বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকা রেলওয়ে হাসপাতালগুলো দেশে স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রেলওয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী, তাঁদের পরিবার, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকে এসব হাসপাতাল। যদিও রেলওয়ে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর করুণ দশার বিষয়টি কারও অজানা নয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বেশ কিছু রেলওয়ে হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উদ্যোগ নিলেও আরও হাসপাতাল এর আওতার বাইরে থেকে গেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার বাংলাদেশ রেলওয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মানসম্মত চিকিৎসা পাওয়ার কথা, সেখানে এই কেন্দ্র নিজেই যেন ধুঁকে ধুঁকে চলছে। প্রতিদিন ৭০-৮০ জন রোগী সেবা নিতে এলেও এই চিকিৎসাকেন্দ্রের মূল সমস্যা হলো তীব্র জনবলসংকট। চিকিৎসকের একটি পদ থাকলেও তিনি সপ্তাহে পাঁচ দিন থাকেন ঢাকায়। ফার্মাসিস্ট, ওয়ার্ড অ্যাটেনডেন্ট, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, আয়া, নৈশপ্রহরী, ড্রেসিং কর্মী—প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পদই হয় শূন্য অথবা বছরের পর বছর খালি পড়ে আছে। ড্রেসিং কর্মীর পদ ২০ বছর ধরে শূন্য। ফলে সামান্য কাটাছেঁড়ার মতো জরুরি সেবার জন্যও রোগীদের বাইরে যেতে হচ্ছে। একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী একই সঙ্গে নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালন করছেন। সহকারী সার্জন আঞ্জুমান আরা স্বীকার করেছেন যে জনবলসংকট অত্যন্ত তীব্র এবং নিয়োগের জন্য বারবার চিঠি লেখা হলেও গত কয়েক বছরে কোনো নিয়োগ হয়নি। 

এই চিকিৎসাকেন্দ্রে এক্স-রে বা কোনো ধরনের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা নেই। রোগীর অনুরোধে ব্যবস্থাপত্রে বাইরে থেকে কেনার জন্য ওষুধের নাম লিখে দেওয়া হয়। এতে পরিষ্কার বোঝা যায়, এটি আর চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে না; এটি কার্যত একটি ‘ওষুধ বিতরণ কেন্দ্রে’ পরিণত হয়েছে। রোগনির্ণয়ের ব্যবস্থা না থাকলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ বা ডায়াবেটিসের মতো রোগের সঠিক চিকিৎসা কীভাবে সম্ভব?

১৯৪৭ সালেরও আগে নির্মিত এই হাসপাতালের অবকাঠামো এখন বেহাল। কক্ষগুলোতে তালা ঝুলছে, আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে জায়গাটি জঙ্গলের মতো হয়ে আছে। সেবাপ্রত্যাশী এবং স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের নির্জনতা এবং পরিত্যক্ত কক্ষগুলো মাদকসেবীদের আনাগোনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এভাবে কি একটি হাসপাতাল চলতে পারে?

স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি করতে ১০টি রেলওয়ে হাসপাতাল যৌথভাবে পরিচালনার জন্য সমঝোতা হয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে। এর ফলে সর্বসাধারণও হাসপাতালগুলোতে সেবা নেওয়ার সুযোগ পাবেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যুক্ত হওয়ায় হাসপাতালগুলোর সংকট ধীরে ধীরে কাটবে বলে আশা প্রকাশ করা যাচ্ছে। কিন্তু আখাউড়া হাসপাতালের মতো রেলওয়ের যেসব চিকিৎসাকেন্দ্র এই সমঝোতার আওতার বাইরে, সেসবের কী হবে? এসব চিকিৎসাকেন্দ্র কি বছরের পর বছর ধুঁকতেই থাকবে? এ ব্যাপারে রেল মন্ত্রণালয় কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলেই আমরা আশা করি।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: র পর ব র জন য র লওয র লওয়

এছাড়াও পড়ুন:

স্বাস্থ্যসেবার সংকট নিরসনে পদক্ষেপ জরুরি 

বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকা রেলওয়ে হাসপাতালগুলো দেশে স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রেলওয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী, তাঁদের পরিবার, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকে এসব হাসপাতাল। যদিও রেলওয়ে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর করুণ দশার বিষয়টি কারও অজানা নয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বেশ কিছু রেলওয়ে হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উদ্যোগ নিলেও আরও হাসপাতাল এর আওতার বাইরে থেকে গেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার বাংলাদেশ রেলওয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মানসম্মত চিকিৎসা পাওয়ার কথা, সেখানে এই কেন্দ্র নিজেই যেন ধুঁকে ধুঁকে চলছে। প্রতিদিন ৭০-৮০ জন রোগী সেবা নিতে এলেও এই চিকিৎসাকেন্দ্রের মূল সমস্যা হলো তীব্র জনবলসংকট। চিকিৎসকের একটি পদ থাকলেও তিনি সপ্তাহে পাঁচ দিন থাকেন ঢাকায়। ফার্মাসিস্ট, ওয়ার্ড অ্যাটেনডেন্ট, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, আয়া, নৈশপ্রহরী, ড্রেসিং কর্মী—প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পদই হয় শূন্য অথবা বছরের পর বছর খালি পড়ে আছে। ড্রেসিং কর্মীর পদ ২০ বছর ধরে শূন্য। ফলে সামান্য কাটাছেঁড়ার মতো জরুরি সেবার জন্যও রোগীদের বাইরে যেতে হচ্ছে। একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী একই সঙ্গে নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালন করছেন। সহকারী সার্জন আঞ্জুমান আরা স্বীকার করেছেন যে জনবলসংকট অত্যন্ত তীব্র এবং নিয়োগের জন্য বারবার চিঠি লেখা হলেও গত কয়েক বছরে কোনো নিয়োগ হয়নি। 

এই চিকিৎসাকেন্দ্রে এক্স-রে বা কোনো ধরনের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা নেই। রোগীর অনুরোধে ব্যবস্থাপত্রে বাইরে থেকে কেনার জন্য ওষুধের নাম লিখে দেওয়া হয়। এতে পরিষ্কার বোঝা যায়, এটি আর চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে না; এটি কার্যত একটি ‘ওষুধ বিতরণ কেন্দ্রে’ পরিণত হয়েছে। রোগনির্ণয়ের ব্যবস্থা না থাকলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ বা ডায়াবেটিসের মতো রোগের সঠিক চিকিৎসা কীভাবে সম্ভব?

১৯৪৭ সালেরও আগে নির্মিত এই হাসপাতালের অবকাঠামো এখন বেহাল। কক্ষগুলোতে তালা ঝুলছে, আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে জায়গাটি জঙ্গলের মতো হয়ে আছে। সেবাপ্রত্যাশী এবং স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের নির্জনতা এবং পরিত্যক্ত কক্ষগুলো মাদকসেবীদের আনাগোনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এভাবে কি একটি হাসপাতাল চলতে পারে?

স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি করতে ১০টি রেলওয়ে হাসপাতাল যৌথভাবে পরিচালনার জন্য সমঝোতা হয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে। এর ফলে সর্বসাধারণও হাসপাতালগুলোতে সেবা নেওয়ার সুযোগ পাবেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যুক্ত হওয়ায় হাসপাতালগুলোর সংকট ধীরে ধীরে কাটবে বলে আশা প্রকাশ করা যাচ্ছে। কিন্তু আখাউড়া হাসপাতালের মতো রেলওয়ের যেসব চিকিৎসাকেন্দ্র এই সমঝোতার আওতার বাইরে, সেসবের কী হবে? এসব চিকিৎসাকেন্দ্র কি বছরের পর বছর ধুঁকতেই থাকবে? এ ব্যাপারে রেল মন্ত্রণালয় কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলেই আমরা আশা করি।

সম্পর্কিত নিবন্ধ