পঞ্চগড় সীমান্তে আরো ২১ জনকে পুশ-ইন করল ভারত
Published: 22nd, May 2025 GMT
পঞ্চগড় সদর উপজেলার একটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে নারী ও শিশুসহ আরো ২১ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। ওই ২১ জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) সকালে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিন সকালে উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি এলাকার সীমান্ত পিলার ৭৫৭ এর ১০ নম্বর সাব-পিলার থেকে আনুমানিক আড়াই কিলোমিটার ভিতরে বাংলাদেশ ভূমি থেকে তাদের আটক করে বিজিবির টহল দল। এ সীমান্ত এলাকাটি জয়ধরভাঙা বর্ডার আউট পোস্টের (বিওপি) আওতাধীন।
বৃহস্পতিবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে ২১ জনকে পুশ-ইন করে ভারতের টিয়াপাড়া ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা। তারা ২১ সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে দুজন পুরুষ, ৬ জন নারী ও ১৩ জন শিশু। তাদেরকে সদর থানায় হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
বিজিবি জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ভারতে অবৈধভাবে অবস্থান করে কাজ করছিলেন তারা। গত ২১ মে তাদেরকে গুজরাট থেকে আটক করে ভারতীয় পুলিশ। পরে বিমানযোগে কলকাতায় নিয়ে আসে। কলকাতা থেকে বাসযোগে নিয়ে এসে টিয়াপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পে হস্তান্তর করা হয়। টিয়াপাড়া বিএসএফ ক্যাম্প তাদেরকে গেট দিয়ে বের করে বাংলাদেশে পুশ-ইন করে।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা বলেছেন, “ইতোমধ্যে আমাদের ক্যাম্প কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে। আমরা বিএসএফের কাছে জানতে চেয়েছি, তারা কেন অবৈধ উপায়ে বাংলাদেশে ২১ জনকে ফেরত পাঠাল? বিজিবিকে জানিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের ফেরত পাঠানো উচিত ছিল। এ বিষয়ে আমরা বিজিবির পক্ষ থেকে অনুপ্রবেশের দায়ে মামলা দায়ের করব।”
এর আগে গত ১৭ মে বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের মালকাডাঙ্গা ও কাজলদিঘী কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের ডানাকাটা সীমান্ত এলাকা থেকে ১১ জনকে আটক করে বিজিবি। তাদেরকেও পুশ-ইন করেছিল বিএসএফ।
ঢাকা/নাঈম/রফিক
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ২১ জনক ব এসএফ ত দ রক
এছাড়াও পড়ুন:
চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে শহীদ হোসেন (৩৮) নামের বাংলাদেশি এক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সীমান্তের ৭০ নম্বর প্রধান খুঁটি (মেইন পিলার) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
শহীদ হোসেনের বাড়ি উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামে।
মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রফিকুল আলম প্রথম আলোকে মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি বিএসএফের ৩২ ব্যাটালিয়ন কমান্ড্যান্ট সুজিত কুমারের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিএসএফের এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মাদক নিয়ে ফেরার সময় দুজন বাংলাদেশি নাগরিককে সীমান্ত খুঁটি ৭০ থেকে ২০০ গজ ভারত অভ্যন্তরে থামতে বলা হয়। কিন্তু তারা সুয়া দিয়ে বিএসএফের ওপর চড়াও হলে বিএসএফ গুলি ছোড়ে। এতে একজন গুলিবিদ্ধ হন। গুলিতে কেউ নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেননি বিএসএফের ওই কর্মকর্তা।
জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য গয়েশপুর গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, শহীদ হোসেন মূলত কৃষিশ্রমিক। অন্যান্য দিনের মতো আজ সকালে সীমান্তবর্তী এলাকার একটি ভুট্টাখেতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যান। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিএসএফের গুলিতে তিনি মারা যান।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন,‘ শহীদ হোসেন ভুট্টাখেত থেকে কাটা বস্তাভর্তি ঘাস নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। বস্তার ভেতরে মাদক আছে সন্দেহে বিএসএফ গুলি ছুড়লে শহীদ হোসেন মারা যান। এরপর তারা (বিএসএফ) তাঁর মরদেহ ভারতের অভ্যন্তরে একটি হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যায়।’
এ বিষয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন হোসেন বিশ্বাস বলেন, বিভিন্ন সূত্র থেকে এমন খবর পেলেও শহীদ হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউই যোগাযোগ করেননি। তাই পরিষ্কারভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।