২০২৪ সালে ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলন দমন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রাণঘাতী অস্ত্র চালানোর অনুমোদন দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে বিবিসি।

মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, তাদের বিবিসি আই ইউনিট ফাঁস হওয়া একটি অডিও টেপ যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে।

চলতি বছরের মার্চে অনলাইনে ফাঁস হওয়া ওই অডিওতে শোনা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ‘প্রাণঘাতী অস্ত্র’ ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “যেখানেই পাবে, গুলি করবে।”

গত ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন করতে হত্যা ও নির্বিচার গুলির একাধিক বড় অভিযান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ ও তদারকিতেই হয়েছিল। ১ জুলাই থেকে ১৫ অগাস্টের মধ্যে এক হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে, যাদের বেশিরভাগই বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবহৃত প্রাণঘাতী অস্ত্র, সামরিক রাইফেল এবং শটগানের গুলিতে নিহত হন।

বিবিসি জনিয়েছে, অজ্ঞাতপরিচয় একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথনের ফাঁস হওয়া ওই অডিও রেকর্ড এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। এর মাধ্যমে বলা যায়, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর সরাসরি অনুমতি দিয়েছিলেন তিনি।

বিবিসি আই ফাঁস হওয়া যে অডিও টেপ যাচাই করে জানিয়েছে, এটি ছিল ১৮ জুলাইয়ের ঘটনা।

বিষয়টি সম্পর্কে জানেন, এমন একজনের বরাতে বিবিসি লিখেছে, শেখ হাসিনা ওই সময়েতার সরকারি বাসভবন গণভবনে ছিলেন। বিক্ষোভ তখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশের গুলিতে আন্দোলনকারীদের হতাহত হওয়ার বহু ছবি ও ভিডিও তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছিল। টেলিফোনে শেখ হাসিনার ওই নির্দেশের পরের কয়েক দিনে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ দমাতে পুলিশের হাতে ‘সামরিক মানের রাইফেল’ দেওয়া এবং তা ব্যবহৃত হওয়ার কথা পুলিশি নথিতে লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল।

বিবিসি লিখেছে, বাংলাদেশ সরকারের নজরদারি সংস্থা এনটিএমসি সে সময় শেখ হাসিনার অনেকগুলো অডিও কল রেকর্ড করে। তারই একটি কল রেকর্ড যাচাই করে দেখেছে বিবিসি আই। ১৮ জুলাইয়ের কল রেকর্ডটি শেখ হাসিনার অন্য অডিওর সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করার জন্য বিবিসি ওই অডিও টেপ অডিও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান ইয়ারশটকে দিয়েছিল।

ইয়ারশট জানিয়েছে, অডিওটি ভুয়া বা সম্পাদিত নয়। এটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে–এমন সম্ভাবনাও খুব কম।

ইয়ারশটের বিশেষজ্ঞদের মনে হয়েছে, ফাঁস হওয়া অডিওটি সম্ভবত এমন একটি ঘরে রেকর্ড করা হয়েছে যেখানে ফোনকলটি লাউড স্পিকার শোনা হচ্ছিল, কারণ সেখানে স্বতন্ত্র টেলিফোনিক ফ্রিকোয়েন্সি এবং বাইরের শব্দ ধরা পড়েছে।

রেকর্ডটিজুড়ে ইলেকট্রিক নেটওয়ার্ক ফ্রিকোয়েন্সি (ইএনএফ) শনাক্ত করেছে ইয়ারশট, যা সাধারণত একটি রেকর্ডিং ডিভাইস ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হওয়ার কারণে ধরা পড়ে। এটা ইঙ্গিত দেয় যে ওই অডিওটি ‘ম্যানিপুলেট’ করা হয়নি।

ইয়ারশট শেখ হাসিনার কথাও বিশ্লেষণ করেছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বাক্য উচ্চারণ, স্বরের উঠানামা এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের শব্দ পরীক্ষা করে তারা ‘নয়েজ ফ্লোর লেভেল’ একই রকম পেয়েছে। কৃত্রিমভাবে অডিওটি তৈরি করার কোনো প্রমাণ তারা খুঁজে পায়নি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলির বিশেষ পরামর্শক, ব্রিটিশ মানবাধিকার আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান বিবিসিকে বলেছেন, “সে সময় হাসিনার ভূমিকা প্রমাণ করার জন্য এই রেকর্ডিংগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো স্পষ্ট ও সঠিকভাবে যাচাই করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য প্রমাণের সঙ্গেও এগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ।”

ঢাকা/শাহেদ

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর য চ ই কর র কর ড স হওয় ব যবহ

এছাড়াও পড়ুন:

খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া চাইলেন ডিপজল

রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তার অসুস্থতার খবরে উদ্বিগ্ন দেশবাসী। দলমত, শ্রেণি, ধর্ম নির্বিশেষে সবাই দোয়া করছেন আপসহীন এই নেত্রীর জন্য। ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজলও এ তালিকায় রয়েছেন। 

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন ডিপজল তার ফেসবুকে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার একটি ছবি পোস্ট করে দোয়া প্রার্থনা করেন। এই খল অভিনেতা বলেন, “প্রিয় দেশবাসী, আমাদের প্রিয় দেশনেত্রীর দ্রুত সুস্থতার জন্য সবাই আন্তরিকভাবে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। আপনাদের প্রতিটি দোয়া হোক তার জন্য আরোগ্যের সৌরভ, শান্তির ছায়া এবং নতুন শক্তির প্রেরণা।” 

আরো পড়ুন:

মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের কর্মবিরতি, রোগীদের ভোগান্তি চরমে

নোয়াখালীতে ভুল চিকিৎসায় তরুণীর মৃত্যুর অভিযোগ

৮০ বছর বয়সি খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছেন। গত রবিবার (২৩ নভেম্বর) শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। 

জানা গেছে, খালেদা জিয়ার কিডনির কার্যকারিতা কমে যাওয়ায় তার শরীরে, বিশেষ করে ফুসফুসে মাত্রাতিরিক্ত পানি জমে যায় এবং ভীষণ শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। এ পরিস্থিতিতে গত বুধবার থেকে তাকে ডায়ালাইসিস দেওয়া হচ্ছে। শরীরের পানি কমানো যাচ্ছিল না। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। সচেতন থাকলেও সাড়া-শব্দহীন হয়ে পড়েন তিনি। 

তবে শুক্রবার রাত থেকে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সামান্য অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়। গতকাল সকালে তিনি একটু কথা বলেন। গতকাল সারা দিন খালেদা জিয়া ডায়ালাইসিসে ছিলেন। কয়েক দিনের ডায়ালাইসিস পরবর্তী শারীরিক অবস্থা দেখে মেডিকেল বোর্ড নতুন চিকিৎসাব্যবস্থা নেবে। 

রবিবার (৩০ নভেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে।

ঢাকা/শান্ত

সম্পর্কিত নিবন্ধ