হাসপাতালে জিম্মি লাশ, নারায়ণগঞ্জ ডিসির হস্তক্ষেপে পরিবারের কাছে ফেরত
Published: 11th, October 2025 GMT
রাজধানী ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্তৃক্ষ রোগীর লাশ আটকে রেখে দাবি করে ১ লাখ ৭৩ হাজার টাকা বিল। এ পরিস্থিতিতে শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি হৃদয়বিদারক পোস্ট করেন নিহত রোগীর অসহায় পিতা রিংকু শরীফ।
সেখানে উল্লেখ ছিল রাজবাড়ী জেলার কালুখালি উপজেলার মাঝপাড়া গ্রামের রিংকু শরীফের মেয়ে পিংকি শরীফ শুক্রবার সকাল ৮টায় রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনের পাশে অবস্থিত বেসরকারি বিএনকে হাসপাতালে মারা গেছেন। তার নবজাতক কন্যা তখনও মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছিল। কিন্তু মৃত্যুর পরও শান্তি মিলছিল না পিংকির পরিবারের।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর লাশ আটকে রেখে দাবি করে ১ লাখ ৭৩ হাজার টাকা বিল। অসহায় পিতা রিংকু শরীফ আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে মাত্র ৪০ হাজার টাকা জোগাড় করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান লাশটি ফিরিয়ে দিতে। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাতে রাজি হয়নি।
এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজরে আসে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞার। তিনি সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনির সঙ্গে এবং বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার অনুরোধ জানান।
অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি দ্রুত বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা.
এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেরাই রিংকুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে লাশ হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেয়। অবশেষে টানা ১৪ ঘণ্টা লাশ জিম্মি রাখার পর শুক্রবার রাত ১০টার দিকে পিংকির মরদেহ ও তার নবজাতক কন্যাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বিষয়টি জানিয়ে অনুরোধ করেছিলেন। আমি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মঈনুল হাসানকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলি। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বিষয়টি সমাধান করেন। জাহিদুল ইসলাম সত্যিই একজন ভালো ও মানবিক ডিসি। তার কর্মকাণ্ড প্রশংসনীয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মঈনুল হাসান বলেন, অতিরিক্ত সচিব মহোদয়ের নির্দেশ পেয়ে আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলি। রোগীর পরিবারের আর্থিক অসুবিধার কথা জানিয়ে মানবিক কারণে লাশ হস্তান্তরের অনুরোধ করি। তারা সম্মত হন এবং তাৎক্ষণিকভাবে লাশ ও নবজাতক হস্তান্তর করা হয়। এই উদ্যোগের কৃতিত্ব প্রথমে নারায়ণগঞ্জের ডিসি সাহেবের।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে আমি আবেগতাড়িত হয়ে পড়ি। যেহেতু বিষয়টি আমার দায়িত্বপূর্ণ জেলার বাইরে ঘটেছে, তাই আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি স্যারকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিনীত অনুরোধ করি।
বাকি সব ব্যবস্থাপনা করেছেন শেখ মোমেনা মনি স্যার এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মঈনুল হাসান মহোদয়। আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি মানবিকতার হাত প্রসারিত করার জন্য।
তিনি আরও বলেন. অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি এবং ডা. মঈনুল হাসানের প্রতি আমি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব। তারা কেউ আমাকে চিনতেন না, তবুও মানবিক কারণে পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের জন্য দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাদের ভালো রাখেন।
পিংকির চাচা জিরু সর্দার জুয়েল বলেন, “তাদের সাহায্য না পেলে আমরা টাকা ছাড়া লাশ বের করতে পারতাম না। আমরা তাদের প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।”
উল্লেখ্য, পিংকিকে প্রথমে সাভার থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে এক দালালচক্রের প্রলোভনে তাকে ভর্তি করা হয় বিএনকে হাসপাতালে। শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হলেও ১ লাখ ৭৩ হাজার টাকার বিলের অজুহাতে লাশ আটকে রাখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হওয়ার পর মানবিক উদ্যোগে এগিয়ে আসেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তার দ্রুত পদক্ষেপের ফলেই অবশেষে অসহায় পরিবারের হাতে ফিরে আসে পিংকির লাশ।
উৎস: Narayanganj Times
কীওয়ার্ড: পর ব র ন র য়ণগঞ জ মঈন ল হ স ন ন র য়ণগঞ জ শ ক রব র পর ব র র ম নব ক অন র ধ ব ষয়ট
এছাড়াও পড়ুন:
বন্দরে কারানির্যাতিত বিএনপি নেতাকর্মীদের সংবর্ধনা সমাবেশ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর বন্দর থানা ও বন্দর উপজেলার কারানির্যাতিত সাহসী নেতাকর্মীদের সংবর্ধনা উপলক্ষে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণের অপরাধে অন্যায়ভাবে কারাভোগ করা এসব নেতাকর্মীদের সম্মাননা দিতে শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ, গণমানুষের প্রতিনিধি এবং তৃণমূল কর্মীরা ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেন।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান মুকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদ।
অনুষ্ঠানে মাসুদুজ্জামান তাঁর বক্তব্যে বলেন. বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, এবং আমাদের অভিভাবক তারেক রহমানের প্রতি।
আমি বিশেষভাবে অনুরোধ করছি - গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়, তাই আপনারা সবাই তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করবেন।
বন্দর ও নগর একই মায়ের দুই সন্তান। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, তবে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনকে একটি আধুনিক ও স্বপ্নের নারায়ণগঞ্জে রূপান্তরিত করা সম্ভব। আমি জানি আপনাদের গ্যাস সমস্যা, সুপেয় পানি, সেতু এবং পরিকল্পিত নগরীর প্রয়োজন রয়েছে।
সমস্যা আছে, কিন্তু সমাধানের পথও আছে। আপনারা যদি বিএনপিকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেন, তবে আপনাদের সমস্যাগুলো সমাধানে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব জাতীয় সংসদে।
আমি গতানুগতিক নয়, পরিবর্তনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। বন্দরে এখনো একটি পরিকল্পিত নগরী গড়ার সুযোগ আছে, এবং আমরা সেটি বাস্তবায়ন করতে চাই।
আমরা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করি না এবং করবোও না, তবে প্রিয় বন্দরবাসী, নগরবাসী - আপনারা সচেতন থাকবেন যাতে কেউ ধর্মকে বিভ্রান্তির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জনমানুষের দল - আমরা মানুষের অন্তরে আছি। ইন শা আল্লাহ, আগামী নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করতে পারব যে জনগণ বিএনপিকেই তাদের প্রত্যাশার জায়গা হিসেবে বেছে নিয়েছে।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক; আব্দুস সবুর খান সেন্টু, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি সদস্য; হাজী ফারুক হোসেন, অ্যাডভোকেট বিল্লাল হোসেন, মনোয়ার হোসেন শোখন, মো: আলমগীর হোসেন, অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলু।
প্রবীণ বিএনপি নেতা, বন্দর থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজী নুরুদ্দিন, বন্দর থানা বিএনপির; সভাপতি শাহেন শাহ্, মহানগর যুবদল সভাপতি মনিরুল ইসলাম সজল, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাখাওয়াতুল ইসলাম রানা, মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ- সাবেক কাউন্সিলর, সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা মুরাদ, কৃষকদলের সভাপতি এনামুল খন্দকার স্বপন। ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাজীব।
এছাড়াও নারায়ণগঞ্জের বিএনপির মহানগর, থানা, ওয়ার্ডসহ কৃষকদল, যুবদল, মহিলাদল এবং সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কারাভোগ করা নেতাকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছা, ক্রেস্ট ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। তাদের মধ্যে অনেকে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও আন্দোলনের প্রেরণা তুলে ধরেন। উপস্থিত জনতারা বলেন, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের সংগ্রাম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।