এস আলম গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তির নামে থাকা ৫৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন আজ বুধবার এ আদেশ দেন।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, এস আলম ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৩৩টি হিসাব, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের দুটি হিসাব ও ইসলামী ব্যাংকের ১৮টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আবেদন করে দুদক। শুনানি নিয়ে আদালত এসব ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন।

এর আগে গত ২৪ জুন এস আলম ও তাঁর স্ত্রীর নামে বিদেশে থাকা স্থাবর–অস্থাবর সম্পদ ক্রোকের আদেশ দেন আদালত। ১৭ জুন এস আলম ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তির নামে থাকা আরও ১৮০ কোটি টাকা মূল্যের জমি ক্রোকের আদেশ দেন আদালত।

গত ২৭ এপ্রিল এস আলম ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তির নামে থাকা আরও ৫৫৯ কোটি টাকা মূল্যের জমি ক্রোকের আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। ২৩ এপ্রিল এস আলম ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তির নামে থাকা আরও জমি ক্রোকের আদেশ দেওয়া হয়।

৯ এপ্রিল এস আলম গ্রুপের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আরও ৬৬টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন আদালত। এসব ব্যাংক হিসাবে জমা থাকা অর্থের পরিমাণ ১ হাজার ৩৭৪ কোটি ৬১ লাখ ৭ হাজার ২২১ টাকা।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এস আলম ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তির নামে থাকা ৮ হাজার ১৩৩ কোটি টাকার শেয়ার অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। তিন দফায় এস আলম ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তির নামে থাকা ১৬ হাজার কোটি টাকা মূল্যের শেয়ার অবরুদ্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়।

গত ১৪ জানুয়ারি এস আলম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে রাজধানীর গুলশান, ধানমন্ডি, উত্তরা, বসুন্ধরাসহ বিভিন্ন জায়গায় থাকা জমি, ফ্ল্যাট, প্লট, ভবনসহ ২০০ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের ৬৮টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করারও আদেশ দেন আদালত।

এ ছাড়া গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর এস আলম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ১২৫টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।

দুদকের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে আদালতকে বলা হয়েছিল, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে সিঙ্গাপুর, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, সাইপ্রাস ও অন্যান্য দেশে ১০০ কোটি ডলার পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান করছে দুদক।

গত বছরের ৭ অক্টোবর এস আলম, তাঁর স্ত্রী, সন্তান, ভাইসহ ১৩ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: এস আলম ও ত

এছাড়াও পড়ুন:

ধানমন্ডিতে মিছিলের চেষ্টা, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাসহ আটক ২

রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় মিছিলের চেষ্টার সময় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের দুই নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। আজ রোববার সন্ধ্যায় তাঁদের আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, ধানমন্ডির কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের সামনে মিছিলের চেষ্টার সময় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতাসহ দুজনকে আটক করেন স্থানীয় লোকজন। পরে তাঁদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাঁরা হলেন মিলন খান (৩০) ও শওকত হোসেন ওরফে বাবু (৩২)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আটক মিলন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ধানমন্ডি অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) জিসানুল হক প্রথম আলোকে বলেন, আটক শওকতের মোবাইলে বাসে অগ্নিসংযোগ করে নিজের ধারণ করা ভিডিও পাওয়া গেছে। তিনি হাজারীবাগ থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক।

সম্পর্কিত নিবন্ধ