ঢাকা থেকে স্বামী ফিরেছেন। স্ত্রী দরজা খুলতে দেরি করায় শাবল মেরে খুন করা হয়েছে। মাগুরার শালিখা উপজেলার হরিশপুর গ্রামে গতকাল শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া সাত স্থানে আরও আটজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

মাগুরায় নিহতের নাম সোনালী খাতুন (৩৭)। তিনি হরিশপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী ও ছান্দড়া গ্রামের মজিদ মণ্ডলের কন্যা।

নিহতের মেয়ে মদিনা খাতুন জানান, তাঁর বাবা ঢাকায় রড মিস্ত্রির কাজ করেন। তিনি সকালে ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরেছেন। দরজা খুলতে দেরি করায় মায়ের সঙ্গে ঝগড়া হয়। এ সময় মায়ের মাথায় শাবল দিয়ে আঘাত করলে ঘটনাস্থলে তিনি মারা যান।

আশুলিয়ায় সেপটিক ট্যাঙ্কে শিশুর লাশ

সাভারের আশুলিয়ায় শুক্রবার রাতে নির্মাণাধীন বাড়ির সেপটিক ট্যাঙ্কের ভেতর এক শিশুর লাশ পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার বিকেলে আশুলিয়ার জিরানী কোনাপাড়ার রোজেল মিঞার ছেলে বায়েজিদ ইসলাম (৮) নিখোঁজ হয়। রাতে বিকেএসপি পাবলিক স্কুলের শিক্ষিকা নাসরিন খানমের নির্মাণাধীন বাড়ির সেপটিক ট্যাঙ্কের ভেতরে লাশ পায় স্থানীয়রা। 

আশুলিয়া থানার এসআই আকরাম হোসেন বলেন, হত্যারহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।

গোপালগঞ্জে লাশ নিয়ে মিছিল

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে নৈশপ্রহরী গৌতম গাইনের (৩৫) লাশ নিয়ে মিছিল করেছেন এলাকাবাসী। গতকাল শনিবার বিকেল ৪টায় জলিরপাড় জেকেএমবি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ বিক্ষোভ করা হয়।

এর আগে গত বুধবার রাতে নিখোঁজ হন গৌতম। বৃহস্পতিবার থানায় জিডি করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় সদর থানা পুলিশ কংশুর মধুমতী বিলরুট চ্যানেল থেকে লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল দুপুরে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মুকসুদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শীতল চন্দ্র পাল বলেন, নিহতের ফোনের কললিস্ট তলব করা হয়েছে। এটি হাতে পাওয়ার পর হত্যারহস্য বেরিয়ে আসবে।

নড়াইলে খেলা নিয়ে সংঘর্ষে নিহত

নড়াইলের কালিয়ায় ফুটবল খেলা নিয়ে সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে কুলশুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জিল্লুর রহমান সরদার (৫৫) মৃত হাসেম সরদারের ছেলে।

কালিয়া থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এ ঘটনায় দু’জনকে আটক করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গাইবান্ধায় ঝগড়া থামাতে গিয়ে খুন

কচুক্ষেত নিয়ে ভাইবোনের মধ্যে ঝগড়া। এটি থামাতে যান তাদের চাচাতো ভাই ফুয়াদ মণ্ডল (৪৫)। হঠাৎ তাঁর ওপর চড়াও হন মামুন মণ্ডল। এক পর্যায়ে মামুন কাঁচি দিয়ে ফুয়াদের বুকে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলে মারা যান ফুয়াদ। গত শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটেছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার মিরপুর গ্রামে।

ঘটনার পর স্থানীয়রা মামুনকে (৩০) পুলিশের হাতে তুলে দেন। সাদুল্লাপুর থানার ওসি তাজউদ্দিন খন্দকার বলেন, মামুন হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।

কুমিল্লায় যুবকের গলাকাটা লাশ

কুমিল্লার তিতাসে সড়কের পাশ থেকে এক যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সকালে দড়িকান্দিতে হোমনা-গৌরীপুর আঞ্চলিক সড়কের পূর্ব পাশে এটি পাওয়া যায়। এ সময় লাশের পাশে পড়েছিল রক্ত মাখা ছুরি। নিহত ইমতিয়াজ রিয়াজ (২৪) বরিশালের কাজীরহাট থানার পূর্ব রতনপুর গ্রামের দুলাল হাওলাদারের ছেলে।

তিতাস থানার ওসি মো.

শহীদ উল্যাহ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর পরিচয় শনাক্ত হয়েছে।

নেত্রকোনায় দম্পতির লাশ উদ্ধার

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার নত্তিপাড়া গ্রামে দম্পতির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন–রাবেয়া পারভীন (২৮) ও তাঁর স্বামী মো. রাশেদ মিয়া (৩৩)। কলমাকান্দা থানার ওসি মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। স্ত্রীকে হত্যা করে স্বামী আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

সুন্দরগঞ্জে ছুরিকাঘাতে চাচা খুন

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তালুক বেলকা গ্রামে শুক্রবার রাতে আমপাড়া নিয়ে ঝগড়ায় ভাতিজার ছুরিকাঘাতে চাচা জিয়ারুল খুন হয়েছেন। সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি মো. আব্দুল হাকিম আজাদ বলেন, মামলার প্রস্তুতি চলছে।

(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন স্থানীয় প্রতিনিধিরা।)

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: শ ক রব র উপজ ল র গতক ল এ ঘটন তদন ত

এছাড়াও পড়ুন:

নিহত ২ জন সন্ত্রাসী পলাশ ও কালা লাভলু বাহিনীর সদস্য: পুলিশ

প্রকাশ্য দিবালোকে খুলনার আদালত পাড়ায় গুলি ও ছুরিকাঘাতে হত্যার শিকার ফজলে রাব্বি রাজন (৩৮) ও হাসিব হাওলাদার (৪৫) সন্ত্রাসী পলাশ ও কালা লাভলু বাহিনীর সদস্য ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে। সেই মামলায় আজ রবিবার (৩০ নভেম্বর) আদালতে হাজিরা দেওয়ার জন্য আসলে তাদের হত্যা করা হয়। 

এ হত্যাকাণ্ডের সময় রাব্বি ও হাসিবের সহযোগী রুম্মান (৩০) আহত হয়। খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম হতাহতের তথ্য জানান। 

আরো পড়ুন:

কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক

রাজশাহীতে হোটেলে যুবকের ঝুলন্ত লাশ

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) ত. ম. রোকনুজ্জামান রাইজিংবিডি-কে বলেন, ‘‘নিহত রাব্বি ও হাসিব অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী পলাশ ও কালা লাভলু বাহিনীর সদস্য ছিলেন। গত মার্চ মাসে যৌথ বাহিনীর হাতে তারা অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়। পরে জামিনে কারাগার থেকে বের হয়ে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিচ্ছিলেন।’’

প্রকাশ্যে জনসম্মুখে ডাবল মার্ডারের ঘটনায় খুলনা নগরে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। হত্যা মিশন শেষ করে সন্ত্রাসীরা নির্বিঘ্নে চলে যেতে পারায় আদালত পাড়ার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের চারতলা ভবনের সামনের মেইন রোডের ফুটপাতে দুপুর ১২টার দিকে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীরা রাব্বি ও হাসিবকে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে। পুলিশ জানায়, রাব্বি ও হাসিব সোনাডাঙ্গা থানার একটি অস্ত্র মামলার আসামি ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাব্বি ও হাসিব আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। হাজিরা শেষে আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার সময় সন্ত্রাসী তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে হাসিব মারা যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় রাব্বিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের বিরুদ্ধে মাদক কারবারে জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে।

নিহত হাসিব খুলনা নগরের নতুন বাজার লঞ্চঘাট এলাকার মান্নফের ছেলে এবং রাব্বি রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের আব্দুর রবের মোড় এলাকার এজাজ শেখের ছেলে। 

আহত রুম্মান নগরের লবণচরা পুটিমারি এলাকার আক্তার গাজীর ছেলে। রুম্মান খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ২ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ৩১ মার্চ নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় অস্ত্র আইনের একটি মামলা করা হয়। ওই মামলায় আদালতে হাজিরা শেষে বের হওয়ার সময় আদালতের প্রধান ফটকের সামনে মেইন সড়কে আগে থেকে অবস্থানরত সন্ত্রাসীরা গুলি ও ছুরিকাঘাত করে স্থান ত্যাগ করে।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত মনে হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

সহকারী পুলিশ কমিশনার ত. ম. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘‘ঘটনার পর থেকে ঘটনাস্থলের সিসিটিভির ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। খুব দ্রুত হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’’  
 

ঢাকা/নুরুজ্জামান/বকুল 

সম্পর্কিত নিবন্ধ