ব্ল্যাক ফ্রাইডেতে বিক্রি বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, কিন্তু ধনী-গরিবে পার্থক্য
Published: 30th, November 2025 GMT
যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বে কেনাকাটার সবচেয়ে বড় দিন হচ্ছে ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’। নভেম্বর মাসের শেষ শুক্রবার এই দিনটি তাঁদের জীবনে বিশেষ ক্ষণ হয়ে আসে। এবারের ব্ল্যাক ফ্রাইডেতে মার্কিন ক্রেতারা গত বছরের চেয়ে ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেশি কেনাকাটা করেছেন।
মাস্টারকার্ড স্পেন্ডিং পালসের তথ্যানুসারে, এ বছর মার্কিন ক্রেতারা এই ব্ল্যাক ফ্রাইডেতে অনলাইনে ১১ দশমিক ৮ বিলিয়ন বা ১ হাজার ১৮০ কোটি ডলার ব্যয় করেছেন। ২০২৪ সালের তুলনায় যা ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। অ্যাডোবি অ্যানালিটিকসের তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে এই পরিসংখ্যান দিয়েছে তারা।
আদতে এই প্রবৃদ্ধি ভালো মনে হলেও বাস্তবতা সে রকম নয় বলে মনে করেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা। দেশটির অর্থনীতিবিষয়ক লেখক রিক নিউম্যান সিএনএনকে বলেন, এ বছর মূল্যস্ফীতির পরিমাণ ৩ শতাংশ। ফলে কেনাকাটা ৪ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধির অর্থ হলো, কার্যত তা বেড়েছে ১ শতাংশের কিছু বেশি। এই প্রবৃদ্ধিকে তেমন একটা উল্লেখযোগ্য বলা যায় না।
আরেকটি বিষয় হলো, কেনাকাটা কারা করছেন, সেটা। ফেডারেল রিজার্ভ মানুষের ব্যক্তিগত পর্যায়ের ব্যয়ের পরিসংখ্যান সংরক্ষণ করে, এর নাম হলো বিজ বুক। সেই বিজ বুকের তথ্যানুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের নিচের সারির মানুষের কেনাকাটা কমেছে। যদিও ফেড দেখেছে, উচ্চ আয়ের ক্রেতাদের কেনাকাটা বাড়ছেই। বিলাসবহুল পণ্য থেকে ভ্রমণ—সব খাতেই তাদের ব্যয় বেড়ে চলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা খাতবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ক্লাউডিয়া লোমবানা বলেন, এবারের ব্ল্যাক ফ্রাইডেতে ভোক্তারা জিনিসপত্র কিনেছেন কম, কিন্তু এসবের গড় দাম এবার বেশি। যাঁদের হাতে অঢেল অর্থ আছে, তাঁরা ইচ্ছেমতো ব্যয় করলেও সীমিত আয়ের মানুষেরা কেবল বাজেট করেছেন, অর্থাৎ হিসাব করে খরচ করেছেন।
এই প্রবণতাকে বলা হয় কে (ইংরেজি কে অক্ষর) আকৃতির অর্থনীতি। এ ধরনের ব্যবস্থায় উচ্চ আয়ের মানুষেরা স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ ও বাড়ির উচ্চ মূল্যের বদৌলতে বিপুল পরিমাণে ব্যয় করতে পারেন। কিন্তু নিম্ন আয়ের মানুষেরা কেবল কাটছাঁট করেন। উচ্চ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে তাঁরা শুধু ছাড় খোঁজেন।
নিউম্যান আরও বলেন, অর্থনীতিতে দুটি ভাগ হয়েছে। কারও যদি স্টক বা বাড়ি থাকে এবং তিনি উঁচু সমাজের মানুষ হন, তাঁর কোনো চিন্তা নেই, তাঁর পক্ষে হাত খুলে খরচ করা সম্ভব। কিন্তু এই কে অক্ষরের বা কে আকৃতির অর্থনীতির নিচের সারিতে যাঁদের অবস্থান, নিজেদের চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ কেবল বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশনের (এনআরএফ) তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫ শতাংশ ভোক্তা মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে দাম আরও বাড়বে। ফলে তাঁদের কেনাকাটায় আরও বড় প্রভাব পড়বে।
নিউম্যান বলেন, কেউ পণ্য ধরে ধরে দেখছে না, ট্রাম্পের শুল্কের কারণে সেটির খরচ ৪ শতাংশ বাড়ছে নাকি ১০ শতাংশ। কিন্তু বিষয়টি মানুষের মাথায় আছে বলে মনে করেন তিনি।
সঠিক দামে সঠিক পণ্য—বর্তমান সময়ের ভোক্তাদের কাছে বিষয়টি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভোক্তা আস্থার সূচক নিম্নগামী, চাকরি বৃদ্ধির হার কমে গেছে। আরেকটি বিষয় হলো, ফেডারেল সরকারের দীর্ঘ অচলাবস্থা (শাটডাউন শেষ হয়েছে)। সে কারণে স্বল্প আয়ের মানুষের খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি সাময়িক বন্ধ থাকায় তাঁদের খরচ কমাতে হচ্ছে।
বাস্তবতা হলো, পণ্য ও সেবা সাধারণ আমেরিকানদের জন্য ক্রমেই ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। এ কারণে ক্রেতারা এখন আরও বাছাই করে খরচ করছেন। কোথায় ভালো দামে পণ্য মিলছে, তা ঘুরে ঘুরে খুঁজছে। গৃহস্থালি পণ্য, পোশাক বা ইলেকট্রনিকস—কোথায় গেলে এসব জিনিস কম দামে পাওয়া যায়, সেই খোঁজ করছেন তাঁরা।
এবারের শীতকালীন ছুটির মৌসুমে চাপের মধ্যেও ক্রেতারা হাত খুলবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: য ক তর ষ ট র র আয় র ম ন ষ র র অর থ কর ছ ন দশম ক আরও ব
এছাড়াও পড়ুন:
প্রেমের গল্প নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে ধানুশ-কৃতি: বক্স অফিসের হালচাল কী
আনন্দ এল রাই নির্মিত মিউজিক্যাল-রোমান্টিক-ড্রামা ঘরানার সিনেমা ‘তেরে ইশক মে’। এতে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন দক্ষিণী সিনেমার তারকা ধানুশ ও বলিউড অভিনেত্রী কৃতি স্যানন। গত ২৮ নভেম্বর, বিশ্বের ২ হাজার পর্দায় মুক্তি পেয়েছে এটি। চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে।
অমর উজালা পত্রিকায় প্রকাশিত চলচ্চিত্রটির সমালোচনায় কিরণ জৈন পাঁচে রেটিং দিয়েছেন তিন। তিনি লিখেছেন, “সামগ্রিকভাবে ‘তেরে ইশক মে’ সিনেমা অবশ্যই দেখা উচিত। বিশেষত তাদের যারা ভালোবাসার গল্প দেখতে পছন্দ করেন।” বলিউড হাঙ্গামা পাঁচে রেটিং দিয়েছে ৩। সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, “এটি একটি তীব্র প্রেমকাহিনি।” এ লেখায় সিনেমাটিকে ‘স্মরণীয় নাটকীয় মুহূর্ত’, প্রধান অভিনেতাদের ‘শক্তিশালী’ অভিনয়ের প্রশংসা করা হয়েছে। তবে সিনেমাটির দৈর্ঘ্য ‘অতিরিক্ত’ এবং দ্বিতীয়ার্ধ ‘দুর্বল’ বলে সমালোচনা করা হয়েছে, যা সিনেমাটির প্রভাবকে মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়।
আরো পড়ুন:
দক্ষিণী সিনেমায় কেন অভিনয় করেন না সুনীল শেঠি?
সৎপুত্র নাগা চৈতন্যকে নিয়ে যা বললেন অভিনেত্রী অমলা
হিন্দুস্তান টাইমসের ঋষভ সুরি পাঁচে রেটিং ৩ দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “আনন্দ এল রাইয়ের একটি অশান্ত, অসম প্রেম কাহিনি, যা ধানুশ ও কৃতি স্যাননের শক্তিশালী অভিনয়ে উজ্জ্বল হয়েছে।” ইন্ডিয়া টুডের সানা ফারজিন পাঁচে রেটিং ২.৫ দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “তেরে ইশক মে’ সিনেমায় জটিল, টক্সিক লাভ ও আবেশের গল্প দেখানোর চেষ্টা করেছেন পরিচালক। শক্তিশালী অভিনয় থাকার পরও ক্রুটিযুক্ত গল্প দর্শকদের অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলে। তাছাড়া নিউজ১৮, টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি পাঁচে রেটিং তিন দিয়েছে।
গত দুই দিনে বক্স অফিসে কেমন সাড়া ফেলেছে ‘তেরে ইশক মে’ সিনেমা? বলি মুভি রিভিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত বলিউডের ৪৩টি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। মুক্তির প্রথম দিনে সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমার তালিকায় সবার শীর্ষে রয়েছে ‘ছাবা’ (২৯ কোটি রুপি)। এ তালিকায় ‘তেরে ইশক মে’ সিনেমার অবস্থান অষ্টম (১৫.২৫ কোটি রুপি)। সিনেমাটি দ্বিতীয় দিনে আয় করে ১৬.২৫ কোটি রুপি।
স্যাকনিল্ক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ‘তেরে ইশক মে’ সিনেমা দুই দিনে ভারতে আয় করেছে ৩৯ কোটি রুপি (গ্রস)। বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৪২ কোটি রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫৭ কোটি ২৭ লাখ টাকার বেশি)।
অস্থির ও আবেগপ্রবণ এক তরুণের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ধানুশ। গল্পে কৃতি স্যাননের প্রেমে পড়েন তিনি। কলেজজীবনে সম্পর্ক জমে উঠলেও পরে মুক্তি অর্থাৎ ধানুশ অন্য এক পুরুষকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়, আর সেখান থেকেই গল্প মোড় নেয় ভিন্ন দিকে। এ আর রাহমানের সংগীত পরিচালনায় সিনেমাটির গানগুলো মুক্তির আগে থেকেই বেশ শ্রোতাপ্রিয় হয়েছে।
ধানুশ-কৃতি ছাড়াও সিনেমাটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন—প্রকাশ রাজ, প্রিয়াংশু, টোটা রায় চৌধুরী, জয়া ভট্টাচার্য প্রমুখ। ভূষণ কুমার, কৃষ্ণা কুমার, আনন্দ এল রাই প্রযোজিত এ সিনেমা নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৮৫ কোটি রুপি।
ঢাকা/শান্ত