সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বলেছেন, তিনি মস্কোর সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান। গতকাল বুধবার মস্কোতে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন তিনি। এটি রাশিয়ায় শারার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর।

সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে পরিচিত মস্কো। সিরিয়ার বিদ্রোহীদের অভিযানের মুখে আসাদ সিরিয়া থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর ১০ মাস ধরে রাশিয়ার আশ্রয়ে আছেন।

ক্রেমলিনে পুতিনকে আল-শারা বলেন, ‘আমরা এই সম্পর্কের ধরনটাকে নতুন করে গড়ে তোলা ও পুনঃসংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করছি, যেন সিরিয়ার স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক ঐক্য ও অখণ্ডতা এবং স্থিতিশীল নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে।’

আল-শারা একসময় আল-কায়েদার সিরীয় শাখার প্রধান ছিলেন। তখন তিনি আবু মোহাম্মদ আল-জুলানি নামে পরিচিত ছিলেন। সিরিয়ার কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, বাশার আল–আসাদকে সিরিয়ার কাছে হস্তান্তরের জন্য মস্কোর কাছে অনুরোধ জানাতে পুতিনের সঙ্গেকার বৈঠকটি কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করেছিলেন শারা।

মস্কোর সঙ্গে করা সব পুরোনো চুক্তি সিরিয়া মেনে চলবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন শারা। তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও যৌথ স্বার্থ আছে। আমরা তাদের সঙ্গে করা সব চুক্তির প্রতি সম্মান রাখি।’

আল-শারা এক সময় আল-কায়েদার সিরীয় শাখার প্রধান ছিলেন। তখন তিনি আবু মোহাম্মদ আল-জুলানি নামে পরিচিত ছিলেন। সিরিয়ার কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, বাশার আল–আসাদকে সিরিয়ার কাছে হস্তান্তরের জন্য মস্কোর কাছে অনুরোধ জানাতে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকটি কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করেছিলেন শারা।

তবে বৈঠকের শুরুতে টেলিভিশনে আল-শারার সংক্ষিপ্ত যে ভাষণটি প্রচার হয়েছে, তাতে স্পর্শকাতর এ কূটনৈতিক বিষয়টির কোনো উল্লেখ ছিল না।

আরও পড়ুনবিদ্রোহীদের বিষয়ে সতর্ক করেছিল ইরান, শোনেননি বাশার আল-আসাদ১২ ডিসেম্বর ২০২৪আল–শারার প্রশংসা করলেন পুতিন

আল-শারাকে স্বাগত জানিয়ে পুতিন দুই দেশের মধ্যকার কয়েক দশকের ‘বিশেষ সম্পর্কের’ প্রশংসা করেছেন। রুশ প্রেসিডেন্টের দাবি, মস্কো সব সময় সিরীয় জনগণের স্বার্থকে বিবেচনায় রাখে এবং তাঁর সরকার এই সম্পর্ককে আরও সম্প্রসারিত করতে চায়।

পুতিন সিরিয়ায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনেরও প্রশংসা করেছেন। বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটি ছিল দেশটির প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন। পুতিনের মতে, এই প্রক্রিয়াটি সব রাজনৈতিক শক্তির মধ্যকার সম্পর্ককে দৃঢ় করবে।

শারাকে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি মনে করি এটা আপনার জন্য বড় সাফল্য। কারণ, এর মধ্য দিয়ে সমাজে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে সিরিয়া কঠিন সময়ের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও এটি সিরিয়ার সব রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ককে দৃঢ় করবে।’

আল-শারাকে স্বাগত জানিয়ে পুতিন দুই দেশের মধ্যকার কয়েক দশকের ‘বিশেষ সম্পর্কের’ প্রশংসা করেছেন। রুশ প্রেসিডেন্টের দাবি, মস্কো সব সময় সিরীয় জনগণের স্বার্থকে বিবেচনায় রাখে এবং তাঁর সরকার এই সম্পর্ককে আরও সম্প্রসারিত করতে চায়।

সিরিয়ায় ১৩ বছর ধরে গৃহযুদ্ধ চলাকালে সরকারবিরোধী অবস্থানে থাকা শারাদের সঙ্গে  রাশিয়ার সম্পর্কটা ছিল বিপরীতমুখী। তা সত্ত্বেও সিরিয়ার নতুন শাসকেরা রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাস্তবমুখী অবস্থান নিয়েছেন। অন্যান্য বিদেশি শক্তির মতো রাশিয়ার সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইছেন তাঁরা।

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন এবং সিরিয়ার বর্তমান সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের ক্ষেত্রে দামেস্কের জন্য রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখাটা অত্যন্ত জরুরি।

আরও পড়ুনপুতিনের আশ্রয়ে বাশার আল-আসাদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: আল শ র র জন য সরক র

এছাড়াও পড়ুন:

জনতার এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়

কুড়িগ্রামের রৌমারীর বকবান্ধা ও ব্যাপারীপাড়া এলাকায় জিঞ্জিরাম নদের তীরের মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ভাঙনের প্রতিকূলতায় দীর্ঘদিন ধরে জীবন যাপন করে আসছেন। অতিবৃষ্টিতে ঢল ধরলে ঘরবাড়ি, জমিজমা, এমনকি অনেকের শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে যায়। কিন্তু এই ভাঙনের বিপদ ঠেকানো নিয়ে প্রশাসনের দায় বা দায়িত্ব দুটোই যেন হারিয়ে গেছে নীরবতায়।

প্রথম আলোর খবরে এসেছে, প্রশাসনের আশায় বসে না থেকে স্থানীয় লোকজনই উদ্যোগ নিয়ে নদের তীরে অস্থায়ী বাঁশের বান্ডাল এবং জিও ব্যাগ স্থাপন করেছেন নদীভাঙন মোকাবিলা করতে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আরডিআরএস বাংলাদেশের ‘ট্রোসা-২’ প্রকল্পের সহায়তায় এবং স্থানীয় লোকজনের স্বেচ্ছাশ্রমে ৬০০ মিটার এলাকায় ২৭টি বাঁশের বান্ডাল নির্মাণ করা হয়। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জিও ব্যাগও যোগ হয় এই উদ্যোগে। এতে অন্তত ৪০০ পরিবার ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় লোকজন। স্থানীয় লোকজন নিজ অর্থায়ন ও শ্রম দিয়ে এই কাজ সম্পন্ন করেছেন; যাঁদের বেশির ভাগই নানাভাবে নদীভাঙনের ভুক্তভোগী।

এ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, প্রশাসন কেন দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করতে পারেনি? যে সংস্থাগুলো স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে পারত, তারা কেন স্থানীয় মানুষের ওপর এই দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছে? এটি স্পষ্ট করে যে স্থানীয় প্রশাসন ক্রমেই উদাসীন হয়ে পড়েছে। উপায় না পেয়ে জনগণই যেই কাজ করছে, যা প্রশাসনের করার কথা। তবে স্থানীয় লোকজনের এই উদ্যোগ আপাতত কাজ চালানোর মতো হলেও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট নয়।

বাঁশ ও জিও ব্যাগের সমন্বয় সাময়িক স্বস্তি দিয়েছে। কিন্তু স্থায়ী বাঁধ না হলে নদীভাঙনের আতঙ্ক ফেরার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের উচিত, জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম ও স্থানীয় এ উদ্যোগকে সহায়তা করে স্থায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। না হলে কেবল অস্থায়ী সুরক্ষা নয়, বরং জনসাধারণের দুর্দশা ও ঝুঁকি বারবার পুনরাবৃত্তি হবে। 

বকবান্ধা ও ব্যাপারীপাড়ার জনগণকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তাঁরা দেখিয়ে দিয়েছেন, প্রকৃত প্রয়াস থাকলে ঐক্যবদ্ধভাবে যেকোনো সমস্যার সমাধান কেবলই সময়ের ব্যাপার। স্থানীয় জনগণকে সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি আমরা আশা করি, স্থানীয় প্রশাসন দ্রুতই ওই এলাকায় নদীভাঙন মোকাবিলায় কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেবে। নিজেদের সমস্যা মোকাবিলায় যেই দায়িত্বশীলতা স্থানীয় জনগণ দেখিয়েছেন, তার প্রতি সম্মান দেখিয়ে প্রশাসনও টেকসই সমাধানের দিকে এগিয়ে যাবে।

জনগণ দায়িত্বশীল হলেও প্রশাসন যদি উদাসীন থেকে যায়, তাহলে প্রকৃত সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায় না। তাই প্রশাসনকে জনগণের এই সংকটকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে টেকসই সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না, জাতির সামনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে: গোলাম পরওয়ার
  • বারবার মানুষ জীবন দেয় কিন্তু ক্ষমতায় যায় বুর্জোয়ারা: অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  • কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শুরু হবে বিএনপির ‘বিজয় মাস’ উদ্‌যাপন
  • লন্ডন থেকে প্রেসক্রিপশন দিয়ে কেউ দেশ চালাতে পারবে না: সাদিক কায়েম
  • বড় চ্যালেঞ্জ নির্বাচনের মাধ্যমে পিসফুল ট্রানজিশন: নাহিদ ইসলাম
  • যাঁরা লুট করেছেন, তাঁদের ধরেন, কারখানাগুলো চালু থাকুক: ফখরুল
  • জামায়াতের আমিরের দৃষ্টিতে ফ্যাসিবাদীদের ৫ লক্ষণ, সব লক্ষণ এখনো বিদ্যমান
  • স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করছি : সাখাওয়াত
  • জনতার এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়
  • ঈশ্বরদীতে যা ঘটে গেল তা হঠাৎ করে হয়নি: জামায়াত আমির