৬ লাখ মানুষকে স্বস্তি দিতে সন্দ্বীপ ও সীতাকুণ্ড ঘিরে ৮৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এই প্রকল্পে রয়েছে সন্দ্বীপের সাড়ে চার লাখ মানুষের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য আধুনিক ও স্থায়ী শক্তিশালী জেটিঘাট নির্মাণ, বাঁশবাড়িয়া থেকে কুমিরা পর্যন্ত সুপার ড্রাইক বেড়িবাঁধ, বাঁশবাড়িয়া থেকে কুমিরা পর্যন্ত সাগর পাড়ে পর্যটনকেন্দ্র ও বেড়িবাঁধের ওপর ১৬ ফুট প্রস্ত টেকসই সড়ক, যেটি যুক্ত হবে এশিয়ান হাইওয়েতে।

২০২৬ সালের বর্ষার আগেই টেকসই জেটিঘাট নির্মাণে চলছে জোর তৎপরতা। ২০২৮ সালের মধ্যে তিন ধাপে ৪ কিলোমিটার সুপার ড্রাইক বেড়িবাঁধ কাম পর্যটনকেন্দ্র করার চেষ্টাও চলছে। 

পাউবো চট্টগ্রাম বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) ড.

তানজির সাইফ আহমেদ বলেন, ‘সাগরপথে সন্দ্বীপ উপজেলার ৪ থেকে ৫ লাখ মানুষের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য আধুনিক, স্থায়ী টেকসই জেটিঘাট ও সড়কের কাজটি আগামী বছরের (২০২৬ সাল) বর্ষার আগেই শেষ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়ে এগুচ্ছি আমরা। এ জন্য ৫৬৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু প্রকল্পটি মিরসরাই ইকোনমিক জোনের পাশে সাগর পাড়ে যে সুপার ড্রাইক বেড়িবাঁধ কাম সড়ক করা হয়েছে, সেটার আদলে তৈরি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই হিসাবে প্রকল্পটির ব্যয় ৮৫০ কোটি টাকায় বেড়ে দাঁড়াতে পারে।’ 

এক প্রশ্নের জবাবে প্রকৌশলী ড. তানজির বলেন, ‘চারদিকে ব্লক দিয়ে বাঁশবাড়িয়া জেটিঘাটটি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছি। এখন ঘাটে দুটি জেটি রয়েছে। একটি লো-ওয়াটার জেটি আরেকটি মিড-ওয়াটার জেটি। আমরা একটি হাইলেভেল ওয়াটার জেটি করব। জেটিতে আসা-যাওয়ার জন্য তৈরি করা ৬০০ মিটার সড়কটি সাগরের হাইলেভেল পানির উচ্চতা থেকে উঁচু করা হবে। সড়কের উভয় পাশে ব্লক দিয়ে মজবুত ও শক্তিশালী নিরাপত্তা প্রাচীর গড়ে তোলা হবে।’

পাউবো সূত্র জানায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট ও বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট থেকে কুমিরা ঘাট পর্যন্ত উপকূলীয় বাঁধের শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের মধ্যে ৩ দশমিক ৪৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ শক্তিশালীকরণে ২৯৩ কোটি টাকা, জেটি শক্তিশালীকরণ ও ৬০০ মিটার সড়ক নির্মাণে ১৭৯ কোটি টাকা, ৪টি পানি নিয়ন্ত্রণ রেগুলেটর আধুনিকায়নে ৮৮ কোটি টাকা এবং অন্যান্য ব্যয়সহ ৫৬৮ কোটি ১৭ লাখ টাকার একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয় থেকে একটি উচ্চ পর্যায়ের দল সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রকল্পটি মিরসরাই ইকোনমিক জোনের পাশে সুপার ড্রাইকের আদলে করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর নতুন করে তৈরি করা প্রকল্পে বাঁশবাড়িয়া জেরিঘাট থেকে কুমিরা ঘাট পর্যন্ত উপকূলীয় বাঁধের শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে ৮৫০ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ধরা হয় ২০২৫ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত। এর মধ্যে বাঁশবাড়িয়া জেটিঘাটের ৫৯০ মিটার দীর্ঘ অ্যাপ্রোচ সড়কের দুই পাশে শক্তিশালীকরণ ও টেকসই প্রতিরক্ষা কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সন্দ্বীপে সরকারি উদ্যোগে চালু হওয়া ফেরি সার্ভিসের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হবে। 

এ ছাড়া কুমিরাঘাট থেকে বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট পর্যন্ত উপকূলীয় বাঁধের কাঠামোগত উন্নয়ন ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে টেকসই এবং নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সংস্থাটির মূল উদ্দেশ্য। উপকূলীয় জনপদে জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়ন ও সুরক্ষা প্রদান করা, সন্দ্বীপ ও মূল ভূখণ্ডের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা ও পযর্টনের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে পাউবো। 

প্রকল্পের আওতায় সীতাকুণ্ডের আকিলপুর থেকে বাঁশবাড়িয়া ৩ দশমিক ৪৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সুপার ড্রাইক বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। বাঁধটির উচ্চতা হবে ৯ মিটার। এখন এ বাঁধের উচ্চতা সাড়ে ছয় মিটার রয়েছে। ১০০ পরিকল্পনা মাথায় রেখে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।  

নির্বাহী প্রকৌশলী ড. তানজির বলেন, ‘আমরা উপকূলে যে বেড়িবাঁধের ওপর সড়ক তৈরি করছি তা ভবিষ্যতে এশিয়ান হাইওয়েতে যুক্ত হবে। আমরা সেটি মাথায় রেখেই পরিকল্পনা, সড়ক ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়ন করছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঘূর্ণিঝড়, জলাচ্ছ্বাস এবং চ্যানেলে গতিশীল পরিবতনের কারণে প্রায়ই ভাঙন ও প্লাবনের সম্মুখীন হচ্ছে উপকূলীয় অঞ্চল। এতে স্থানীয় জনজীবন, কৃষি, অবকাঠামো ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে। সময়ের সঙ্গে পুরোনো বাঁধের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা মহোদয় বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট এলাকাটি ভাঙন ঝুঁকির মধ্যে থাকায় তা রক্ষায় দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন।

মিরসরাইয়ের বাসিন্দা প্রকৌশলী শফিকুর রহমান বলেন, ‘মিরসরাই ইকোনমিক জোন ঘিরে সুপার ড্রাইক বেধিবাঁধ ঘিরে এখন সাগর পাড়ে নতুন পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠেছে। ওখানে প্রতিদিনই শত শত ভ্রমণপিপাসু মানুষ একটু সময় কাটাতে ঘুরতে যাচ্ছেন। সীতাকুণ্ড ঘিরে এ ধরণের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে উপকূলের প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষার পাশাপাশি সাগরপাড়ে বিনোদনকেন্দ্র তৈরি হবে। এ ধরণের প্রকল্প হলে সাধারণ মানুষের বহুমুখী কল্যাণ নিশ্চিত হবে।’

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: উপক ল য় ম রসর ই ট কসই

এছাড়াও পড়ুন:

ধানমন্ডিতে মিছিলের চেষ্টা, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাসহ আটক ২

রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় মিছিলের চেষ্টার সময় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের দুই নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। আজ রোববার সন্ধ্যায় তাঁদের আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, ধানমন্ডির কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের সামনে মিছিলের চেষ্টার সময় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতাসহ দুজনকে আটক করেন স্থানীয় লোকজন। পরে তাঁদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাঁরা হলেন মিলন খান (৩০) ও শওকত হোসেন ওরফে বাবু (৩২)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আটক মিলন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ধানমন্ডি অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) জিসানুল হক প্রথম আলোকে বলেন, আটক শওকতের মোবাইলে বাসে অগ্নিসংযোগ করে নিজের ধারণ করা ভিডিও পাওয়া গেছে। তিনি হাজারীবাগ থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক।

সম্পর্কিত নিবন্ধ