প্রতিকূল প্রকৃতির নির্মম ছোবল, বিশুদ্ধ পানির সংকট ও দারিদ্র্য সব মিলিয়ে খুলনার উপকূলীয় প্রান্তিক মানুষের কাছে বেঁচে থাকাই একপ্রকার লড়াই। সেখানে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে ভাবার সুযোগ কই? তার ওপর হাসপাতালে যেতে হলে পড়তে হয় যোগাযোগব্যবস্থার জটিলতায়। এমন বাস্তবতায় চিকিৎসাসেবা তাঁদের কাছে যেন সোনার হরিণ। নিয়মিত লবণপানিতে বসবাসের কারণে সেখানে ত্বকের নানা রোগ নিত্যদিনের সঙ্গী।

এসব মানুষের দোরগোড়ায় ত্বকের চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে চর্মরোগ–বিশেষজ্ঞদের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ একাডেমি অব ডার্মাটোলজি (বিএডি)। বিশ্ব ত্বক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে খুলনার দাকোপ উপজেলার তিনটি দ্বীপ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ এই চিকিৎসা শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে।

চিকিৎসা কার্যক্রমের সমন্বয় করছেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্মরোগ–বিশেষজ্ঞ মো.

ওয়াজেদ আলী মৃধা। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই প্রথম বাংলাদেশ একাডেমি অব ডার্মাটোলজি এমন আয়োজন করেছে। দাকোপের বাজুয়া, কালিনগর ও চালনা—এই তিন এলাকায় চিকিৎসা শিবিরের কার্যক্রম চলছে।
ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে নিয়ে অন্তত এক হাজার মানুষকে বিনা মূল্যে ত্বকের চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। প্রথম দুই শিবিরে দেখা গেছে, এ অঞ্চলের বেশির ভাগ রোগী ছত্রাকজনিত সংক্রমণে ভুগছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উষ্ণতা ও আর্দ্রতা বাড়ছে। ভেজা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি।

আজ রোববার বৃষ্টিবিঘ্নিত দিনে দ্বিতীয় শিবিরের কার্যক্রম চলছে কালিনগর জি সি মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। ২০০৯ সালের মে মাসে ঘূর্ণিঝড় আইলার সময় দুর্বল বেড়িবাঁধ ভেঙে ডুবে গিয়েছিল পুরো কালিনগর। সেই ক্ষত এখনো শুকায়নি। সেখানে চিকিৎসা নিতে এসেছেন গৃহিণী সাহেরা খাতুন (৩৬)। দীর্ঘদিন ধরে একজিমায় ভুগছেন তিনি। দুই হাতের আঙুলে ঘা হয়ে গেছে। সারাক্ষণ যন্ত্রণায় কাঁদেন।

সাহেরা খাতুন বলেন, গ্রামের চিকিৎসকদের কাছ থেকে ওষুধ খেলে কিছুদিন ভালো থাকেন। অনেক ঝাড়ফুঁক করিয়েছেন। কিন্তু কখনো ভালো চিকিৎসক দেখাতে পারেননি। এবার সেই সুযোগ পেলেন। আরেক গৃহিণী শিবানী রায় (৪৭) বলেন, শরীরে দীর্ঘদিন ধরে চুলকানি। পায়ের গোড়ালিও ফেটে থাকে। বড় কোনো চিকিৎসক দেখানো হয়নি কখনো।

চিকিৎসক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিএডির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, এ অঞ্চলের পানি ও মাটির লবণাক্ততায় ত্বকের রোগ দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি ভোগেন নারী ও শিশুরা।

চিকিৎসক দলের সদস্যরা জানান, এখনকার বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দাঁত (ফাঙ্গাল ইনফেকশন), কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস (লবণপানি, কৃষিজমি বা দূষিত মাটি থেকে সৃষ্ট একজিমা), ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, হাত-পায়ে ক্ষত, চুলকানি, মুখের কালো দাগ, খুশকি ও চুল পড়া, শ্বেতীসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগলেও নিয়মিত চিকিৎসাসেবা পান না।

গত ২০ জুন বাজুয়া ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয়ে প্রথম শিবিরে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ একাডেমি অব ডার্মাটোলজির সভাপতি ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ–উপাচার্য শহীদুল্লাহ সিকদার। সেখানে ২৫০ জনের বেশি মানুষ চিকিৎসা নেন। আগামীকাল সোমবার চালনা মহিলা কলেজে হবে তৃতীয় শিবির। অধ্যাপক শহীদুল্লাহ সিকদার বলেন, ‘ত্বক আমাদের শরীরের প্রথম সুরক্ষা স্তর। সুস্থ ত্বক মানেই সুস্থ শরীর। আমরা চাই, ত্বকের যত্ন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ুক। তৃণমূলের মানুষের কাছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পৌঁছাক।’

বিশ্ব ত্বক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে মানুষকে ত্বকের যত্ন সম্পর্কে সচেতন করা এবং সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতেই এই আয়োজন করা হয়েছে।

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: চ ক ৎসক দ ত বক র প রথম

এছাড়াও পড়ুন:

খালেদা জিয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন হলেও স্থিতিশীল, চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুসরণ করতে পারছেন: নাসীরুদ্দীন

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আজ শনিবার সকালে তিনি ও এনসিপির নেতারা খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে দেখতে যান। এরপরে দুপুরে পাটওয়ারী ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানান।

ওই পোস্টে এনসিপির এই নেতা জানান, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হলেও স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি চিকিৎসক ও নার্সদের নির্দেশনা অনুসরণ করতে পারছেন। তিনি খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য সবাইকে দোয়া করতে আহ্বান জানান।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ফেসবুকে দেওয়া পোস্টটি নিচে দেওয়া হলো।

‘বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হলেও স্থিতিশীল রয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, তিনি চিকিৎসক ও নার্সদের নির্দেশনা অনুসরণ করতে পারছেন। এই কঠিন সময়ে আমরা সবার কাছে বিনীত অনুরোধ করছি, তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া করুন। আপনাদের আন্তরিক দোয়া-ই এই মুহূর্তে তাঁর সর্বাধিক শক্তি ও সমর্থন।’

খালেদা জিয়া ফুসফুসে সংক্রমণ থেকে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এরপর দেখা দেয় নিউমোনিয়া। এর সঙ্গে রয়েছে কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসের পুরোনো সমস্যা। ফলে পরিস্থিতি এমন, একটি রোগের চিকিৎসা দিতে গেলে আরেকটির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

আরও পড়ুনদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়: তারেক রহমান৪ ঘণ্টা আগে

এমন পরিস্থিতিতে গতকাল শুক্রবার খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থাকে ‘অত্যন্ত সংকটময়’ বলেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির নেতারা বলছেন, গত দুই দিনে তাঁর অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। চিকিৎসকেরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্ভব হলে দ্রুত সিঙ্গাপুরে নেওয়ার বিষয়ে চিন্তা করছেন।

আরও পড়ুনখালেদা জিয়াকে দেখতে গেলেন এনসিপি ও হেফাজত নেতারা ১ ঘণ্টা আগে

এদিকে খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। তাঁর সুস্থতা কামনা করে গতকাল সারা দেশে মসজিদে মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত করেছে বিএনপি।

আরও পড়ুনখালেদা জিয়ার অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’ ১০ ঘণ্টা আগে

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • রশু’র ২য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধাঞ্জলি
  • খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় মন্দিরে প্রার্থনা
  • সারা দেশে ‘রোড শো’ করবে বিএনপি, ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ
  • খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে পরিবারের: মাহদী আমিন
  • হাসপাতালে গিয়ে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন স্বরাষ্ট্র উপ
  • খালেদা জিয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন হলেও স্থিতিশীল, চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুসরণ করতে পারছেন: নাসীরুদ্দীন
  • খালেদা জিয়া আমাদের চিনতে পেরেছেন, তবে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল নয়: মির্জা আব্বাস
  • সিরামিক এক্সপো উপলক্ষে ডিবিএলের সৌজন্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ