কুমিল্লার দাউদকান্দিতে গৌরীপুর প্লাবনভূমির মৎস্য চাষ প্রকল্পের কার্যালয়ে ডাকাত দল হানা দিয়েছে। এ সময় এক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হন। আমিরাবাদ বাসস্ট্যান্ড–সংলগ্ন এলাকায় গত সোমবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।

আহত আমির হোসেনকে (৪৮) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি গৌরীপুর ইউনিয়নের মাইথারকান্দি গ্রামের আবদুল আউয়ালের ছেলে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ডাকাত দল হামলা চালিয়ে ১০ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।

গৌরীপুর প্লাবন ভূমির মৎস্য চাষ প্রকল্পের ইজারাদার নুরু মিয়া সাংবাদিকদের জানান, সোমবার রাতে মৎস্য প্রকল্পে মাছ ধরার কার্যক্রম চলছিল। মৎস্য প্রকল্পের কার্যালয়ে আসা ২০ জনের বেশি পাইকার নগদ টাকায় মাছ কিনে নিয়ে যান। বকেয়া টাকাসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার দেনদেন হয়। কিছু টাকা রাতেই পাওনাদারদের দেওয়া হয়। দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ৮ থেকে ১০ জন মুখোশ পরে অস্ত্র নিয়ে পিকআপ ভ্যানে করে মৎস্য চাষ প্রকল্পের কার্যালয়ে হামলা চালায়। কার্যালয়ে ৩০ জনের বেশি মৎস্যচাষি, ব্যবসায়ী ও শ্রমিক ছিলেন। তাঁদের মারধর করে ১০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় ডাকাতেরা। বাধা দিলে আমির হোসেনকে গুলি করে ডাকাত দল।
আহত আমির হোসেনকে প্রথমে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

হাসপাতালের চিকিৎসক নয়ন দে প্রথম আলোকে বলেন, আহত আমির হোসেনের বাঁ ঊরুসহ একাধিক স্থানে গুলি লেগেছে। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গুলিবিদ্ধ আমির হোসেনের ভাই বাদশা মিয়া জানান, ডাকাত দল শর্টগান দিয়ে গুলি ছোড়ে। মৎস্য চাষ প্রকল্পের কার্যালয়ে আমির হোসেনের বাঁ ঊরুতে একাধিক গুলি লাগে। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

দাউদকান্দি মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, সিসিটিভির ফুটেজ দেখে তদন্ত করা হচ্ছে। মৎস্য প্রকল্প নিয়ে কারও সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্বের জের আছে কি না, তা–ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডাকাতি ও গুলিবিদ্ধের ঘটনায় থানায় এখনো অভিযোগ দায়ের করেননি।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: আম র হ স ন দ উদক ন দ ড ক ত দল ব যবস য়

এছাড়াও পড়ুন:

অনাগত সন্তান পেটে, মৃত নারীকে পাওয়া গেল বস্তায়

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে নিখোঁজের সাত দিন পর ইতি বেগম (২১) নামে এক গৃহবধূর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে।

রবিবার (৩০ নভেম্বর) রাতে উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামের লায়েক শেখের পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

ইতি বেগম একই গ্রামে রাসেল শেখের স্ত্রী ও জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি থানার দৌলতপুর গ্রামের ইদ্রিস আলীর মেয়ে। তিনি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এদিকে, মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে নিহতের স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে রাসেল শেখের সঙ্গে ইতি বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মনোমালিন্য ও ঝগড়াঝাঁটি লেগেই থাকত। গত ২৪ নভেম্বর বাড়ি থেকে বের হয়ে ইতি নিখোঁজ হন বলে অভিযোগ করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এর তিন দিন পর রাসেল শেখ মুকসুদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। নিখোঁজের সাত দিন পর রবিবার রাতে বাড়ির পাশের পুকুর থেকে ইতি বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মুকসুদপুর থানার ওসি মোস্তফা কামাল বলেন, ‘‘রাতে পুকুরে একটি বস্তা ভাসতে দেখে থানায় খবর দেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তা থেকে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ ইতি বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে। তার হাত, পা ও মুখ কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’’

ঢাকা/বাদল/রাজীব

সম্পর্কিত নিবন্ধ