উজান থেকে হাজার হাজার গাছের গুঁড়ির সঙ্গে মরা গরু, মরা মাছ ও জ্যান্ত সাপের পর এবার দুধকুমার নদ দিয়ে ভেসে এল একটি মৃত গন্ডার।

মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের দক্ষিণ ছাট গোপালপুর গ্রামে দুধকুমার নদের চরে আটকা পরে গন্ডারটি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধারণা করা হচ্ছে, নদের প্রবল স্রোতে ভেসে আসার সময় কিছুর সঙ্গে আঘাত লেগে গন্ডারটি মারা যায়। পরে স্রোতের টানে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের এসে আটকা পরে। স্থানীয়রা জনপ্রতিনিধিদের কাছে গন্ডার আটকা পরার কথা জানান। খবর পেয়ে তিলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানোর পর কুড়িগ্রাম রেঞ্জ কর্মকর্তা সাদিকুল ইসলাম, যমুনা সেতু আঞ্চলিক যাদুঘরের কিউরেটর জুয়েল রানা, উপজেলা বন কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

কুড়িগ্রাম রেঞ্জ কর্মকর্তা সাদিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘গন্ডারটি বড় ও ভারী হওয়ায় অন্যত্র স্থানান্তর সম্ভব নয়। তাই চরের মধ্যেই গর্ত করে পুতে ফেলার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে। এছাড়া, যাদুঘরের লোকজন এসেছেন তারা এর হাড়গোড় সংগ্রহ করবেন।’’

যমুনা সেতু আঞ্চলিক যাদুঘরের কিউরেটর জুয়েল রানা বলেন, ‘‘নিরাপত্তার জন্য গন্ডারটি পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এর দেহ পচন প্রক্রিয়া দুই মাস পর্যন্ত চলবে। পচন ক্রিয়া শেষ হলে হাড়গোড় সংগ্রহ করে যমুনা সেতু আঞ্চলিক যাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে। এসব শিক্ষা ও গবেষণা কাজে ব্যবহার করা হবে।’’

ঢাকা/সৈকত/রাজীব

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর য দ ঘর

এছাড়াও পড়ুন:

কক্সবাজারে মাদক পাচারের দায়ে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

কক্সবাজারের টেকনাফে ক্রিস্টালমেথ (আইস) ও ইয়াবা পাচারের মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. সিরাজুল ইসলাম।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ওয়াব্রাং এলাকার মৃত কাদের বকশের ছেলে আব্দুর রহমান (৩৩) এবং একই ইউনিয়নের মৌলভীবাজার এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে নুর মোহাম্মদ (২৮)।

মামলার নথির বরাত দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০১৬ সালের ১৬ জুন রাতে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের এমজি ব্যাংকার এলাকা দিয়ে মিয়ানমার থেকে মাদকের বড় একটি চালান পাচারের খবর পেয়ে বিজিবির একটি দল অভিযান চালায়। মিয়ানমারের দিক থেকে সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম করে ছোট দুটি বস্তা কাঁধে নিয়ে সন্দেহভাজন ৫ জনকে আসতে দেখে থামার নির্দেশ দেন বিজিবির সদস্যরা। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে লোকগুলো রাতের অন্ধকারে গ্রামের ভিতরে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ধাওয়া দিয়ে দুজনকে আটক করতে সক্ষম হলেও অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পাচারকারীদের ফেলে যাওয়া বস্তা দুটি জব্দ করা হয়। বস্তা খুলে ৪ কেজি ৩১৫ গ্রাম আইস এবং ১ লাখ ইয়াবা পাওয়া যায়। এসব মাদকের আনুমানিক দাম ২৪ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

ওই আইনজীবী জানান, এ ঘটনায় বিজিবির এক সদস্য বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে টেকনাফ থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় গত ২৪ সালের ডিসেম্বরে আদালত গ্রেপ্তার আসামি আব্দুর রহমান ও মোহাম্মদ নুরের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন। মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক দুই আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ২৫ নভেম্বর ইয়াবা পাচারের মামলায় এক রোহিঙ্গাসহ দুজনের মত্যুদণ্ড এবং দুই রোহিঙ্গার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন একই আদালত। ওই মামলায় একজনকে খালাস দেওয়া হয়।

ঢাকা/তারেকুর/রফিক

সম্পর্কিত নিবন্ধ