেই মারা যান।
এই ট্র্যাজিক বাস্তবতা সৃষ্টির কারণ হলো তহবিল–সংকট। শিক্ষা মন্ত্রণালয় অবসর–সুবিধার জন্য ৭ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা ও কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য ২ হাজার ৮১৩ কোটি টাকার তহবিল চেয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, তহবিলের ঘাটতিটা এত বড় অঙ্কের হলো কীভাবে? শিক্ষক–কর্মচারীদের অবসর–সুবিধার টাকাটা কীভাবে আসবে, তার একটা উপায় ঠিক করা আছে। অবসর ও কল্যাণ–সুবিধা মিলিয়ে প্রতি মাসে শিক্ষকদের মূল বেতনের ১০ শতাংশ কেটে রাখা হয়। এ ছাড়া প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১০০ টাকা নেওয়া হয়। বাকি টাকা সরকারের থোক বরাদ্দ ও চাঁদা জমার সুদ থেকে সমন্বয় করে দেওয়া হয়। এর অর্থ হলো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা অবসরের পর যে সুবিধাটা পান, এর বেশির ভাগটাই নিজেদের অর্থ।
শিক্ষকদের অবসর–সুবিধার ক্ষেত্রে তহবিলের যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, সেটা পূরণে অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকার বন্ড করেছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় সেটা অপ্রতুল। শিক্ষকেরা অবসরের পর ছয় মাসের মধ্যেই যাতে তাঁদের প্রাপ্য সুযোগ–সুবিধাগুলো বুঝে পান, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। আমরা আশা করি, অবসরে যাওয়া এমপিওভুক্ত শিক্ষককেরা প্রতিদিন যেসব রূঢ় ও দুঃসহ সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন, সরকার অনুধাবন করে বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক পদক্ষেপ নেবে এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেবে। তবে মাঝেমধ্যে থোক বরাদ্দ এ ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নয়। সরকারকে অবশ্যই টেকসই সমাধান বের করতে হবে।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: দ র অবসর স ব ধ অবসর স ব ধ র অবসর র পর শ ক ষকদ র ব সরক র র জন য কল য ণ তহব ল
এছাড়াও পড়ুন:
ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে কেন দেখা করতে দেননি মুমতাজকে?
গত ২৪ নভেম্বর ৮৯ বছর বয়সে মারা যান বলিউডের বর্ষীয়াণ অভিনেতা ধর্মেন্দ্র। তার আগে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ধর্মেন্দ্র। হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় সহশিল্পী ধর্মেন্দ্রকে দেখতে গিয়েছিলেন বরেণ্য অভিনেত্রী মুমতাজ। কিন্তু ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি তাকে। কেন দেখা করতে পারেননি তা নিয়ে মুখ খুলেছেন মুমতাজ।
টাইমস অব ইন্ডিয়াকে মুমতাজ বলেন, “আমি তাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। কিন্তু স্টাফরা বললেন, ‘তিনি ভেন্টিলেটরে আছেন, কাউকেই দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।’ আমি সেখানে ৩০ মিনিট বসেছিলাম, আশা করছিলাম হয়তো দেখা করতে পারব, কিন্তু পারিনি। শেষ পর্যন্ত দেখা না করেই ফিরে আসি।”
আরো পড়ুন:
স্বামীকে হারিয়ে হেমা বললেন, আমার ব্যক্তিগত ক্ষতি ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব
বিয়ে স্থগিত: স্মৃতির সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ, মুখ খুললেন গায়কের মা
শেষবার ধর্মেন্দ্রকে না দেখতে পেরে কষ্ট ও গভীর হতাশা নিয়ে ফিরেন মুমতাজ। ২০২১ সালে ধর্মেন্দ্রর বাসভবনে শেষ সাক্ষাতের কথা স্মরণ করে এই অভিনেত্রী বলেন, “২০২১ সালে বাসায় গিয়ে আমি তার সঙ্গে শেষবার দেখা করি। খুবই সুন্দর ছিল সেই সাক্ষাৎ। সেটাই ছিল আমাদের শেষ দেখা।”
প্রবীণ এই অভিনেত্রী ধর্মেন্দ্রর পরিবার, বিশেষ করে তার স্ত্রী হেমা মালিনী প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, “আমি তার পরিবার আর হেমাজির জন্য খুব কষ্ট পাচ্ছি। হেমাজি সবসময় তার প্রতি নিবেদিত ছিলেন। নিশ্চয়ই তিনি গভীরভাবে এই শোক অনুভব করছেন। সত্যিই তিনি ধর্মেন্দ্রর প্রেমে পড়েছিলেন।”
ধর্মেন্দ্রর ব্যক্তিত্ব ও কর্মজীবন নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মুমতাজ বলেন, “আমরা কয়েকটি সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করেছি। সবসময়ই দারুণ একজন সহ-অভিনেতা ছিলেন। অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন, তার সোনার মতো হৃদয় ছিল। খুবই মিশুক, বন্ধুসুলভ, সবার সঙ্গে যুক্ত থাকতেন তিনি। শেষ পর্যন্তও মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালোই ছিল। মানুষ তাকে ভালোবাসত, আর সবসময়ই ভালোবাসবে। তিনি ছিলেন একজন কিংবদন্তি, যাকে ভুলে থাকা অসম্ভব।”
ঢাকা/শান্ত