রাঁচিতে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ পরিণত হলো এক মহারণে। টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করে বিরাট কোহলি তার অভিজ্ঞতার ছাপ রেখে তুলে নিলেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। তার ব্যাট থেকে আসা ১৩৫ রান ভারতকে পৌঁছে দেয় ৮ উইকেটে ৩৪৯ এ। যা দেখেই অনেকেই ভেবেছিলেন, ম্যাচ একপেশে হওয়ার অপেক্ষা মাত্র। কিন্তু প্রোটিয়া ব্যাটারদের লড়াই এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে দেয়।

রান তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা ছিল ভীষণ দুঃস্বপ্নের। স্কোরবোর্ডে মাত্র ১১ রান উঠতেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। ভারতীয় শিবিরে তখন স্পষ্ট উত্তেজনা, ম্যাচ যেন হাতের মুঠোয়।

আরো পড়ুন:

এনামুল-মোসাদ্দেকদের ছাড়া বিপিএল ‘অনেক বেশি নিরাপদ’: মার্শাল

এক নজরে দেখে নিন বিপিএলের সব দলের স্কোয়াড

কিন্তু এখান থেকেই বদলে যেতে থাকে চিত্রনাট্য। ম্যাথিউ ব্রিৎজকে, মার্কো জানসেন, টনি ডে জর্জি, ডেওয়াল্ড ব্রেভিস ও করবিন বশ- পাঁচ ব্যাটার মিলে গড়ে তোলেন এক প্রতিরোধের দেয়াল। আক্রমণাত্মক, ইতিবাচক এবং আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে একসময় মনে হচ্ছিল, অসম্ভবকে সম্ভব করতে চলেছে প্রোটিয়ারা। শেষ পর্যন্ত তাদের লড়াই থেমেছে ৩৩২ রানে। তাতে মাত্র ১৭ রানের ঘাটতিতে পরাজয় মেনে নিতে হয় সফরকারী দলটিকে।

রাঁচির দিনে যিনি বল হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল তিনি নিঃসন্দেহে কুলদীপ যাদব। ১০ ওভারে ৬৮ রান দিয়ে তিনি তুলে নেন সর্বোচ্চ ৪ উইকেট। তার টার্ন, ফ্লাইট আর গতি পরিবর্তনের ভেলকিতে একের পর এক ভাঙে দক্ষিণ আফ্রিকার জুটি। হর্ষিত রানা দেন দারুণ সাপোর্ট। ৩ উইকেট তুলে নেন মাত্র ৬৫ রানে। আর্শদীপ সিংও কিপ্টো ছিলেন। তিনি নেন ২ উইকেট, সঙ্গে একটি মেডেন। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ পান ১ উইকেট। তবে ম্যাচের শেষ ওভারের চাপ সামলানোর পরীক্ষায় তিনিই ছিলেন মুখ্য ভূমিকায়।

প্রোটিয়াদের জয়ের জন্য শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৮ রান। বল হাতে ভারতের ভরসা প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। ওভারের দ্বিতীয় বলেই ফের ধাক্কা। করবিন বশ আকাশে তোলেন ক্যাচ, রোহিত শর্মা সেটি নিখুঁতভাবে তালুবন্দি করেন। ৫১ বলে তার ৬৭ রানের লড়াকু ইনিংস ম্যাচটিকে শেষ পর্যন্ত টানটান রেখেছিল। তবে শেষ মুহূর্তে তার বিদায় দক্ষিণ আফ্রিকার সম্ভাবনাকে শেষ করে দেয়।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড:
ভারত: ৩৪৯/৮ (৫০ ওভারে),
দক্ষিণ আফ্রিকা: ৩৩২/১০ (৪৯.

২ ওভারে),
ফল: ভারত ১৭ রানে জয়ী,
ম্যাচসেরা: বিরাট কোহলি।

ঢাকা/আমিনুল

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর উইক ট

এছাড়াও পড়ুন:

সুপ্রিম কোর্টের জন্য আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠা হচ্ছে, অধ্যাদেশ জারি

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য হচ্ছে আলাদা সচিবালয়। এই লক্ষ্যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। 

বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা ও কার্যকর তদারকি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই পৃথক সচিবালয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে অন্তর্বর্তী সরকার।

আরো পড়ুন:

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে রাষ্ট্রপতির সই

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে

রবিবার (৩০ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতির নির্দেশে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি করে।

বাসস লিখেছে, গত ২০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ অধ্যাদেশের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়, যা পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় গঠনের দীর্ঘদিনের দাবিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পথ সুগম করে।

বিচার বিভাগের কাঠামোগত স্বাধীনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতাকে আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতির উদ্যোগে গত বছরের ২৭ অক্টোবর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় গঠনের প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

প্রস্তাবে সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদের আলোকে হাইকোর্ট বিভাগের অধ্বস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের ওপর তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ কার্যকরভাবে পালনের জন্য একটি পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। সঙ্গে অধ্যাদেশের খসড়া, নতুন সচিবালয়ের অর্গানোগ্রাম এবং রুলস অব বিজনেস ও অ্যালোকেশন অব বিজনেস সংশোধনের সম্ভাব্য রূপরেখা পাঠানো হয়।

বাসস লিখেছে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি করার মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের ইতিবাচক সহযোগিতায় বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন এবার বাস্তবরূপ নিল।

ঢাকা/রাসেল

সম্পর্কিত নিবন্ধ