দেশে বছরে প্রায় ১৩ হাজার নারী ক্যানসারে আক্রান্ত হন, মারা যান প্রায় অর্ধেক। কারণ, নারীরা লজ্জায় অনেক সময় সমস্যা গোপন করেন, ফলে স্তন ক্যানসার শনাক্তে দেরি হয়।

তাই স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে ঘরে, স্কুলে, বাজারে—সর্বত্র সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে সবাই স্তন ক্যানসারের বিষয়ে সচেতন হন। নারীরা লজ্জা পেলেও পরিবারের সদস্যরা স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উদ্যোগ নিতে পারেন।

স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবস উপলক্ষে গোলটেবিল আলোচনায় উপস্থিত বক্তারা এ কথা বলেন। আজ শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জেনে নিন, জেগে উঠুন। স্ক্রিনিং জীবন বাঁচায়’ শীর্ষক এ আলোচনার আয়োজন করে বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরাম।

আলোচনায় স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের বিষয়ে সচেতনতা ও সঠিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে। পাশাপাশি ফলস পজিটিভ এড়াতে নিশ্চিত পরীক্ষার ব্যবস্থা প্রয়োজন। প্রতিটি এলাকায়, মানুষের বাড়ি বাড়ি স্তন ক্যানসার প্রতিরোধের বার্তা ও সচেতনতা পৌঁছে দিতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

স্বাস্থ্য সংস্থার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মুজাহিরুল হক বলেন, ‘আমরা এবং আমাদের পরিবারের কেউই চাই না যে আমরা ক্যানসারে ভুগি। সুতরাং যে কাজটা আমরা করতে পারি, সেটা হলো আমাদের যাতে ক্যানসার না হয়, রোগ প্রতিরোধ করা। এটা প্রথম কাজ। যদি হয়েই যায় ক্যানসার, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা করানো। স্ক্রিনিংয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যানসার ধরা পড়ে। তৃতীয়ত, ক্যানসারের চিকিৎসার ব্যয় কমানো। যাতে অল্প পয়সায় বাংলাদেশে চিকিৎসাটা পাওয়া যায়।’

স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের আরেক সদস্য অধ্যাপক সৈয়দ আকরাম হোসেন বলেন, বাংলাদেশে নারীদের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি—প্রতিবছর প্রায় ১৩ হাজার নারী আক্রান্ত হন এবং প্রায় ৬ হাজার মারা যান। তিনি আরও বলেন, দেশে ম্যামোগ্রাম–সুবিধা সীমিত, অথচ দ্রুত ক্যানসার শনাক্তকরণের জন্য এটি জরুরি। স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের ২৮তম সুপারিশে প্রতিটি ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে আর্লি ডিটেকশন ক্যানসার সেন্টার স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। দেশে প্রয়োজন ৩০০ রেডিওথেরাপি মেশিন, চলছে মাত্র ২০টি। ক্যানসার চিকিৎসার প্রয়োজনীয় কাঠামো গড়ে তুলতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সদস্য ও জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি হালিদা হানুম আক্তার বলেন, স্তন ক্যানসার প্রতিরোধের সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে হবে ঘরে ঘরে, স্কুলে, বাজারে—সব জায়গায়। গোলাপি রং স্তন ক্যানসার সচেতনতার প্রতীকে পরিণত হোক।

নারী উদ্যোগ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও স্থানীয় সরকারবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সদস্য মাকসুদা খাতুন শেফালী ক্যানসার সচেতনতার জন্য দেশে নির্দিষ্ট সংস্থা বা ফান্ড রাখার বিষয়ে জোর দেন।

স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মালিহা রশিদ বলেন, ছোট মেয়েদের মধ্যে এইচপিভি ভ্যাকসিন দেওয়া গেলে স্তন ক্যানসার অনেকাংশে প্রতিরোধ সম্ভব। স্ক্রিনিং পরীক্ষা যেন আরও স্বল্প মূল্যে করা যায়, যাতে সাধারণ মানুষ সহজে অংশ নিতে পারে, সে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন বলেন, ব্রেস্ট ক্যানসার সচেতনতায় স্কুল-কলেজের পাঠ্যক্রমে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হোক।

বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন জানান, ৩০-৩১ অক্টোবর ‘গোলাপিসজ্জিত বাসে’ রাজশাহী ও খুলনা পথে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন হবে। আর ৮ নভেম্বর ঢাকায় ‘চতুর্থ সমাজভিত্তিক ক্যানসার সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হবে, অনলাইনেও নিবন্ধন করা যাবে। আগ্রহীরা ৫০০, ৭০০ ও ১ হাজার টাকার রেজিস্ট্রেশন ফি দিয়ে অনলাইন বা সরাসরি নিবন্ধন করতে পারবেন। গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে স্তন ক্যানসার অপারেশনের খরচ সর্বোচ্চ ৬৫ হাজার ও অতিদরিদ্রদের জন্য মাত্র ৫ হাজার টাকা বলেও জানান তিনি।

আলোচনায় ওয়ার্ল্ড ক্যানসার সোসাইটি বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ হুমায়ুন কবির, স্ত্রীরোগবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সারিয়া তাসনিম, অধ্যাপক সাবেরা খাতুন, ক্যানসার সার্জন অধ্যাপক মো.

হাসানুজ্জামান, স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভার আগে স্তন ক্যানসার সচেতনতায় প্রতীকী গোলাপি শোভাযাত্রা হয়।

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

সাহসী ও নিরপেক্ষতার কারণে প্রথম আলো সেরা

সাদাকে সাদা ও কালোকে কালো বলার দৃঢ়তা নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করে প্রথম আলো অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। সাহসী ও নিরপেক্ষতার কারণে পত্রিকাটি সেরা। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে সাধারণ পাঠকের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করতে পেরেছে প্রথম আলো। সব বাধা পেরিয়ে প্রথম আলো এগিয়ে যাবে—এটাই পাঠকদের প্রত্যাশা।

রোববার বিকেলে সাতক্ষীরায় প্রথম আলো আয়োজিত সুধী সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। পত্রিকাটির ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহরের লেকভিউ রিসোর্ট মিলনায়তনে এ সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। একই সময়ে নেত্রকোনা ও লালমনিরহাটেও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, শিক্ষক, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, নারীনেত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ অংশ নিয়ে প্রথম আলো সম্পর্কে খোলামেলা মতামত ব্যক্ত করেন।

সাতক্ষীরায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয় সুধী সমাবেশ। রোববার বিকেলে শহরের লেকভিউ রিসোর্ট মিলনায়তনে

সম্পর্কিত নিবন্ধ