উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোর মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে সাম্প্রতিক ভয়াবহ মৌসুমি ঝড়ে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে এখনও জরুরি অবস্থা জারি রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্য মেক্সিকো ও পূর্ব উপকূলরেখা জুড়ে পাঁচটি রাজ্য সপ্তাহান্তের তীব্র বৃষ্টিপাত ও বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় ৭৫ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

উপসাগরীয় উপকূলীয় রাজ্য ভেরাক্রুজ ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজ্য কর্তৃপক্ষ ৩০ জনের মৃত্যু এবং ১৮ জনের নিখোঁজ থাকার খবর জানিয়েছে।

মধ্য মেক্সিকোর হিডালগো রাজ্যে ২১ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি ৫০ জন নিখোঁজ রয়েছে। এ রাজ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। 

পুয়েবলা রাজ্য কর্তৃপক্ষ ১৪ জনের মৃত্যু ও সাতজন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে, কুয়েরেতারো কর্তৃপক্ষ একজনের হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সান লুইস পোটোসি রাজ্যে কোনো মৃত্যু বা নিখোঁজ ব্যক্তির খবর পাওয়া যায়নি, তবে অবকাঠামো ও ঘরবাড়ির উল্লেখযোগ্য ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

ফেডারেল সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করার জন্য সামরিক কর্মী মোতায়েন করেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা করা হয়েছে।

সরকারি ও বেসামরিক সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তা পৌছেঁ দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে, যার মধ্যে ১৯টি বিচ্ছিন্ন সম্প্রদায়ও রয়েছে যারা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

মানবিক সংকটের মধ্যে, অপ্রত্যাশিত মহল থেকে সহায়তা এসেছে। মেক্সিকোর সবচেয়ে সহিংস ও কুখ্যাত মাদক পাচারকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে একটি- জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল (সিজেএনজি)-কে ত্রাণ বিতরণ করতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওগুলোতে গ্যাং সদস্যদেরকে কৌশলগত পোশাক ও অস্ত্র হাতে ত্রাণ বিতরণ করতে দেখা গেছে। 

তবে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম বুধবার (১৫ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে ভিডিওগুলোর সত্যতা অস্বীকার করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামরিক বাহিনীর ত্রাণ বিতরণের ছবি শেয়ার করেছেন।

ঢাকা/ফিরোজ

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর জন র ম ত য

এছাড়াও পড়ুন:

শ্রীলঙ্কায় বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১২৩

শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়া-এর প্রভাবে সৃষ্ট ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২৩ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আরো ১৩০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) আজ শনিবার এই তথ্য জানিয়েছে। খবর আল জাজিরার। 

ডিএমসি জানিয়েছে, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে দেশজুড়ে প্রায় ১৫ হাজার বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে, প্রায় ৪৪ হাজার মানুষকে রাষ্ট্রীয় অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।

আরো পড়ুন:

ম্যাচ চলাকালেই মারা গেলেন ভেল্লালাগের বাবা

পরাজয়ের মিছিল পেরিয়ে জয়ের অমৃত স্বাদ

যদিও ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়া শনিবার উত্তরে প্রতিবেশী ভারতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, তবুও রাজধানী কলম্বো থেকে ১১৫ কিলোমিটার (৭০ মাইল) পূর্বে ক্যান্ডির কেন্দ্রীয় জেলায় আরো ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এখানকার বেশ কয়েকটি এলাকার প্রধান সড়ক বন্যার পানিতে ডুবে রয়েছে।

ডিএমসির মহাপরিচালক সম্পথ কোতুওয়েগোদা জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর হাজার হাজার সদস্য মোতায়েন করে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

কোতুওয়েগোদা কলোম্বোতে সাংবাদিকদের বলেন, “সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তায় ত্রাণ কার্যক্রম চলছে।”

শ্রীলঙ্কা রেড ক্রস সোসাইটির মহাসচিব মহেশ গুণাসেকারা বলেছেন, বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকায় অনেক মানুষ আটকা পড়েছে। উদ্ধারকারী দল তাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

তিনি আরো বলেন, “যদিও ঘূর্ণিঝড়টি ধীরে ধীরে দেশ থেকে সরে যাচ্ছে, তবুও আমাদের জন্য এখনও এটি শেষ হয়নি।” 

বন্যার কারণে কর্তৃপক্ষ কলম্বো থেকে ভারত মহাসাগরে প্রবাহিত কেলানি নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের জন্য সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে। ডিএমসি জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় কেলানি নদীর পানি বেড়ে গেছে। ফলে শত শত মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হয়েছে।

শ্রীলঙ্কান সরকার আন্তর্জাতিক সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া প্রায় পাঁচ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা করার জন্য প্রবাসী শ্রীলঙ্কানদেরকে নগদ অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী হারিনি আমারাসেকারা কলম্বোভিত্তিক কূটনীতিকদেরকে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন এবং তাদের সরকারের সাহায্য চেয়েছেন।

ভারত ইতিমধ্যে দুটি বিমান ভর্তি ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে। এছাড়াও কলম্বোতে শুভেচ্ছা সফরে থাকা ভারতীয় একটি যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের জন্য তাদের রেশন দান করেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শ্রীলঙ্কায় নিহতদের জন্য শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নয়াদিল্লি আরও সাহায্য পাঠাতে প্রস্তুত।

শনিবার শ্রীলঙ্কার রাজধানীসহ বেশিরভাগ অংশে বৃষ্টিপাত কমে গেছে। তবে ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়ার প্রভাবের কারণে দ্বীপের উত্তরের কিছু অংশে এখনও বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

এর আগে শুক্রবার দেশটির সরকারি অফিস ও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া শতাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রবল দুর্যোগের কারণে দেশের কিছু অঞ্চলে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

গত সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও ভারি বৃষ্টিতে সার্বিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। হঠাৎ বৃষ্টিপাতে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও সড়ক পানিতে ডুবে যায়। নদী ও জলাধার থেকে পানি উপচে পড়ায় আন্তঃজেলার বেশ কিছু সড়ক বন্ধ হয়ে যায়।

ঢাকা/ফিরোজ

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • আইপিএলকে বিদায় জানালেন আন্দ্রে রাসেল, ফিরছেন নতুন ভূমিকায়
  • শ্রীলঙ্কায় বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১২৩