ভোটকেন্দ্রে গোপন কক্ষ বাড়ানোর চিন্তা ইসির
Published: 30th, November 2025 GMT
একসঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট করতে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়াতে হবে না বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একটি ভোটকেন্দ্রে ভোটের মহড়ার অভিজ্ঞতা থেকে সাংবিধানিক সংস্থাটি মনে করছে, প্রতিটি ভোটকক্ষে একটির জায়গায় দুটি গোপন কক্ষ (যে কক্ষে ঢুকে ভোটার ব্যালটে সিল দেন) করলেই হবে। তবে এটি নিয়ে আরও পর্যালোচনা করা হবে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রোববার বিকেলে নির্বাচন আয়োজনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় ও প্রাক্-প্রস্তুতিমূলক সভা করে ইসি। নির্বাচন ভবনে ওই সভা শেষে ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সভাপতিত্বে বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার এবং ৩০টির বেশি মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থার সচিব ও শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে বৈঠকের আলোচনার বিষয় সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন ইসি সচিব।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, জাতীয় নির্বাচন, গণভোট ও প্রবাসী ভোটারদের ভোটের আওতায় আনা—এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইসি বলেছে, প্রতিটি পদক্ষেপে গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। কথা এবং কাজের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। ‘লিপ সার্ভিস’ হলে হবে না। নির্বাচন কমিশন, মাঠ প্রশাসন ও বিচার বিভাগ—এই তিনটির মধ্যে সমন্বয় খুব জরুরি।
ইসি আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য সারা দেশে ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র এবং ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯টি ভোটকক্ষ (বুথ) নির্ধারণ করেছে। একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট হলে ভোটকেন্দ্র বা ভোটকক্ষ বাড়াতে হবে কি না—সে প্রশ্ন আছে। ইসি সচিব বলেন, ভোটকেন্দ্র বাড়াতে হবে কি না, বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল। শনিবারের মক ভোটিংয়ে (ভোটের মহড়া) প্রাথমিকভাবে পাওয়া উপাত্ত থেকে ইসি মনে করছে, একটির জায়গায় দুটি গোপন কক্ষ করা হলে ভোটকেন্দ্র বাড়াতে হবে না।
একটি মাত্র ভোটকেন্দ্রে মক ভোটিং করে পুরো দেশের চিত্র সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, সেটি সম্ভব নয়। ইসি মহড়া করেছে সমতলে। পাহাড়ের ক্ষেত্রে এটা বাস্তব হবে না। ইসি মূলত বুঝতে চেয়েছে ভোট দিতে কত সময় লাগে এবং ভোটকেন্দ্র বাড়াতে হবে কি না।
সব জায়গায় একটি ভোটকক্ষে দুটি গোপন কক্ষ করার মতো অবকাঠামো আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, অনেক জায়গায় এটা নেই। অনেক জায়গায় হয়তো আরেকটা বুথ (ভোটকক্ষ) বাড়াতে হতে পারে। অনেক জায়গায় দুইটার পরিবর্তে তিনটা গোপন কক্ষ করা যেতে পারে। এই পর্যালোচনাটা পেতে আরেকটু সময় লাগবে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, মক ভোটে অনেকেই গণভোটের চারটি বিষয় ব্যালটে পড়েছেন। এ জন্য সময় বেশি লেগেছে। এই চারটা বিষয়ে যদি আগে থেকে প্রচারণা থাকে, বিষয়গুলো আগে থেকে ভোটারদের জানা থাকে, তাহলে সময় কম লাগবে। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে আরও পর্যালোচনা শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
আখতার আহমেদ বলেন, গণভোটের প্রচার, প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন, আচরণবিধি, এআইয়ের অপব্যবহার রোধ এবং ভোটার প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
ইসি সচিব বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে একজন করে ‘কন্ট্যাক্ট পয়েন্ট’ ঠিক করতে বলা হয়েছে; যাতে জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগ করা যায়। তিনি বলেন, ইসি বলেছে ভোট গ্রহণে নিয়োজিত কর্মকর্তারা যাতে স্থানীয় কোনো প্রভাবশালীর আতিথেয়তা না নেন। এ জন্য ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের ভাতার পরিমাণ বাড়ানো এবং নির্বাচনের দায়িত্বটা পালন করার জন্য অতিরিক্ত কিছু আর্থিক সুবিধা দেওয়ার কথা চিন্তা করা হচ্ছে। পাশাপাশি রিটার্নিং কর্মকর্তা, প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের ভূমিকা এবং তাঁদের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে।
ইসি সচিব জানান, বিজি প্রেস থেকে নির্বাচনের ব্যালট পেপার ছাপানো হবে। আর্মি সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস থেকে প্রবাসী ভোটারদের ব্যালট পেপার ছাপানো হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের তত্ত্বাবধানে সরকারি ছাপাখানা আর সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস তত্ত্বাবধান করবে।
এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আইনশৃঙ্খলা সার্বিকভাবে এখন পর্যন্ত ঠিক আছে। বিচ্ছিন্নভাবে দুয়েকটা ঘটছে। সেটা থাকেই। তারপরও তাঁরা সচেতন আছেন।
ইসি সচিব বলেন, বিটিভি এবং সংসদ টিভি ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচার চালাচ্ছে। জাতীয় নির্বাচন, গণভোট ও প্রবাসীদের ভোট—এই তিনটি বিষয়ে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতেও প্রচার চালানোর জন্য তিনি অনুরোধ জানান।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ভ টক ন দ র ব কর মকর ত ভ টকক ষ প রব স র জন য গণভ ট
এছাড়াও পড়ুন:
ভোটকেন্দ্রে গোপন কক্ষ বাড়ানোর চিন্তা ইসির
একসঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট করতে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়াতে হবে না বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একটি ভোটকেন্দ্রে ভোটের মহড়ার অভিজ্ঞতা থেকে সাংবিধানিক সংস্থাটি মনে করছে, প্রতিটি ভোটকক্ষে একটির জায়গায় দুটি গোপন কক্ষ (যে কক্ষে ঢুকে ভোটার ব্যালটে সিল দেন) করলেই হবে। তবে এটি নিয়ে আরও পর্যালোচনা করা হবে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রোববার বিকেলে নির্বাচন আয়োজনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় ও প্রাক্-প্রস্তুতিমূলক সভা করে ইসি। নির্বাচন ভবনে ওই সভা শেষে ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সভাপতিত্বে বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার এবং ৩০টির বেশি মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থার সচিব ও শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে বৈঠকের আলোচনার বিষয় সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন ইসি সচিব।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, জাতীয় নির্বাচন, গণভোট ও প্রবাসী ভোটারদের ভোটের আওতায় আনা—এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইসি বলেছে, প্রতিটি পদক্ষেপে গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। কথা এবং কাজের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। ‘লিপ সার্ভিস’ হলে হবে না। নির্বাচন কমিশন, মাঠ প্রশাসন ও বিচার বিভাগ—এই তিনটির মধ্যে সমন্বয় খুব জরুরি।
ইসি আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য সারা দেশে ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র এবং ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯টি ভোটকক্ষ (বুথ) নির্ধারণ করেছে। একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট হলে ভোটকেন্দ্র বা ভোটকক্ষ বাড়াতে হবে কি না—সে প্রশ্ন আছে। ইসি সচিব বলেন, ভোটকেন্দ্র বাড়াতে হবে কি না, বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল। শনিবারের মক ভোটিংয়ে (ভোটের মহড়া) প্রাথমিকভাবে পাওয়া উপাত্ত থেকে ইসি মনে করছে, একটির জায়গায় দুটি গোপন কক্ষ করা হলে ভোটকেন্দ্র বাড়াতে হবে না।
একটি মাত্র ভোটকেন্দ্রে মক ভোটিং করে পুরো দেশের চিত্র সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, সেটি সম্ভব নয়। ইসি মহড়া করেছে সমতলে। পাহাড়ের ক্ষেত্রে এটা বাস্তব হবে না। ইসি মূলত বুঝতে চেয়েছে ভোট দিতে কত সময় লাগে এবং ভোটকেন্দ্র বাড়াতে হবে কি না।
সব জায়গায় একটি ভোটকক্ষে দুটি গোপন কক্ষ করার মতো অবকাঠামো আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, অনেক জায়গায় এটা নেই। অনেক জায়গায় হয়তো আরেকটা বুথ (ভোটকক্ষ) বাড়াতে হতে পারে। অনেক জায়গায় দুইটার পরিবর্তে তিনটা গোপন কক্ষ করা যেতে পারে। এই পর্যালোচনাটা পেতে আরেকটু সময় লাগবে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, মক ভোটে অনেকেই গণভোটের চারটি বিষয় ব্যালটে পড়েছেন। এ জন্য সময় বেশি লেগেছে। এই চারটা বিষয়ে যদি আগে থেকে প্রচারণা থাকে, বিষয়গুলো আগে থেকে ভোটারদের জানা থাকে, তাহলে সময় কম লাগবে। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে আরও পর্যালোচনা শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
আখতার আহমেদ বলেন, গণভোটের প্রচার, প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন, আচরণবিধি, এআইয়ের অপব্যবহার রোধ এবং ভোটার প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
ইসি সচিব বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে একজন করে ‘কন্ট্যাক্ট পয়েন্ট’ ঠিক করতে বলা হয়েছে; যাতে জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগ করা যায়। তিনি বলেন, ইসি বলেছে ভোট গ্রহণে নিয়োজিত কর্মকর্তারা যাতে স্থানীয় কোনো প্রভাবশালীর আতিথেয়তা না নেন। এ জন্য ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের ভাতার পরিমাণ বাড়ানো এবং নির্বাচনের দায়িত্বটা পালন করার জন্য অতিরিক্ত কিছু আর্থিক সুবিধা দেওয়ার কথা চিন্তা করা হচ্ছে। পাশাপাশি রিটার্নিং কর্মকর্তা, প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের ভূমিকা এবং তাঁদের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে।
ইসি সচিব জানান, বিজি প্রেস থেকে নির্বাচনের ব্যালট পেপার ছাপানো হবে। আর্মি সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস থেকে প্রবাসী ভোটারদের ব্যালট পেপার ছাপানো হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের তত্ত্বাবধানে সরকারি ছাপাখানা আর সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস তত্ত্বাবধান করবে।
এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আইনশৃঙ্খলা সার্বিকভাবে এখন পর্যন্ত ঠিক আছে। বিচ্ছিন্নভাবে দুয়েকটা ঘটছে। সেটা থাকেই। তারপরও তাঁরা সচেতন আছেন।
ইসি সচিব বলেন, বিটিভি এবং সংসদ টিভি ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচার চালাচ্ছে। জাতীয় নির্বাচন, গণভোট ও প্রবাসীদের ভোট—এই তিনটি বিষয়ে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতেও প্রচার চালানোর জন্য তিনি অনুরোধ জানান।