দেশে আবার ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা যাতে তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাই একমত: আলী রীয়াজ
Published: 10th, July 2025 GMT
দেশে আবার কোনোভাবে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা যাতে তৈরি হতে না পারে, সে ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলো ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশন একমত। এ কথা বলেছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় ধাপের ১১তম দিনের আলোচনার শুরুতে আলী রীয়াজ এ কথা বলেন।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি বলেন, ‘আমাদের সবার লক্ষ্য এক। আমরা একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রের কথা বলছি, যাতে করে ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণ করা না হয়, সেটার কথা বলছি। নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষার কথা বলছি। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলছি। এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যেন এমন ব্যবস্থা তৈরি করা যায়, যাতে এ দেশে আবার কোনোভাবে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা তৈরি না হয়, সেটি নিশ্চিত করা—এই লক্ষ্যগুলোর ব্যাপারে, উদ্দেশ্যগুলোর ব্যাপারে আমরা সবাই একমত।’
আজকের আলোচনায় প্রধান বিচারপতি নিয়োগ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, জরুরি অবস্থা ঘোষণা বিষয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে আগেও আলোচনা হয়েছিল, তবে ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি।
আজকের আলোচনায় অংশ নিয়েছে বিএনপি, এনসিপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, গণসংহতি আন্দোলনসহ ৩০টি রাজনৈতিক দল।
আলী রীয়াজ বলেন, এই আলোচনা তাঁদের জাতীয় সনদ তৈরির ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। অনেকগুলো বিষয়ে একমত হওয়া গেছে। পাশাপাশি দরকার হলো, রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য মৌলিক বিষয়গুলোতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা। কারণ, এখানে যাঁরা আছেন, তাঁদের সবারই লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এক। সেগুলো বাস্তবায়ন করাই হচ্ছে তাঁদের সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে যতটুকু সম্ভব, ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে সবাইকে নিয়ে একটি জাতীয় সনদ তৈরি করা প্রধান লক্ষ্য বলে জানান জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি। তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার বলেছি, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে জুলাই মাসের মধ্যেই যেন আমরা এ কাজ সম্পন্ন করতে পারি।’
যে বিষয়গুলোতে ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি, সেগুলো নিয়ে আবার আলোচনার মাধ্যমে একটা মীমাংসার জায়গায় যাওয়ার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেন আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, ‘এটাই আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। এর বাইরে আমাদের কারও কোনো উদ্দেশ্য নেই।’
যে বিষয়গুলোতে আগে আলোচনায় অনেক দূর পর্যন্ত অগ্রসর হওয়া গেছে, সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে চান বলে জানান জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ব ষয়গ ল ব যবস থ আম দ র লক ষ য
এছাড়াও পড়ুন:
সভাপতি জামায়াতের, সাধারণ সম্পাদকসহ ১০ পদে বিএনপি জয়ী
জয়পুরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত ইসলামী–সমর্থিত বাংলাদেশ ল ইয়ার্স কাউন্সিল প্যানেলের আবদুল মোমিন ফকির। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদকসহ ১০টি পদে জয় পেয়েছে বিএনপি-সমর্থিত প্যানেল।
গতকাল শনিবার সকাল নয়টা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত জেলা আইনজীবী ভবনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমান ভোটের ফলাফলের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ১১টি পদের বিপরীতে ১৮ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। গ্রন্থাগার, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, নিরীক্ষা সম্পাদক এবং তিনটি সদস্য পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ছয়টি পদের জন্য ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াত–সমর্থিত প্যানেল থেকে কেবল সভাপতি পদে আবদুল মোমিন ফকির নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপি-সমর্থিত প্যানেল সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ১০টি পদেই জয় পেয়েছে। খায়রুল আহসান সাখিদার সহসভাপতি ও শহিদুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।