সন্তানকে কুপিয়ে পুকুরে ফেলে হত্যা করলেন বাবা
Published: 7th, October 2025 GMT
লক্ষ্মীপুরে মাদকাসক্ত বাবা ফারুক হোসেন কুপিয়ে ও পুকুরে ফেলে নিজের পাঁচ বছরের মেয়ে ফারিহা সুলতানাকে (৫) হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করেছে।
সোমবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ আন্ধারমানিক গ্রামে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। ফারুক একই গ্রামের কাদের মাঝির ছেলে।
আরো পড়ুন:
মোহনগঞ্জে মুদি দোকানদারকে গলাকেটে হত্যা
শহীদ আবরার ফাহাদ বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক: ডাকসু
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ফারুক মাদকাসক্ত। ঘটনার সময় যে কোনো বিষয়ে পরিবারের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে নিজের মেয়ে ফারিহাকে দা দিয়ে কুপিয়ে আহত করে পুকুরে ফেলে দেন। ঘটনাস্থলেই শিশুটি মারা যায়।
তেওয়ারিগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ সনম্বর ওয়ার্ডের সদস্য লুৎফুর রহমান বলেন, “শিশুটিকে হত্যার পর ফারুক ঘরের ভেতর দা হাতে অবস্থান করে। আতঙ্কে স্থানীয়রা ঘরে প্রবেশ করতে পারছিল না। পরে বাড়ির বাসিন্দারা জাতীয় সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে ঘটনাটি জানান। পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছে তাকে আটক করে।”
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, “ঘটনাটি মর্মান্তিক। ঘাতককে আটক করা হয়েছে।”
ঢাকা/জাহাঙ্গীর/মাসুদ
.উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
কক্সবাজারে মাদক পাচারের দায়ে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড
কক্সবাজারের টেকনাফে ক্রিস্টালমেথ (আইস) ও ইয়াবা পাচারের মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. সিরাজুল ইসলাম।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ওয়াব্রাং এলাকার মৃত কাদের বকশের ছেলে আব্দুর রহমান (৩৩) এবং একই ইউনিয়নের মৌলভীবাজার এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে নুর মোহাম্মদ (২৮)।
মামলার নথির বরাত দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০১৬ সালের ১৬ জুন রাতে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের এমজি ব্যাংকার এলাকা দিয়ে মিয়ানমার থেকে মাদকের বড় একটি চালান পাচারের খবর পেয়ে বিজিবির একটি দল অভিযান চালায়। মিয়ানমারের দিক থেকে সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম করে ছোট দুটি বস্তা কাঁধে নিয়ে সন্দেহভাজন ৫ জনকে আসতে দেখে থামার নির্দেশ দেন বিজিবির সদস্যরা। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে লোকগুলো রাতের অন্ধকারে গ্রামের ভিতরে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ধাওয়া দিয়ে দুজনকে আটক করতে সক্ষম হলেও অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পাচারকারীদের ফেলে যাওয়া বস্তা দুটি জব্দ করা হয়। বস্তা খুলে ৪ কেজি ৩১৫ গ্রাম আইস এবং ১ লাখ ইয়াবা পাওয়া যায়। এসব মাদকের আনুমানিক দাম ২৪ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
ওই আইনজীবী জানান, এ ঘটনায় বিজিবির এক সদস্য বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে টেকনাফ থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় গত ২৪ সালের ডিসেম্বরে আদালত গ্রেপ্তার আসামি আব্দুর রহমান ও মোহাম্মদ নুরের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন। মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক দুই আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ২৫ নভেম্বর ইয়াবা পাচারের মামলায় এক রোহিঙ্গাসহ দুজনের মত্যুদণ্ড এবং দুই রোহিঙ্গার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন একই আদালত। ওই মামলায় একজনকে খালাস দেওয়া হয়।
ঢাকা/তারেকুর/রফিক