গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় জাতীয় পতাকার স্ট্যান্ডে পতাকার বদলে জুতা উত্তোলনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে ভিডিওতে থাকা এক কিশোরকে (১৭) আটক করেছে পুলিশ।

গতকাল শনিবার রাতে উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক কিশোর স্থানীয় একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সর্বানন্দ ইউপির জাতীয় পতাকার স্ট্যান্ডে ওই জুতা উত্তোলনের ঘটনা ঘটে।

ছড়িয়ে পড়া ১২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, লাল টি-শার্ট পরা এক কিশোর জাতীয় পতাকার স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে একটি জুতা উত্তোলন করছে। পতাকা টানানোর রশিতে জুতাটি বাঁধা। পাশে আরও দুই কিশোর দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছে। অন্য একজন ভিডিও করছে। ভিডিওতে এ সময় জাতীয় সংগীত বাজাতে শোনা যায়।

জানতে চাইলে সর্বানন্দ ইউপির চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ইতিমধ্যে ওই কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। কেন সে এমন কাণ্ড করেছে বলতে পারছেন না। ঘটনাটি পুলিশ তদন্ত করছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হাকিম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, ওই কিশোর কেন এমন কাজ করেছে, জানতে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে সে পুলিশকে জানিয়েছে, পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে সে ভিডিওটি করেছিল। সম্প্রতি সেটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। কেন এমন কাজ করেছিল জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। ওসি বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ওই কিশোরের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: আটক ক

এছাড়াও পড়ুন:

কক্সবাজারে মাদক পাচারের দায়ে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

কক্সবাজারের টেকনাফে ক্রিস্টালমেথ (আইস) ও ইয়াবা পাচারের মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. সিরাজুল ইসলাম।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ওয়াব্রাং এলাকার মৃত কাদের বকশের ছেলে আব্দুর রহমান (৩৩) এবং একই ইউনিয়নের মৌলভীবাজার এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে নুর মোহাম্মদ (২৮)।

মামলার নথির বরাত দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০১৬ সালের ১৬ জুন রাতে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের এমজি ব্যাংকার এলাকা দিয়ে মিয়ানমার থেকে মাদকের বড় একটি চালান পাচারের খবর পেয়ে বিজিবির একটি দল অভিযান চালায়। মিয়ানমারের দিক থেকে সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম করে ছোট দুটি বস্তা কাঁধে নিয়ে সন্দেহভাজন ৫ জনকে আসতে দেখে থামার নির্দেশ দেন বিজিবির সদস্যরা। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে লোকগুলো রাতের অন্ধকারে গ্রামের ভিতরে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ধাওয়া দিয়ে দুজনকে আটক করতে সক্ষম হলেও অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পাচারকারীদের ফেলে যাওয়া বস্তা দুটি জব্দ করা হয়। বস্তা খুলে ৪ কেজি ৩১৫ গ্রাম আইস এবং ১ লাখ ইয়াবা পাওয়া যায়। এসব মাদকের আনুমানিক দাম ২৪ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

ওই আইনজীবী জানান, এ ঘটনায় বিজিবির এক সদস্য বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে টেকনাফ থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় গত ২৪ সালের ডিসেম্বরে আদালত গ্রেপ্তার আসামি আব্দুর রহমান ও মোহাম্মদ নুরের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন। মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক দুই আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ২৫ নভেম্বর ইয়াবা পাচারের মামলায় এক রোহিঙ্গাসহ দুজনের মত্যুদণ্ড এবং দুই রোহিঙ্গার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন একই আদালত। ওই মামলায় একজনকে খালাস দেওয়া হয়।

ঢাকা/তারেকুর/রফিক

সম্পর্কিত নিবন্ধ