আল ফাতেহ স্টেডিয়ামে গত রাতে মৌসুমে নিজেদের শেষ ম্যাচে স্বাগতিকদের কাছে ৩-২ গোলে হেরেছে আল নাসর। সৌদি প্রো লিগে তৃতীয় স্থান নিয়ে মৌসুম শেষ করল ক্লাবটি। এই ম্যাচের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আল নাসর ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক, এক্স ও ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে লেখা হয়, এই ‘অধ্যায় শেষ’। বাংলাদেশ সময় রাত আড়াইটার কিছু পর রোনালদোর তিনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হ্যান্ডলে এই পোস্ট করা হয়।

আরও পড়ুন৯১৪ কোটি টাকার পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিজনেস বিমানে করে ব্রাজিলে আনচেলত্তি১ ঘণ্টা আগে

আল নাসরের সঙ্গে রোনালদোর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৩০ জুন। ৪০ বছর বয়সী পর্তুগিজ কিংবদন্তি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছেড়ে ২০২২ সালে আল নাসরে যোগ দেন।

ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে রোনালদোর খেলার সম্ভাবনা নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয় কিছুদিন আগে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো গত সপ্তাহে বলেন, ১৪ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হতে যাওয়া ক্লাব বিশ্বকাপে রোনালদোর খেলার সম্ভাবনা নিয়ে ‘আলোচনা চলছে’। যদিও আল নাসর ক্লাব বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। সৌদি আরব থেকে এ টুর্নামেন্টে শুধু আল হিলাল জায়গা করে নিতে পেরেছে। তবে ক্লাব বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৩২ দলকে ১ থেকে ১০ জুন পর্যন্ত বিশেষ দলবদলের সুবিধা দেওয়া হবে যেন তারা প্রয়োজনীয় খেলোয়াড় সই করাতে পারেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আল নাসরের জার্সি পরা রোনালদোর ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘এই অধ্যায় শেষ। গল্পটা? এখনো লেখা হচ্ছে। সবার কাছে কৃতজ্ঞ।’

আরও পড়ুননেইমার নেই আনচলেত্তির প্রথম ব্রাজিল দলে, কারা আছেন৯ ঘণ্টা আগে

গত মাসে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে জাপানের কাওয়াসাকি ফ্রনটেলের কাছে হেরে বিদায় নেয় আল নাসর। সৌদি প্রো লিগে এবার ক্লাবটি তৃতীয় হলেও ৩০ ম্যাচে ২৫ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদো। পাঁচবার ব্যালন ডি’অরজয়ী এ ফরোয়ার্ড গত বছর বলেছিলেন, তিনি আল নাসরেই ক্যারিয়ার শেষ করতে পারেন।

রোনালদো আল নাসর ছাড়লে তাঁর পরবর্তী গন্তব্য হবে কোথায়, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন সমর্থকেরা.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: ক ল ব ব শ বক প

এছাড়াও পড়ুন:

সর্বশেষ প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগের বিধানটি তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় ত্রুটি

প্রথম আলো:

তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা অন্তর্বর্তী সরকার তো অনির্বাচিত সরকার। বর্তমানে বেশ কিছু ইস্যুতে এ ধরনের সরকারের এখতিয়ার বা কাজের পরিধি এবং তাদের জবাবদিহি নিয়ে নানা রকম প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী? 

রিদওয়ানুল হক : নির্বাচিত হোক কিংবা অনির্বাচিত হোক—সব ধরনের সরকারেরই একটা জবাবদিহির ব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার অনির্বাচিত সরকার হলেও তাদেরকে রাজনৈতিক দল, সংবাদমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের কাছে তাদের জবাবদিহি করতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারকে এ বিষয়ে তেমন কোনো কথাবার্তা বলতে শোনা যায়নি বা জবাবদিহির কোনো মেকানিজম তৈরি করা হয়েছে জানা যায়নি। অ্যাকাউন্টেবিলিটির দিক থেকে যে প্রশ্নগুলো উঠছে, সরকার সেগুলো অতিক্রম করতে পারছে না এবং এই পরীক্ষায় সরকার বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।

বর্তমান পটভূমিকে বিবেচনায় নিয়ে একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা স্পষ্ট হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে প্রায় হুবহু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে বা অনুসরণে। সেই হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকার হওয়ার কথা নির্দলীয় এবং সেই সরকারে থাকা কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের থাকা দু-একজন উপদেষ্টার আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি বেশ জোরেশোরে আলোচনা হচ্ছে। এটা অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতাকে দারুণভাবে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে তাঁরা পদত্যাগ করবেন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। কিন্তু তাঁরা তো এখন সরকারে থেকে নানা রকম সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন এবং ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারছেন। এটা যেমন স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করছে, তেমনি নৈতিকভাবে সমর্থনযোগ্য নয়।

প্রথম আলো:

অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। চারটি বিষয়ে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে ভোটারদের মতামত জানাতে হবে। এ বিষয়টাকে কীভাবে দেখছেন?

রিদওয়ানুল হক : গণভোটের ক্ষেত্রে চারটি প্রশ্নের একটি উত্তর দেওয়া আসলে খুবই অস্বাভাবিক বিষয়। জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় এটাতে জনগণের আগ্রহ এমনিতেই কম থাকবে। তার ওপর যদি প্রশ্ন নিয়ে এ রকম বিভ্রান্তি থাকে, তাহলে গণভোট নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। এ জন্য গণভোটের প্রশ্নগুলোকে শেষ পর্যন্ত একটি প্রশ্নে নিয়ে আসতে হবে। গণভোটের প্রশ্ন যদি অস্পষ্ট থাকে এবং জনগণের কাছে বার্তাটা যদি ঠিকভাবে না পৌঁছায়, তাহলে যে উদ্দেশ্যে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, সেটা ব্যর্থ হতে পারে।

প্রথম আলো:

আপনাকে ধন্যবাদ।

রিদওয়ানুল হক: আপনাকেও ধন্যবাদ।

সম্পর্কিত নিবন্ধ