ইন্টার মায়ামির হয়ে লিওনেল মেসির প্রতিটি ম্যাচ যেন নতুন কোনো কীর্তির জন্ম দিচ্ছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। ন্যাশভিল এসসির বিপক্ষে জোড়া গোল করে মেসি শুধুই দলকে জেতাননি, বরং গড়েছেন এক নজিরবিহীন রেকর্ড; মেজর লিগ সকারে টানা পাঁচ ম্যাচে একাধিক গোল করার প্রথম খেলোয়াড় এখন তিনি। বাংলাদেশ সময় রোববার (১৩ জুলাই) সকালে ফোর্ট লডারডেলে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ইন্টার মায়ামি ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়, আর দুটি গোলই আসে মেসির জাদুকরী বাঁ পা থেকে।

ম্যাচের ১৭ মিনিটেই আলো ছড়ান আর্জেন্টাইন মহাতারকা। অসাধারণ এক ফ্রি কিকে বল পাঠান সরাসরি জালে, যা তার ক্যারিয়ারের ৬৯তম ফ্রি কিক গোল। ইন্টার মায়ামির হয়ে এটি তার ষষ্ঠ ফ্রি কিক গোল, আর এমএলএসে টানা ষষ্ঠ ম্যাচে গোল করার নজিরও গড়ে ফেলেছেন এদিন। দ্বিতীয়ার্ধের ৬২ মিনিটে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক জো উইলিসের একটি ভুল পাস কেড়ে নিয়ে আবারও নিখুঁত দক্ষতায় বল জালে ঠেলেন মেসি। যেন ভুল ধরিয়ে দেওয়া নয়, বরং প্রতিপক্ষকে শাস্তি দেওয়ার নিপুণ উপায় জানার নামই মেসি।

এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ২০১২ সালের পর প্রথমবারের মতো কোনো লিগে টানা পাঁচ ম্যাচে একাধিক গোল করলেন তিনি। সেই সময় বার্সেলোনার হয়ে করেছিলেন ছয় ম্যাচে টানা জোড়া গোল, এবার মায়ামির জার্সিতে সেই পুরনো মেসিকে দেখা যাচ্ছে নতুন চেহারায়। ১৫ ম্যাচে ইতিমধ্যেই ১৬ গোল করে ফেলেছেন, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ গোলদাতা ন্যাশভিলের স্যাম সারিজের সঙ্গে তাকে যৌথভাবে শীর্ষে বসিয়েছে। যদিও মেসি খেলেছেন ছয় ম্যাচ কম।

ন্যাশভিলের হয়ে একমাত্র সান্ত্বনার গোলটি করেন হানি মুখতার, অ্যান্ডি নাজারের কাছ থেকে পাওয়া এক পাসে। কিন্তু জয়টা শেষ পর্যন্ত ধরে রাখে মায়ামিই, যারা ধারাবাহিকভাবে জিতে পাঁচ ম্যাচের জয়ের রেকর্ড গড়েছে এবং পূর্বাঞ্চলীয় কনফারেন্সের শীর্ষ দুই দল ফিলাডেলফিয়া ও সিনসিনাটির সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে এনেছে মাত্র পাঁচ পয়েন্টে।

ম্যাচ শেষে মায়ামির কোচ হাভিয়ের মাসচেরানো মেসির ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “সে যা করছে, আমরা ভাবতাম সেটা আর কখনও দেখা যাবে না। লিও এক বিশেষ খেলোয়াড়, ইতিহাসের সেরা।” সঙ্গে যোগ করেন, “বুসকেটস আর মেসির বোঝাপড়া অতুলনীয়—তারা একে অপরকে না দেখেও জানে কার কোথায় থাকা উচিত। দ্বিতীয় গোলটাই তার প্রমাণ।”

মেসির পায়ে বল থাকলে শুধু গোল আসে না, আসে ইতিহাস। আর সেই ইতিহাসেই বারবার নিজের নাম তুলছেন ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি।

ঢাকা/আমিনুল 

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর গ ল কর

এছাড়াও পড়ুন:

এক আর্জেন্টাইনের হ্যাটট্রিকে মেসিদের বড় জয়, প্রথমবার কাপ ফাইনালে ইন্টার মায়ামি

ক্লাব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমএলএস কাপ ফাইনালে উঠেছে ইন্টার মায়ামি। আজ প্লে-অফের ইস্টার্ন কনফারেন্স ফাইনালে নিউইয়র্ক সিটি এফসিকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে লিওনেল মেসির দল।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ লিগে ৩০টি দল ইস্টার্ন ও ওয়েস্টার্ন কনফারেন্সে ভাগ হয়ে খেলে। দুই অংশের চ্যাম্পিয়নরা খেলে এমএলএস কাপ ফাইনাল। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত মায়ামি এর আগে তিনবার প্লে-অফে খেললেও কনফারেন্স সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি। এবার সেমি ও ফাইনাল জিতে নাম লিখিয়েছে কাপ ফাইনালেই।

চেজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আজকের কনফারেন্স ফাইনালে মায়ামি জিতেছে তাদেও আলেন্দের নৈপুণ্যে। ২৬ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন হ্যাটট্রিক করেছেন। একটি গোল করেছেন আরেক আর্জেন্টাইন মাতেও সিলভেত্তি। অন্য গোলটি তালেসকো সেগোভিয়ার। মেসি তাঁর রোজারিওর ছেলে সিলভেত্তির গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন।

আর্জেন্টাইনময় ম্যাচটিতে আলেন্দে মায়ামিকে এগিয়ে দেন ১৪তম মিনিটে। এই গোলে অ্যাসিস্ট ছিল আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার রদ্রিগো দি পলের। ২৪তম মিনিটে আলেন্দে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোল করেন হেডে, তাঁকে বক্সে দুর্দান্ত এক ক্রস দেন জর্দি আলবা। ম্যাচের ৩৭ মিনিটে নিউইয়র্ক সিটির জাস্টিন হাক এক গোল শোধ করে দিলে মায়ামি বিরতিতে যায় ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে।

৬৭তম মিনিটে মেসি বক্সের মধ্যে ঘেরাওয়ে পড়লে বল বাড়ান ফাঁকায় থাকা সিলভেত্তির দিকে। ১৯ বছর বয়সী এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বল জালে জালে পাঠাতে ভুল করেননি। মায়ামি জয়ের বিষয়ে প্রায় নিশ্চিত হয় ৮৩তম মিনিটে।

এ সময় বক্সের ভেতর আলবার ব্যাক পাস পেয়ে সেগোভিয়া গোল করে ব্যবধান ৪-১ করে ফেলেন। ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে ইয়ানিক ব্রাইটের সহায়তায় নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন আলেন্দে। মায়ামি মাঠ ছাড়ে ৫-১ গোলের বড় জয় নিয়ে।

আগামী ৬ ডিসেম্বর এমএলএস কাপ ফাইনালে মায়ামি খেলবে ওয়েস্টার্ন কনফারেন্স ফাইনালে সান ডিয়েগো ও ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসের মধ্যকার জয়ী দলের বিপক্ষে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • ইতিহাস গড়ে প্রথমবার এমএলএস কাপের ফাইনালে মায়ামি
  • এক আর্জেন্টাইনের হ্যাটট্রিকে মেসিদের বড় জয়, প্রথমবার কাপ ফাইনালে ইন্টার মায়ামি