নিজ দেশে বাংলাদেশের ক্ষুদ্রঋণ মডেল চালুর আগ্রহ জিবুতির প্রধানমন্ত্রীর
Published: 14th, October 2025 GMT
নিজ দেশে বাংলাদেশের সফল ক্ষুদ্রঋণ মডেল চালুর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জিবুতির প্রধানমন্ত্রী আবদুল কাদের কামিল মোহাম্মেদ।
ইতালির রাজধানী রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরামের (ডব্লিউএফএফ) অনুষ্ঠানের ফাঁকে সোমবার (১৩ অক্টোবর) জিবুতির প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি এ আগ্রহ প্রকাশ করেন।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) ভোরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জিবুতিতে বাংলাদেশের সফল ক্ষুদ্রঋণ মডেল প্রয়োগ, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করেন।
জিবুতির প্রধানমন্ত্রী অধ্যাপক ইউনূসের প্রশংসা করে বলেন, “আপনি জিবুতিতে সুপরিচিত একটি নাম।” তিনি অধ্যাপক ইউনূসকে তার দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
জিবুতির প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ে আপনার পরামর্শ দরকার।” তার দেশে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম চালু করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এর জবাবে অধ্যাপক ইউনূস জিবুতির আগ্রহকে স্বাগত জানান এবং দেশটির কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে পাঠানোর পরামর্শ দেন, যাতে তারা ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন।
তিনি জানান, বাংলাদেশের ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো সারা বছরই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে, যেখানে জিবুতির কর্মকর্তারা অংশ নিতে পারেন।
অধ্যাপক ইউনূস দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “জিবুতি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও ওষুধপণ্য আমদানি করতে পারে।”
ঢাকা/ইভা
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ক ষ দ রঋণ
এছাড়াও পড়ুন:
নিহত ২ জন সন্ত্রাসী পলাশ ও কালা লাভলু বাহিনীর সদস্য: পুলিশ
প্রকাশ্য দিবালোকে খুলনার আদালত পাড়ায় গুলি ও ছুরিকাঘাতে হত্যার শিকার ফজলে রাব্বি রাজন (৩৮) ও হাসিব হাওলাদার (৪৫) সন্ত্রাসী পলাশ ও কালা লাভলু বাহিনীর সদস্য ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে। সেই মামলায় আজ রবিবার (৩০ নভেম্বর) আদালতে হাজিরা দেওয়ার জন্য আসলে তাদের হত্যা করা হয়।
এ হত্যাকাণ্ডের সময় রাব্বি ও হাসিবের সহযোগী রুম্মান (৩০) আহত হয়। খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম হতাহতের তথ্য জানান।
আরো পড়ুন:
কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক
রাজশাহীতে হোটেলে যুবকের ঝুলন্ত লাশ
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) ত. ম. রোকনুজ্জামান রাইজিংবিডি-কে বলেন, ‘‘নিহত রাব্বি ও হাসিব অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী পলাশ ও কালা লাভলু বাহিনীর সদস্য ছিলেন। গত মার্চ মাসে যৌথ বাহিনীর হাতে তারা অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়। পরে জামিনে কারাগার থেকে বের হয়ে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিচ্ছিলেন।’’
প্রকাশ্যে জনসম্মুখে ডাবল মার্ডারের ঘটনায় খুলনা নগরে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। হত্যা মিশন শেষ করে সন্ত্রাসীরা নির্বিঘ্নে চলে যেতে পারায় আদালত পাড়ার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের চারতলা ভবনের সামনের মেইন রোডের ফুটপাতে দুপুর ১২টার দিকে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীরা রাব্বি ও হাসিবকে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে। পুলিশ জানায়, রাব্বি ও হাসিব সোনাডাঙ্গা থানার একটি অস্ত্র মামলার আসামি ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাব্বি ও হাসিব আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। হাজিরা শেষে আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার সময় সন্ত্রাসী তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে হাসিব মারা যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় রাব্বিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের বিরুদ্ধে মাদক কারবারে জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে।
নিহত হাসিব খুলনা নগরের নতুন বাজার লঞ্চঘাট এলাকার মান্নফের ছেলে এবং রাব্বি রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের আব্দুর রবের মোড় এলাকার এজাজ শেখের ছেলে।
আহত রুম্মান নগরের লবণচরা পুটিমারি এলাকার আক্তার গাজীর ছেলে। রুম্মান খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ২ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ৩১ মার্চ নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় অস্ত্র আইনের একটি মামলা করা হয়। ওই মামলায় আদালতে হাজিরা শেষে বের হওয়ার সময় আদালতের প্রধান ফটকের সামনে মেইন সড়কে আগে থেকে অবস্থানরত সন্ত্রাসীরা গুলি ও ছুরিকাঘাত করে স্থান ত্যাগ করে।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত মনে হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
সহকারী পুলিশ কমিশনার ত. ম. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘‘ঘটনার পর থেকে ঘটনাস্থলের সিসিটিভির ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। খুব দ্রুত হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’’
ঢাকা/নুরুজ্জামান/বকুল