আ.লীগ নিষিদ্ধের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ আঁকড়ে থাকার আহ্বান হেফাজতের
Published: 10th, May 2025 GMT
অবিলম্বে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত নেতা–কর্মীদের রাজপথ আঁকড়ে থাকার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
শুক্রবার হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান। বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, ‘শাপলা চত্বর ও জুলাই গণহত্যার দায়ে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের নেতা ও দোসরদের বিচার না করে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’
বিবৃতিতে হেফাজতের শীর্ষ দুই নেতা আরও বলেন, সহস্রাধিক শহীদের প্রাণের বিনিময়ে ইতিহাসের অন্যতম সফল রক্তাক্ত গণ-অভ্যুত্থানের বৈধতার ভিত্তিতে এ অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে। কিন্তু নজিরবিহীন জনসমর্থন থাকার পরও জুলাই বিপ্লবের প্রথম দাবি শাপলা চত্বর ও জুলাইয়ের গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে গড়িমসি করছে সরকার। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা দলের নেতা-কর্মী ও ছাত্র-জনতাকে রাজপথ আঁকড়ে থাকতে বলেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘শাপলা চত্বর ও জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচারসহ জুলাই বিপ্লবের দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে পারে। তাদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা বোধ নেই। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও দাবির সঙ্গে এক হয়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রশ্নে সব রাজনৈতিক দলকেও সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
আরও পড়ুনদ্রুত সিদ্ধান্ত না এলে সারা দেশ থেকে ঢাকা মার্চ: নাহিদ৪ ঘণ্টা আগেআরও পড়ুন‘শাহবাগ ব্লকেড’ কর্মসূচি চলবে, গণজমায়েত শনিবার২ ঘণ্টা আগে.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: আওয় ম
এছাড়াও পড়ুন:
ইসরায়েল ‘সংগঠিত ও ব্যাপক নির্যাতনকে রাষ্ট্রীয় নীতি’ হিসেবে ব্যবহার করছে
জাতিসংঘের নির্যাতন বিষয়ক কমিটি জানিয়েছে, ইসরায়েল কার্যত ‘সংগঠিত ও ব্যাপক নির্যাতনের রাষ্ট্রীয় নীতি’ পরিচালনা করছে এবং এর প্রমাণ রয়েছে। শনিবার কমিটির বরাত দিয়ে বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
কমিটি নিয়মিতভাবে নির্যাতনের বিরুদ্ধে কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী সব দেশের রেকর্ড পর্যালোচনা করে, তাদের সরকার এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে।
ইসরায়েলের পর্যালোচনার সময় ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনি উভয় অধিকার গোষ্ঠীই ইসরায়েলি আটক কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি সম্পর্কে ভয়াবহ বিবরণ দিয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে ইসরায়েল হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে।
প্রশাসনিক আটক এবং অবৈধ যোদ্ধাদের - সন্দেহভাজনদের যাদের যুদ্ধবন্দী হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা যায় না - ইসরায়েলের আইন অনুসারে, তাদের আইনজীবী বা পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখা যেতে পারে।
অনেক ফিলিস্তিনি পরিবার জানিয়েছে, তারা মাসের পর মাস অপেক্ষা করেছে। এমনকি জানতেও পারেনি যে তাদের প্রিয়জনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টিকে জাতিসংঘের কমিটি ‘বলপূর্বক অন্তর্ধান’ বলে অভিহিত করেছে।
কমিটি বিশেষভাবে শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং বয়স্কদেরসহ পুরো ফিলিস্তিনিদের আটক করার জন্য ইসরায়েলের অবৈধ যোদ্ধা আইন ব্যবহারের সমালোচনা করেছে।
কমিটি প্রাপ্ত প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে জানিয়েছে, ফিলিস্তিনিদের নিয়মিতভাবে খাবার ও পানি থেকে বঞ্চিত করা হয় এবং তাদের প্রচণ্ড মারধর, কুকুরের আক্রমণ, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করা, জল সরবরাহ এবং যৌন সহিংসতার শিকার হতে হয়। কিছু বন্দিকে স্থায়ীভাবে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়, টয়লেটে প্রবেশাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয় এবং ডায়াপার পরতে বাধ্য করা হয়।
কমিটি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে এই ধরনের আচরণ ‘যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ।’ এতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের ‘সংগঠিত ও ব্যাপক নির্যাতনের রাষ্ট্রীয় নীতি’ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে গণহত্যার অপরাধের একটি।
ইসরায়েল বারবার গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
ঢাকা/শাহেদ