‘জালিবি’ অভিনেত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, ময়নাতদন্তে উঠে এল ভয়াবহ চিত্র
Published: 12th, July 2025 GMT
গত মঙ্গলবার পাকিস্তানি অভিনেত্রী ও মডেল হুমাইরা আসগর আলির মরদেহ ৯ মাস পর করাচির এক অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উদ্ধার হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভয়াবহ ও গা শিউরে ওঠা নানা তথ্য—তাঁর দেহ ছিল পচে নষ্ট হওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কালো হয়ে গিয়েছিল, মুখমণ্ডল অচেনা হয়ে গিয়েছিল এবং দেহের চারপাশে ছিল পোকামাকড়ের উপস্থিতি।
বাড়িওয়ালার অভিযোগেই খোঁজ মেলে
পাকিস্তানের গণমাধ্যম জিও নিউজ জানায়, হুমাইরার মরদেহ করাচির অভিজাত এক অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উদ্ধার করে পুলিশ ও আদালতের নিযুক্ত প্রতিনিধি। ফ্ল্যাট খালি করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, ভেতরে পড়ে আছে একটি সম্পূর্ণ পচে যাওয়া দেহ। এ ঘটনায় শোক ও বিস্ময় ছড়িয়েছে পাকিস্তানের বিনোদন অঙ্গনে।
পুলিশ জানায়, বাড়িওয়ালার অভিযোগ ছিল—হুমাইরা কয়েক মাস ধরে ভাড়া দেননি এবং যোগাযোগবিচ্ছিন্ন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালতের আদেশে ফ্ল্যাটে ঢুকে তারা মরদেহ খুঁজে পায়। যদিও শুরুতে খবর ছড়িয়েছিল, নিয়মিত ভাড়া দিতেন অভিনেত্রী।
মরদেহের ভয়াবহ অবস্থা
ময়নাতদন্তে বলা হয়েছে, হুমাইরার দেহ ছিল ‘অগ্রসর পচনের স্তরে’। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা জানান, শরীরের প্রধান অঙ্গগুলো ছিল অচেনা রূপে এবং মুখমণ্ডলের কোনো বৈশিষ্ট্য বোঝার উপায় ছিল না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘শরীরের বেশির ভাগ অংশে পেশি ছিল না। হাড় স্পর্শ করলেই ভেঙে যাচ্ছিল। মস্তিষ্ক পুরোপুরি পচে গিয়ে দেহের অভ্যন্তরে একটি কালো জৈব পদার্থে পরিণত হয়েছিল।’ আরও উল্লেখ করা হয়, হাড়ে কোনো ভাঙা বা ক্ষতের চিহ্ন নেই, তবে জয়েন্টের কার্টিলেজও ছিল না।
মডেল ও অভিনেত্রী হুমাইরা আসগর। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: মরদ হ
এছাড়াও পড়ুন:
গোপালগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু
গোপালগঞ্জে কথা বিশ্বাস (১৫) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিজ বাড়ির ঘরের ভেতর থেকে ওই তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। পুলিশ বলেছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা সম্ভব নয়।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) ভোর রাত ৩টার দিকে জেলা শহরের মোহাম্মদপাড়া কমিশনার রোডে এ ঘটনা ঘটে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত তরুণী কথা বিশ্বাস জেলা শহরের মোহাম্মদপাড়া কমিশনার রোডে প্রভাত বিশ্বাসের মেয়ে ও প্রিন্স বৈদ্যের স্ত্রী।
ওসি মো. শাহ আলম জানান, ভোরে নিজ ঘরের আড়ার সাথে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় কথাকে দেখতে পায় স্বামী প্রিন্স বৈদ্য। এসময় তিনি চিৎকার দিলে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এসে কথাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরো জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশকে জানালে সদর থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদেন্তর জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত নয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং স্বজন ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলেও জানান ওসি।
নিহত কথার পরিবার জানায়, কথার স্বামী প্রিন্স একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। মাত্র চার মাস আগে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ ও বিবাদ চলছিল।
ঢাকা/বাদল/এস