এক বছরে সরকারি কর্ম কমিশন কী করল
Published: 30th, November 2025 GMT
ছবি: সংগৃহীত
.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
চট্টগ্রাম বন্দরে বেড়েছে আমদানি, ছোলা-চিনি-ডালের দাম নিম্নমুখী
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পবিত্র মাহে রমজান। এ সময় অতিরিক্ত চাহিদা থাকে ছোলা, ডাল, চিনিসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের। চাহিদাকে পুঁজি করে এসব পণ্যের দাম নানা কৌশলে বাড়িয়ে দেন সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা। তবে, এবার রমজানের কয়েকমাস আগেই ভিন্ন চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
আগাম ও বাড়তি আমদানি এবং পর্যাপ্ত মজুতের কারণে রমজানে ছোলা, ডাল, চিনি, খেজুরসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় কম থাকবে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা আশা করছেন, কোনো কোনো পণ্য গত বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কম দামে পাওয়া যাবে।
আরো পড়ুন:
সবজির সরবরাহ বাড়লেও কমছে না দাম
৯ ব্রোকার হাউজকে ফিক্স সার্টিফিকেশন দিল ডিএসই
বাংলাদেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শতভাগ আমদানি হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। আমদানিকারকদের সবাই দেশের সবচেয়ে বড় ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ কেন্দ্রীক।
খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক, আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারিতে রমজানকে সামনে রেখে এবার বিপুল পরিমাণ ছোলা, খেজুর, ডাল, চিনিসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যের আমদানি বেড়েছে। বেড়েছে মজুত। এছাড়া, বিশ্ববাজারে এসব পণ্যের দাম কমতির দিকে থাকায় দেশের বাজারেও দাম কমছে।
খাতুনগঞ্জে ছোলাসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের আমদানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মাহাবুবুল আলম চৌধুরী জানান, চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে অস্ট্রেলিয়ান ছোলা এখন বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ৩২০০ টাকায়। যার প্রতি কেজির মূল্য ৮৫ টাকা। গত বছর একই মানের ছোলার দাম ছিল ৯৫ টাকা থেকে ১০০ টাকা। ভারতীয় ছোলার দামও গত বছরের তুলনায় কেজিতে কমেছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। গত বছর যে ভারতীয় ছোলার দাম ছিলো ১০৫ থেকে ১১০ টাকা। সেই ছোলা বর্তমান বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ৯৪ টাকা।
আমাদানিকারকদের সূত্রে জানা গেছে, রমজানকে সামনে রেখে এখন পর্যন্ত ৮০ হাজার টনের বেশি ছোলা আমদানি করেছে চট্টগ্রামের আমদানিকারকরা। পর্যাপ্ত মজুত থাকার কারণে ছোলার দাম আরো কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে গত বছরের তুলনায় এ বছর মশুর ডাল, ছোলার ডাল এবং খেসারি ডালের দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বর্তমানে এই বাজারে মোটা মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৭২ টাকা কেজি দরে। গত বছর একই সময়ে এই ডালের দাম ছিল ৮৫ টাকা। খেসারি ডাল কেজিতে ২০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি দরে। গত বছর দাম ছিল প্রতিকেজি ৯০ টাকা। মটর ডাল এবং সাদা মটর বিক্রি হচ্ছে ৪২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গত বছর ছিলো ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি।
সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে চিনির দামে। বর্তমানে চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে প্রতি মণ চিনি বিক্রি হচ্ছে ৩২৫০ টাকা। খুচরা বাজারে কেজিতে ৮৮ টাকা। গত বছর এই সময়ে চিনির দাম ছিলো প্রতিকেজি ১২০ টাকা।
খাতুনগঞ্জের চিনি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মুরাদ হোসেন জানান, পর্যাপ্ত মজুতের কারণে চিনির বাজারে স্বস্থি রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এই বছর প্রতিকেজি চিনির দাম ১০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত কম। রমজানে চিনির চাহিদা অনেক বেশি থাকে। সেই বিবেচনায় পর্যাপ্ত চিনির মজুত রয়েছে। ফলে দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কোনো শঙ্কা নেই।
চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানির পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, এই বছর নির্বিঘ্নে এলসি খুলে আমদানি করার সুযোগ থাকায় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপণ্য আমদানি করছেন। গত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে ছোলা, ডাল, খেজুর, মসলা এবং বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্যের আমদানি বেড়েছে। যার পরিমাণ প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার টন। বিশেষ করে ছোলার আমদানি বেড়ে হয়েছে ৬ হাজার ৬৪৭ টন। খেজুর এসেছে ৪ হাজার টনের বেশি। সয়াবিন তেলের আমদানি বেড়েছে প্রায় ৪৪ হাজার টন।
খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, দেশে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসা ও আমদানির অনুকূল পরিবেশ থাকার ফলে এবার সব ব্যবসায়ী নির্বিঘ্নে এলসি খুলে পণ্য আমদানি করতে পারছেন। ফলে পাইকারি বাজারে পণ্যের ঘাটতি নেই। এ কারণে দাম স্থিতিশীল এবং কোনো কোনো পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় অনেক কমেছে।
ঢাবা/রেজাউল/মাসুদ