৯ ক্রিকেটারের বিপিএলের নিলাম থেকে বাদ পড়ার ৩ কারণ
Published: 30th, November 2025 GMT
অবশেষে জল্পনাকল্পনা কিছুটা কাটিয়ে উঠেছে এবারের বিপিএল। বিসিবির দুর্নীতি দমন পরামর্শক অ্যালেক্স মার্শালের করা অধিকতর তদন্তের পর গত বিপিএলে ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার সন্দেহে ৯ ক্রিকেটারকে বাদ দিয়ে কাল নিলামের জন্য চূড়ান্ত খেলোয়াড় তালিকা প্রকাশ করেছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। আজ বিকেলে র্যাডিসন হোটেলে হবে দ্বাদশ বিপিএলের নিলাম।
আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মির্জা হুসাইন হায়দারের নেতৃত্বে বিসিবির তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ৯ জন স্থানীয় ও ১ জন বিদেশি ক্রিকেটারকে গত বিপিএলে ফিক্সিংয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে সন্দেহভাজনদের তালিকায় নাম আছে ৬–৭ জন ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্মকর্তা, একজন কোচ ও একজন মিডিয়া ম্যানেজারের। তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্য ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী ড.
চূড়ান্ত নিলাম তালিকায় না থাকা অভিযুক্ত ৯ ক্রিকেটারের মধ্যে প্রাথমিক তালিকায় ছিলেন ৮ জন। তাঁরা হলেন দুর্দান্ত রাজশাহীর এনামুল হক, শফিউল ইসলাম, সানজামুল ইসলাম ও মিজানুর রহমান, ঢাকা ক্যাপিটালসের মোসাদ্দেক হোসেন ও আলাউদ্দিন বাবু এবং সিলেট স্ট্রাইকার্সের আরিফুল হক ও নিহাদুজ্জামান।
আরিফুল প্রথমে প্রাথমিক তালিকায় না থাকলেও পরে তাঁকে ঢোকানো হয়েছিল। এনামুল, মোসাদ্দেক, শফিউল, সানজামুল ও আরিফুল জাতীয় দলে খেলেছেন। জাতীয় দলে খেলা আরেক অভিযুক্ত সিলেট স্ট্রাইকার্সের আল–আমিন হোসেন প্রাথমিক তালিকাতে ছিলেন না, নেই চূড়ান্ত তালিকাতেও।
সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে সন্দেহভাজন ক্রিকেটারদের মধ্যে আরও ছিলেন দুর্দান্ত রাজশাহীর সোহাগ গাজী ও ঢাকা ক্যাপিটালসে খেলা শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার থিসারা পেরেরা। তবে অ্যালেক্স মার্শালের তদন্তে ‘নিষ্কৃতি’ পাওয়ায় তাঁরা দুজনই চূড়ান্ত নিলাম তালিকায় জায়গা পেয়েছেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত হিসেবে এই ১১ ক্রিকেটারের নাম আসার বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছে। এই ১১ ক্রিকেটার এবং কোচ–কর্মকর্তাসহ অভিযোগ আনা হয়েছে মোট ২০ জনের বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুনবিপিএল নিলামের আগে সরাসরি চুক্তি করেছেন যাঁরা১১ ঘণ্টা আগেসূত্র জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ক্রিকেটারদের মধ্যে একজন এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে একই ফ্র্যাঞ্চাইজির দুজন আইসিসির ‘রেড ফ্ল্যাগ’ধারী। অর্থাৎ আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগের তালিকাতেও তাঁরা সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত।
আইসিসির ‘রেড ফ্ল্যাগ’ধারী ক্রিকেটারটি শুধু গত বিপিএলেই নয়, তার আগের বিপিএলেও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড করেছেন। যদিও তদন্ত কমিটিকে ওই ক্রিকেটার বলেছেন, তাঁকে আইসিসি কেন সন্দেহ করে, সেটা নাকি তিনি জানেন না। তিনিসহ সন্দেহভাজন ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ মূলত তিন ধরনের—খেলায় সুনির্দিষ্ট ঘটনা ঘটিয়ে সরাসরি ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকা, ফিক্সিংয়ে সহায়তা করা বা প্রস্তাব দেওয়া ও তথ্য গোপন করা।
‘রেড ফ্ল্যাগ’ধারী দুই কর্মকর্তাসহ আরও চারজন ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্মকর্তা, একজন কোচ, একজন মিডিয়া ম্যানেজার ও বিসিবির দুর্নীতি দমন বিভাগের এক কর্মকর্তার নামও আছে স্বাধীন তদন্ত কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনে। তবে সবার বিরুদ্ধে সরাসরি ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ করেনি কমিটি।
আরও পড়ুনব্যাট–প্যাড কিনতে পেছাচ্ছে বিপিএল২৭ নভেম্বর ২০২৫একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকের বিরুদ্ধে যেমন অভিযোগ সঠিকভাবে ফ্র্যাঞ্চাইজি চালাতে না পারার। তাঁর দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে ফ্র্যাঞ্চাইজির খেলোয়াড় ও অন্য কর্মকর্তারা অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়ানোর সুযোগ পেয়েছেন বলে মনে করে কমিটি।
সন্দেভাজন মিডিয়া ম্যানেজারের বিরুদ্ধেও সরাসরি ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবু তাঁকে নিয়ে সন্দেহের অন্যতম কারণ, প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত এলাকায় বিভিন্ন সময়ে তাঁর অনভিপ্রেত যাতায়াত। এ ছাড়া দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে গত বিপিএলের সময় গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা বিসিবির দুর্নীতি দমন বিভাগের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
তদন্ত কমিটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য কাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আমরা কিছু খেলোয়াড়–কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে তাদের ব্যাপারে অধিকতর তদন্ত প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছি। পরে অ্যালেক্স মার্শালের তদন্তের ভিত্তিতে বিসিবি কিছু ক্রিকেটারকে চূড়ান্ত নিলাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে।’
আরও পড়ুনপ্রমাণ ছাড়াই কি ৭ ক্রিকেটারকে বিপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, কী বলছে বিসিবি১২ ঘণ্টা আগেচূড়ান্ত নিলাম তালিকায় প্রাথমিক তালিকার কিছু ক্রিকেটারকে না রাখার ব্যাখ্যা দিয়ে বিসিবিও কাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কয়েকজন খেলোয়াড়সহ কিছু ব্যক্তিকে এবারের বিপিএলে অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে অন্যান্য ঘরোয়া ক্রিকেটে আপাতত তাঁদের খেলতে বাধা নেই।
খেলোয়াড়দের বাইরে সন্দেহভাজনদের তালিকায় কারা আছেন, তা প্রকাশ না করলেও এবারের আসরে তাঁদের দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না করতে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের জানিয়ে দিয়েছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল।
কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইফতেখার রহমান কাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘যারা রেড ফ্ল্যাগড (সন্দেহভাজন) আছে, তারা দলের সঙ্গে থাকতে পারবে না। না মাঠে থাকতে পারবে, না ড্রেসিংরুমে থাকতে পারবে, না বাসে চড়তে পারবে, না হোটেলে থাকতে পারবে। এটাই নিয়ম, সারা বিশ্বে এইভাবেই ইন্টিগ্রিটি ইউনিট চলে।’
অভিযুক্তরা কী বলেনঅভিযুক্ত ক্রিকেটারদের দাবি, অভিযোগ প্রমাণের আগে নিলামের চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দিয়ে তাঁদের ‘মানহানি’ করা হয়েছে। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে এনামুল প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘একটা প্রতিবেদন দিল আর বাদ দিয়ে দিল! দোষী না, কিন্তু বিপিএল খেলতে দেবে না—এটা কী হলো? কথা শুনে হাস্যকর মনে হচ্ছে।’
শফিউল বলেন, ‘আমি যদি অভিযুক্ত হই আমাকে প্রমাণ দেখাক। মানুষের সামনে প্রমাণ নিয়ে আসুক।’
সানজামুলের কথা, ‘বিসিবির কথা হচ্ছে দোষীও না, আবার দোষী। কী প্রমাণ করল সেটা বুঝলাম না। বলছে সব জায়গায় খেলতে পারব আবার বিপিএল খেলতে পারব না। যতটুকু জানি, যারা সাজাপ্রাপ্ত, তারা সব সময় নিষিদ্ধ থাকে।’
নিহাদুজ্জামান বলেছেন, ‘খুবই অপ্রত্যাশিত এটা। কখনো কল্পনা করিনি।’ নিলাম তালিকা থেকে বাদ পড়া মানতে পারছেন না মিজানুরও, ‘কোনোভাবে মেনে নিতে পারছি না। কী পদক্ষেপ নেব বা কী করব, সেটাও বুঝতে পারছি না।’
মোসাদ্দেক, বাবু, সোহাগ, আল–আমিন ও আরিফুলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।
অভিযুক্তদের প্রতিক্রিয়ার জবাবে গভর্নিং কাউন্সিল সদস্যসচিব ইফতেখারের পাল্টা প্রতিক্রিয়া, ‘রেড ফ্ল্যাগড খেলোয়াড়দের আমরা নিলামের তালিকায় রাখব না, এটা সম্পূর্ণ আমাদের সিদ্ধান্ত। এটার এখতিয়ার আমাদের আছে। আমরা বিপিএল পরিচ্ছন্ন রাখতে চাই।’
আরও পড়ুনবিপিএল নিলামে জায়গা না পাওয়া অভিযুক্ত ক্রিকেটাররা কে কী বলছেন১০ ঘণ্টা আগেউৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ফ র য ঞ চ ইজ কর মকর ত র ক র ক ট রক র ব প এল ত ব প এল ক উন স ল র তদন ত সন দ হ আর ফ ল আইস স সদস য প রথম
এছাড়াও পড়ুন:
দ্বীপের একমাত্র সরকারি কলেজটি চলছে অর্ধেকের কম শিক্ষকে
ছয় তলা নতুন একাডেমিক ভবনে চলছে লিফট স্থাপনের কাজ। রয়েছে বিস্তৃত সবুজ মাঠ আর কোলাহলমুক্ত পরিবেশ। কলেজটির চাকচিক্য দেখে পছন্দ করবেন না এমন মানুষ কমই রয়েছেন। তবে ভেতরের পরিবেশ ভিন্ন। শিক্ষক ও লোকবলসংকটে কলেজটি চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে।
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের সরকারি হাজী আবদুল বাতেন কলেজের চিত্র এটি। এটিই দ্বীপ উপজেলাটির একমাত্র সরকারি কলেজ। সাড়ে ছয় একরের এ ক্যাম্পাসে সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, অধ্যক্ষসহ মাত্র তিনজন শিক্ষক ক্লাস নিচ্ছেন। ছয় তলা ভবনটির নিচতলায় শুধু একজন অফিস সহায়ক ছাড়া আর কেউ নেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেল কলেজটিতে শিক্ষকদের ৫১টি পদের মধ্যে ৩৩টিই শূন্য।
জানতে চাইলে কলেজটির অধ্যক্ষ এস এম আবুল হাশেম বলেন, শিক্ষক সংকট থাকায় তাঁকেও অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হয়। অন্যান্য পদের লোকবলেও রয়েছে চরম সংকট। এর প্রভাব শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলেও দেখা যাচ্ছে।
শিক্ষক সংকট থাকায় পাঠদানে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। সংকট মোকাবিলায় আমরা প্রাতিষ্ঠানিক বেতনে পাঁচজন খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছি। কিন্তু এটি কোনো টেকসই সমাধান নয়। শূন্যপদ পূরণের জন্য বিশেষ চাহিদাও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছি। কিন্তু এখনো কোনো সাড়া পাইনি।এস এম আবুল হাশেম, অধ্যক্ষ, সরকারি হাজী আবদুল বাতেন কলেজ।শিক্ষকের ৫১ পদের ৩৩টিই শূন্যকলেজটিতে শিক্ষার্থী রয়েছে ২ হাজার ৫০০ জন। শিক্ষকদের ৫১টি পদের বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ১৮ জন। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার গিয়ে কলেজটিতে পাওয়া যায় ১১ জনকে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজে চারটি বিষয়ে কোনো শিক্ষক নেই। আর বাকি বিষয়ের শিক্ষকদের অনেকেই নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। এ কারণে পড়াশোনা ব্যাহত হয়।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে কোনো শিক্ষক নেই। এর বাইরে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, শারীরিক শিক্ষা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিক্ষকের পদও খালি। এ ছাড়া বিজ্ঞান বিভাগের রসায়ন, প্রাণিবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা ও গণিতে শিক্ষক থাকার কথা তিনজন করে। তবে এসব বিষয়ে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র একজন করে। বর্তমানে কলেজটির একাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রয়েছেন ৬২ জন। শিক্ষক সংকট থাকায় তাঁদের সবাইকে ভুগতে হচ্ছে।
সংকটের এখানেই শেষ নয়। বাংলায় স্নাতক (অনার্স) কোর্স থাকলেও এটি চলছে মাত্র দুজন প্রভাষক দিয়ে। তাঁরা আবার একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা ক্লাসও করান। আর ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ক্লাস হয় ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক দিয়ে।
জানতে চাইলে কলেজটির অধ্যক্ষ এসএম আবুল হাশেম বলেন, ‘শিক্ষক সংকট থাকায় পাঠদানে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। সংকট মোকাবিলা আমরা প্রাতিষ্ঠানিক বেতনে পাঁচজন খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছি। কিন্তু এটি কোনো টেকসই সমাধান নয়। শূন্যপদ পূরণের জন্য বিশেষ চাহিদাও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছি। কিন্তু এখনো কোনো সাড়া পাইনি।’
লোকবলসংকট, প্রভাব ফলাফলেকলেজটির বিজ্ঞান বিভাগের প্রদর্শক পদের চারটিই শূন্য রয়েছে। এতে ওই বিভাগের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ক্লাস ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া হিসাব রক্ষক, প্রধান সহকারী, গ্রন্থাগারিকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে একজনও নেই। এ কারণে গতি আসছে না প্রশাসনিক কাজেও। কলেজের নথি অনুযায়ী, ২৮টি পদের বিপরীতে মাত্র ১০টিতে জনবল রয়েছে।
লোকবলের এ সংকটের প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ফলেও। কলেজটির চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে কৃতকার্য হয়েছেন মাত্র ৩৬ দশমিক ৬৭ ভাগ শিক্ষার্থী। এ ছাড়া মানবিকে মাত্র ১৫ দশমিক ৫১ ভাগ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২০ দশমিক ২৮ ভাগ শিক্ষার্থী এইচএসসিতে কৃতকার্য হয়েছেন। সন্দ্বীপের অন্য চারটি বেসরকারি কলেজের তুলনায় এ কলেজটিতেই পাসের হার সর্বনিম্ন।
এ কলেজ নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে অভিভাবকদেরও। কলেজটির একাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘সরকারি কলেজে ভর্তি হয়েও ছেলেমেয়েরা এমন ভোগান্তিতে পড়লে, তারা কোথায় যাবে। অবিলম্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এ সংকট দূর করতে হবে।’
জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ) খোদেজা খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সন্দ্বীপসহ দূরের কলেজগুলোতে আমরা যাদের পদায়ন করি, তাঁরা সেখানে থাকতে চান না। তাঁরা নানা ছুঁতোয় অন্যত্র বদলি হয়ে যান। আবার একাধিক শিক্ষক থাকলেও তাঁরা মাসে কেবল দু-এক দিন কলেজে উপস্থিত থাকেন। এমন সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ কী হতে পারে, তা নিয়ে আমরা ভাবছি।’