বগুড়ায় দূরপাল্লার বাসে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আটক বাসচালককে শাজাহানপুর থানা–পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতেই তাঁকে থানা–পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

এর আগে ডিবি পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রাতেই ঢাকা যাওয়ার পথে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে ওই চালককে আটক করে হাইওয়ে পুলিশ। পরে রাত ১১টার দিকে তাঁকে ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আটক সোয়াইব হাসান ওরফে সাকিব (২৮) বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার জয়ন্তীবাড়ী এলাকার বাসিন্দা। তিনি ‘আর কে ট্রাভেলস’ পরিবহনের বাসের চালক।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোয়াইব ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি ওই ছাত্রীকে একা বাসে আটকে রেখে ধর্ষণের চেষ্টা এবং জিম্মি করে রেখে তার বন্ধুর কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির কথা স্বীকার করেছেন।

এ ব্যাপারে বগুড়া জেলা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল বাহার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ওই চালক ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে মেয়েটিও পুলিশ হেফাজতে আসার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, ধর্ষণ নয়, তাকে বাসের ভেতর ধর্ষণচেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় চালকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলার সুযোগ আছে। বাসচালক ও মেয়েটিকে শাহজাহানপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুনবগুড়ায় বাসে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, ঢাকায় যাওয়ার পথে চালক আটক১৩ ঘণ্টা আগে

যদিও এর আগে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে বাসচালকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছিল। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার অভিভাবকদের ভাষ্য পাওয়া যায়নি।

শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ডিবি পুলিশ গতকাল রাতেই অভিযুক্ত বাসচালকে  আটক করে এবং স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে থানা–পুলিশের হেফাজতে দিয়েছে। মেয়েটির অভিভাবকদের ডাকা হয়েছে। তার একজন আত্মীয় থানায় এসেছেন। তাঁরা মামলা করলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

.

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

কক্সবাজারে মাদক পাচারের দায়ে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

কক্সবাজারের টেকনাফে ক্রিস্টালমেথ (আইস) ও ইয়াবা পাচারের মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. সিরাজুল ইসলাম।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ওয়াব্রাং এলাকার মৃত কাদের বকশের ছেলে আব্দুর রহমান (৩৩) এবং একই ইউনিয়নের মৌলভীবাজার এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে নুর মোহাম্মদ (২৮)।

মামলার নথির বরাত দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০১৬ সালের ১৬ জুন রাতে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের এমজি ব্যাংকার এলাকা দিয়ে মিয়ানমার থেকে মাদকের বড় একটি চালান পাচারের খবর পেয়ে বিজিবির একটি দল অভিযান চালায়। মিয়ানমারের দিক থেকে সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম করে ছোট দুটি বস্তা কাঁধে নিয়ে সন্দেহভাজন ৫ জনকে আসতে দেখে থামার নির্দেশ দেন বিজিবির সদস্যরা। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে লোকগুলো রাতের অন্ধকারে গ্রামের ভিতরে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ধাওয়া দিয়ে দুজনকে আটক করতে সক্ষম হলেও অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পাচারকারীদের ফেলে যাওয়া বস্তা দুটি জব্দ করা হয়। বস্তা খুলে ৪ কেজি ৩১৫ গ্রাম আইস এবং ১ লাখ ইয়াবা পাওয়া যায়। এসব মাদকের আনুমানিক দাম ২৪ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

ওই আইনজীবী জানান, এ ঘটনায় বিজিবির এক সদস্য বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে টেকনাফ থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় গত ২৪ সালের ডিসেম্বরে আদালত গ্রেপ্তার আসামি আব্দুর রহমান ও মোহাম্মদ নুরের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন। মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক দুই আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ২৫ নভেম্বর ইয়াবা পাচারের মামলায় এক রোহিঙ্গাসহ দুজনের মত্যুদণ্ড এবং দুই রোহিঙ্গার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন একই আদালত। ওই মামলায় একজনকে খালাস দেওয়া হয়।

ঢাকা/তারেকুর/রফিক

সম্পর্কিত নিবন্ধ