ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে রশিদের মতো স্পিনার না থাকা স্বস্তিদায়ক: লিপু
Published: 16th, October 2025 GMT
তিন ম্যাচ সিরিজে রশিদ খান কখনো ৯ উইকেটের বেশি পাননি। সবশেষ বাংলাদেশের বিপক্ষে ১১ উইকেট নিয়ে নিজের অতীতের রেকর্ড ভেঙেছেন। তা-ও সবচেয়ে কম বল করে। ১৪৭ বল হাত ঘুরিয়ে ২.৭৩ ইকোনমিতে এই সাফল্য পেয়েছেন। তার গুগলি কিংবা লেগ, আর্মার কিংবা স্লো বল মিরাজ, সাইফ, তাওহীদ, জাকির, সোহানদের কাছে ছিল দুর্বোধ্য।
তিন ওয়ানডের একটিতেও বাংলাদেশ পুরো ৫০ ওভার ব্যাটিং করতে পারেনি। বৈচিত্র্যময় এই স্পিনার বরাবরই বাংলাদেশের জন্য হুমকি ছিলেন। আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে রশিদ মানের কোনো স্পিনার না থাকায় হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘‘আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আমাদের পারফরমেন্স (ওয়ানডে) আমাদের নিকট অতীতের সাফল্যকেও অ্যাবসলিউটলি ভেস্তে দিয়েছে। এমন একটা পারফরমেন্স আমরা যারা ক্রিকেট দেখি, ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত, ইভেন যারা খেলে, আমার মনে হয় কেউই আশা করেনি যে এরকম একটা রেজাল্ট হতে পারে। তবে এটা ঠিক, এটা একদম এক্সপোজড হয়েছে আমাদের দুর্বলতা, আমাদের ব্যাটিং এর দুর্বলতাগুলো স্পেশালি ফুটে উঠেছে। সেগুলোকে আমাদের ডেফিনেটলি যত দ্রুত সম্ভব তা ওভারকাম করতে হবে।’’
আরো পড়ুন:
অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৯ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টস জিতে ব্যাট করছে বাংলাদেশ
৫০ ওভারের ম্যাচে পুরোটা সময় ব্যাটিং করতে না পারার আক্ষেপ ঝরল তার কণ্ঠে, ‘‘যে কষ্টটা বয়ে বেড়াতে হচ্ছে প্লেয়ারদেরকে এখন, স্পেশালি যে এরকম একটা পরাজয় আমরা এত অল্প সময়ে পিচে কাটিয়েছি। আমরা নিয়মিতভাবে ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারছি না এবং এখন এই আফগানিস্তানের সঙ্গে তো একদমই হাফ অফ দা কোটাও আমরা ঠিকভাবে খেলতে পারিনি।’’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটি শনিবার মাঠে গড়াবে। মিরপুরেই আরো দুটি ওয়ানডে খেলবে দুই দল। রশিদ খানের মতো বোলার না থাকা বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির জানিয়ে গাজী আশরাফ হোসেন বলেছেন, ‘‘আমাদের প্রতিপক্ষ এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আমরা আবুধাবি সেই পিচেও খেলছি না। হোমের নিজের মিরপুরের উইকেটে খেলছি এবং প্রতিপক্ষেও রশিদদের মতো কিংবা অন্যান্য যে স্পিনার যারা ছিল অত্যন্ত উচ্চমানের, সেরকম স্পিনারদেরও মুখোমুখি করা হতে হচ্ছে না। এটা আমাদের জন্য একটা কিছুটা রিলিফের পয়েন্ট।’’
আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশের ধকল সামলানোর সুযোগ পাচ্ছে না দল। খুব দ্রুতই তাদেরকে মাঠে নামতে হচ্ছে, যা চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করছেন লিপু, ‘‘এটা (হারের কষ্ট) বুকে বয়ে নিয়ে বেড়ানোটা অত্যন্ত কঠিন একটা খেলোয়াড়ের জন্য এবং শারীরিক এবং মানসিক ক্লান্তিতে সম্পূর্ণ আচ্ছন্ন আছে প্লেয়াররা। এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। তবে এই দ্রুত মাঠে ফেরত আসা যেমন বেশ চ্যালেঞ্জিং যে আপনার এরকম একটা মাইন্ডসেটআপ থেকে, বিধ্বস্ত অবস্থা থেকে মাঠে ফেরত আসা, ঠিক একইভাবে আমি মনে করছি করি যে দ্রুত সফলতার মুখ দেখে, ভালো ক্রিকেট খেলে, আমার মনে হয় যে যে গ্লানিটা আমরা আফগানিস্তানের সঙ্গে করেছি, ব্যাটিং স্পেশালি, সেটা থেকে আমরা নিজেদেরকে রিকভার করে একটা সফলতার জায়গায় নিয়ে আসতে পারবো বলে আমি মনে করি।’’
ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর উইন ড জ ক র ক ট আফগ ন স ত ন র স ট ইন ড জ আম দ র
এছাড়াও পড়ুন:
ধরন বুঝে কেন টিভি কেনা জরুরি
ঘরে আর যা-ই থাকুক না কেন, একটি টেলিভিশন না থাকলে কি চলে? যতই আমরা আজকাল মোবাইল ফোন কিংবা ল্যাপটপে সিরিজ বা সিনেমা উপভোগ করি না কেন, টিভি দেখার ব্যাপারটিই যেন ভিন্ন। আয়োজন আর আয়েশ করে কিছু দেখতে গেলে টিভির কোনো জুড়ি নেই বললেই চলে।
তবে টিভি কিন্তু এখন আর একমুখী কোনো যন্ত্র নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি হয়ে উঠেছে একেবারে স্মার্ট, মাল্টি-ফাংশনাল ও ইন্টারঅ্যাকটিভ। তাই টিভি কেনার সময় শুধু ব্র্যান্ড বা দাম নয়, খেয়াল রাখতে হবে চাহিদা, ফিচার, প্রযুক্তি ও পারফরম্যান্সের সঠিক ভারসাম্য।
বর্তমানে বাজারে পাওয়া যায় বিভিন্ন ধরনের টিভি—এলইডি, কিউএলইডি, মিনি-এলইডি ও ওএলইডি। এ ছাড়া আধুনিক স্মার্ট টিভিতে যুক্ত হয়েছে এআই প্রসেসিং, ভয়েস কন্ট্রোল, স্মার্ট হাব ও গেমিং ফিচারের মতো বৈশিষ্ট্য। তাই টিভি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখা জরুরি।
স্ক্রিন প্রযুক্তিস্ক্রিনের ওপর ভিত্তি করে এখন বিভিন্ন ধরনের টিভি পাওয়া যায়—এইচডি/এফএইচডি, ইউএইচডি, কিউএলইডি, ওএলইডি ও নিও কিউএলইডি এইটকে। এফএইচডি ও ইউএইচডি টিভি হলো সবচেয়ে প্রচলিত ও বাজেট-বান্ধব অপশন। এতে লাইট এমিটিং ডায়োড ব্যাকলাইট হিসেবে কাজ করে, ফলে বিদ্যুৎ খরচ কম হয় এবং স্ক্রিনের আয়ুষ্কাল তুলনামূলক বেশি থাকে। খবর, টক শো, সিনেমা বা দৈনন্দিন সিরিজ দেখার জন্য এটি যথেষ্ট ভালো। তবে কালার ও নিখুঁত কনট্রাস্টের দিক থেকে এলইডি কিছুটা পিছিয়ে।
আর কিউএলইডি টিভি কোয়ান্টাম ডট প্রযুক্তিভিত্তিক। এর ফলে এই টিভিগুলোতে ছবির উজ্জ্বলতা ও পারফরম্যান্স অনেক উন্নত। এতে যেকোনো আলোতেই টিভি দেখা যায় স্বাচ্ছন্দ্যে। এ ছাড়া স্পোর্টস, গেমিং ও অ্যানিমেটেড সিনেমা উপভোগের জন্যও কিউএলইডি হতে পারে আদর্শ বিকল্প।
ওএলইডি টিভি এক ধাপ উন্নত। এখানে প্রতিটি পিক্সেল নিজেই আলো দেয়, তাই ব্ল্যাক লেভেল থাকে গভীর এবং কালার ও ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল হয় অসাধারণ। সিনেমাটিক এক্সপেরিয়েন্স, গেমিং বা গ্রাফিক্সভিত্তিক কনটেন্ট দেখার জন্য ওএলইডি টিভি সেরা। তবে এর দাম তুলনামূলক বেশি।
স্ক্রিন সাইজ, সাউন্ড ও রেজল্যুশনটিভির আকার বাছাই করার সময় ঘরের আয়তন ও দেখার দূরত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ছোট রুমের জন্য ৩২ থেকে ৪৩ ইঞ্চির টিভি যথেষ্ট, যেখানে বড় ড্রয়িংরুমের জন্য ৫৫ থেকে ৮৫ ইঞ্চি বেশি উপযুক্ত। এখানে রেজল্যুশনের পাশাপাশি ব্যবহারকারীর পছন্দও বড় ভূমিকা রাখে।
এইচডি টিভিগুলো এখন অনেক পুরোনো ধরা হয়, তবে ফুল এইচডি এখনো ভালো মানের ভিউ দেয়। কিন্তু ফোরকে টিভিই এখন মূলধারায় রয়েছে। এতে ছবির ডিটেইল ও শার্পনেস অনেক বেশি। তবে ভালো ছবি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ভালো সাউন্ডও।
টিভির বিল্ট-ইন স্পিকারে যদি ডলবি অ্যাটমস বা ডিটিএস এক্স সাপোর্ট থাকে, তাহলে সাউন্ড হয় আরও ইমার্সিভ। তবে বড় ঘরে সিনেমা হলের মতো এক্সপেরিয়েন্স পেতে সাউন্ডবার বা হোম থিয়েটার সিস্টেম যুক্ত করা যেতে পারে।
প্রযুক্তির জন্য স্যামসাংয়ের টিভিগুলোতে ভিউইং এক্সপেরিয়েন্স অনেক বেশি আরামদায়ক ও স্বস্তিকর