প্রথম আলো:

তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা অন্তর্বর্তী সরকার তো অনির্বাচিত সরকার। বর্তমানে বেশ কিছু ইস্যুতে এ ধরনের সরকারের এখতিয়ার বা কাজের পরিধি এবং তাদের জবাবদিহি নিয়ে নানা রকম প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী? 

রিদওয়ানুল হক : নির্বাচিত হোক কিংবা অনির্বাচিত হোক—সব ধরনের সরকারেরই একটা জবাবদিহির ব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার অনির্বাচিত সরকার হলেও তাদেরকে রাজনৈতিক দল, সংবাদমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের কাছে তাদের জবাবদিহি করতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারকে এ বিষয়ে তেমন কোনো কথাবার্তা বলতে শোনা যায়নি বা জবাবদিহির কোনো মেকানিজম তৈরি করা হয়েছে জানা যায়নি। অ্যাকাউন্টেবিলিটির দিক থেকে যে প্রশ্নগুলো উঠছে, সরকার সেগুলো অতিক্রম করতে পারছে না এবং এই পরীক্ষায় সরকার বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।

বর্তমান পটভূমিকে বিবেচনায় নিয়ে একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা স্পষ্ট হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে প্রায় হুবহু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে বা অনুসরণে। সেই হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকার হওয়ার কথা নির্দলীয় এবং সেই সরকারে থাকা কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের থাকা দু-একজন উপদেষ্টার আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি বেশ জোরেশোরে আলোচনা হচ্ছে। এটা অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতাকে দারুণভাবে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে তাঁরা পদত্যাগ করবেন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। কিন্তু তাঁরা তো এখন সরকারে থেকে নানা রকম সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন এবং ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারছেন। এটা যেমন স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করছে, তেমনি নৈতিকভাবে সমর্থনযোগ্য নয়।

প্রথম আলো:

অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। চারটি বিষয়ে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে ভোটারদের মতামত জানাতে হবে। এ বিষয়টাকে কীভাবে দেখছেন?

রিদওয়ানুল হক : গণভোটের ক্ষেত্রে চারটি প্রশ্নের একটি উত্তর দেওয়া আসলে খুবই অস্বাভাবিক বিষয়। জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় এটাতে জনগণের আগ্রহ এমনিতেই কম থাকবে। তার ওপর যদি প্রশ্ন নিয়ে এ রকম বিভ্রান্তি থাকে, তাহলে গণভোট নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। এ জন্য গণভোটের প্রশ্নগুলোকে শেষ পর্যন্ত একটি প্রশ্নে নিয়ে আসতে হবে। গণভোটের প্রশ্ন যদি অস্পষ্ট থাকে এবং জনগণের কাছে বার্তাটা যদি ঠিকভাবে না পৌঁছায়, তাহলে যে উদ্দেশ্যে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, সেটা ব্যর্থ হতে পারে।

প্রথম আলো:

আপনাকে ধন্যবাদ।

রিদওয়ানুল হক: আপনাকেও ধন্যবাদ।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: অন ষ ঠ ত সরক র র গণভ ট

এছাড়াও পড়ুন:

চট্টগ্রাম বন্দরে বেড়েছে আমদানি, ছোলা-চিনি-ডালের দাম নিম্নমুখী

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পবিত্র মাহে রমজান। এ সময় অতিরিক্ত চাহিদা থাকে ছোলা, ডাল, চিনিসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের। চাহিদাকে পুঁজি করে এসব পণ্যের দাম নানা কৌশলে বাড়িয়ে দেন সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা। তবে, এবার রমজানের কয়েকমাস আগেই ভিন্ন চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আগাম ও বাড়তি আমদানি এবং পর্যাপ্ত মজুতের কারণে রমজানে ছোলা, ডাল, চিনি, খেজুরসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় কম থাকবে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা আশা করছেন, কোনো কোনো পণ্য গত বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কম দামে পাওয়া যাবে। 

আরো পড়ুন:

সবজির সরবরাহ বাড়লেও কমছে না দাম

৯ ব্রোকার হাউজকে ফিক্স সার্টিফিকেশন দিল ডিএসই

বাংলাদেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শতভাগ আমদানি হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। আমদানিকারকদের সবাই দেশের সবচেয়ে বড় ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ কেন্দ্রীক।

খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক, আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারিতে রমজানকে সামনে রেখে এবার বিপুল পরিমাণ ছোলা, খেজুর, ডাল, চিনিসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যের আমদানি বেড়েছে। বেড়েছে মজুত। এছাড়া, বিশ্ববাজারে এসব পণ্যের দাম কমতির দিকে থাকায় দেশের বাজারেও দাম কমছে।

খাতুনগঞ্জে ছোলাসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের আমদানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মাহাবুবুল আলম চৌধুরী জানান, চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে অস্ট্রেলিয়ান ছোলা এখন বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ৩২০০ টাকায়। যার প্রতি কেজির মূল্য ৮৫ টাকা। গত বছর একই মানের ছোলার দাম ছিল ৯৫ টাকা থেকে ১০০ টাকা। ভারতীয় ছোলার দামও গত বছরের তুলনায় কেজিতে কমেছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। গত বছর যে ভারতীয় ছোলার দাম ছিলো ১০৫ থেকে ১১০ টাকা। সেই ছোলা বর্তমান বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ৯৪ টাকা। 

আমাদানিকারকদের সূত্রে জানা গেছে, রমজানকে সামনে রেখে এখন পর্যন্ত ৮০ হাজার টনের বেশি ছোলা আমদানি করেছে চট্টগ্রামের আমদানিকারকরা। পর্যাপ্ত মজুত থাকার কারণে ছোলার দাম আরো কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে গত বছরের তুলনায় এ বছর মশুর ডাল, ছোলার ডাল এবং খেসারি ডালের দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বর্তমানে এই বাজারে মোটা মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৭২ টাকা কেজি দরে। গত বছর একই সময়ে এই ডালের দাম ছিল ৮৫ টাকা। খেসারি ডাল কেজিতে ২০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি দরে। গত বছর দাম ছিল প্রতিকেজি ৯০ টাকা। মটর ডাল এবং সাদা মটর বিক্রি হচ্ছে ৪২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গত বছর ছিলো ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি।

সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে চিনির দামে। বর্তমানে চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে প্রতি মণ চিনি বিক্রি হচ্ছে ৩২৫০ টাকা। খুচরা বাজারে কেজিতে ৮৮ টাকা। গত বছর এই সময়ে চিনির দাম ছিলো প্রতিকেজি ১২০ টাকা।

খাতুনগঞ্জের চিনি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মুরাদ হোসেন জানান, পর্যাপ্ত মজুতের কারণে চিনির বাজারে স্বস্থি রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এই বছর প্রতিকেজি চিনির দাম ১০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত কম। রমজানে চিনির চাহিদা অনেক বেশি থাকে। সেই বিবেচনায় পর্যাপ্ত চিনির মজুত রয়েছে। ফলে দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কোনো শঙ্কা নেই।

চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানির পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, এই বছর নির্বিঘ্নে এলসি খুলে আমদানি করার সুযোগ থাকায় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপণ্য আমদানি করছেন। গত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে ছোলা, ডাল, খেজুর, মসলা এবং বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্যের আমদানি বেড়েছে। যার পরিমাণ প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার টন। বিশেষ করে ছোলার আমদানি বেড়ে হয়েছে ৬ হাজার ৬৪৭ টন। খেজুর এসেছে ৪ হাজার টনের বেশি। সয়াবিন তেলের আমদানি বেড়েছে প্রায় ৪৪ হাজার টন।

খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, দেশে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসা ও আমদানির অনুকূল পরিবেশ থাকার ফলে এবার সব ব্যবসায়ী নির্বিঘ্নে এলসি খুলে পণ্য আমদানি করতে পারছেন। ফলে পাইকারি বাজারে পণ্যের ঘাটতি নেই। এ কারণে দাম স্থিতিশীল এবং কোনো কোনো পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় অনেক কমেছে।

ঢাবা/রেজাউল/মাসুদ

সম্পর্কিত নিবন্ধ