গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার জৈনা বাজার এলাকায় ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে হাইওয়ে পুলিশের এক সদস্য স্থানীয় জনতা ও যাত্রীদের হাতে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জৈনা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ পার্কিংয়ের দায়ে ইমাম পরিবহনের একটি বাসকে রেকার বিল করার সময় মাওনা হাইওয়ে থানার কনস্টেবল আব্দুর রবের ওপর বাসচালক, হেলপার ও আশপাশের লোকজন একযোগে হামলা চালায়। এতে দুজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

খবর পেয়ে সালনা হাইওয়ে ফাঁড়ির অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে রাজেন্দ্রপুর এলাকা থেকে সংশ্লিষ্ট বাস ও এর চালক-সহযোগীকে আটক করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাইওয়ে পুলিশের এক সদস্য বাসের এক যাত্রীর কাছ থেকে মামলা না করার বিনিময়ে দুই হাজার টাকা ঘুষ নেন। বিষয়টি টের পেয়ে যাত্রীরা প্রতিবাদ শুরু করলে মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা ওই পুলিশ সদস্যকে ধাওয়া করে মারধর করে। পরে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, “অবৈধ পার্কিংয়ের দায়ে বাসটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সময় চালক ও স্থানীয়রা মিলে ঘুষের অভিযোগ তুলে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে।”

ঢাকা/রফিক/এস

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর হ ইওয় সদস য

এছাড়াও পড়ুন:

কক্সবাজারে মাদক পাচারের দায়ে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

কক্সবাজারের টেকনাফে ক্রিস্টালমেথ (আইস) ও ইয়াবা পাচারের মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. সিরাজুল ইসলাম।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ওয়াব্রাং এলাকার মৃত কাদের বকশের ছেলে আব্দুর রহমান (৩৩) এবং একই ইউনিয়নের মৌলভীবাজার এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে নুর মোহাম্মদ (২৮)।

মামলার নথির বরাত দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০১৬ সালের ১৬ জুন রাতে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের এমজি ব্যাংকার এলাকা দিয়ে মিয়ানমার থেকে মাদকের বড় একটি চালান পাচারের খবর পেয়ে বিজিবির একটি দল অভিযান চালায়। মিয়ানমারের দিক থেকে সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম করে ছোট দুটি বস্তা কাঁধে নিয়ে সন্দেহভাজন ৫ জনকে আসতে দেখে থামার নির্দেশ দেন বিজিবির সদস্যরা। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে লোকগুলো রাতের অন্ধকারে গ্রামের ভিতরে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ধাওয়া দিয়ে দুজনকে আটক করতে সক্ষম হলেও অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পাচারকারীদের ফেলে যাওয়া বস্তা দুটি জব্দ করা হয়। বস্তা খুলে ৪ কেজি ৩১৫ গ্রাম আইস এবং ১ লাখ ইয়াবা পাওয়া যায়। এসব মাদকের আনুমানিক দাম ২৪ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

ওই আইনজীবী জানান, এ ঘটনায় বিজিবির এক সদস্য বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে টেকনাফ থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় গত ২৪ সালের ডিসেম্বরে আদালত গ্রেপ্তার আসামি আব্দুর রহমান ও মোহাম্মদ নুরের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন। মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক দুই আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ২৫ নভেম্বর ইয়াবা পাচারের মামলায় এক রোহিঙ্গাসহ দুজনের মত্যুদণ্ড এবং দুই রোহিঙ্গার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন একই আদালত। ওই মামলায় একজনকে খালাস দেওয়া হয়।

ঢাকা/তারেকুর/রফিক

সম্পর্কিত নিবন্ধ