চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটের কাছে কাদায় আটকে পড়েছে একটি ফেরি। ফেরিটিতে ২০টি যানবাহন রয়েছে। এর বাইরে ২৫ জন যাত্রী থাকলেও তাঁদের ‘লালবোট’ ও কাঠের নৌকায় তীরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

আটক মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ফেরিটি কাদামাটিতে আটকে যায়। বিআইডব্লিউটিএ জানায়, নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরিটি আটকে যায়। এটি পন্টুন পর্যন্ত নিয়ে যেতে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

বিআইডব্লিউটিএ ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল সাতটায় চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ঘাট থেকে সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায় ফেরি কপোতাক্ষ। সকাল আটটায় আবার সেটি গুপ্তছড়া ঘাট থেকে বাঁশবাড়িয়ার উদ্দেশে ছেড়ে আসার কথা। তবে গুপ্তছড়া পৌঁছানোর আগে ফেরিটি কাদামাটির চরে আটকে যায়। এ সময় যাত্রীরা কেউ কাঠের নৌকায়, কেউ ‘লালবোটে’ ঘাটে পৌঁছান।

ফেরি কপোতাক্ষ দিয়ে বাঁশবাড়িয়ায় যেতে সকালে গুপ্তছড়া ঘাটে অপেক্ষায় ছিলেন সন্দ্বীপের বাসিন্দা মহব্বত আলী (৫৪)। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফেরির জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষায় ছিলাম। নির্ধারিত সময়ের পরও ফেরি আসছিল না। এর মধ্যে তীরে ওঠা যাত্রীদের মাধ্যমে ফেরি আটকে পড়ার বিষয়টি জানতে পেরে স্পিডবোটে সীতাকুণ্ডের কুমিরা ঘাটে পৌঁছাই।’

ফেরি কপোতাক্ষের চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ফেরিতে ২৫ যাত্রীর সবাই লালবোট ও কাঠের নৌকায় ঘাটে পৌঁছে গেছেন। তবে ফেরিতে ২০টি যানবাহন ও মালামাল রয়েছে। সন্ধ্যায় জোয়ার আসার আগে ফেরি পন্টুনে নিয়ে গিয়ে এসব নামানো সম্ভব নয়।

সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, ‘জোয়ারের সময় হিসাব করে ফেরি চালাচ্ছি। ভাটায় ফেরি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এখন অবস্থা বেশি খারাপ। কয়েক মাস ধরে ড্রেজিংয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অবহিত করা হলেও হবে হবে করে ড্রেজিং করা হচ্ছে না।’

জানতে চাইলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউর রশিদ খন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, আজ বিকেলে সন্দ্বীপ প্রান্তে ড্রেজার পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই ড্রেজিং শুরু হবে।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: সন দ ব প গ প তছড়

এছাড়াও পড়ুন:

কক্সবাজারে মাদক পাচারের দায়ে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

কক্সবাজারের টেকনাফে ক্রিস্টালমেথ (আইস) ও ইয়াবা পাচারের মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. সিরাজুল ইসলাম।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ওয়াব্রাং এলাকার মৃত কাদের বকশের ছেলে আব্দুর রহমান (৩৩) এবং একই ইউনিয়নের মৌলভীবাজার এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে নুর মোহাম্মদ (২৮)।

মামলার নথির বরাত দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০১৬ সালের ১৬ জুন রাতে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের এমজি ব্যাংকার এলাকা দিয়ে মিয়ানমার থেকে মাদকের বড় একটি চালান পাচারের খবর পেয়ে বিজিবির একটি দল অভিযান চালায়। মিয়ানমারের দিক থেকে সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম করে ছোট দুটি বস্তা কাঁধে নিয়ে সন্দেহভাজন ৫ জনকে আসতে দেখে থামার নির্দেশ দেন বিজিবির সদস্যরা। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে লোকগুলো রাতের অন্ধকারে গ্রামের ভিতরে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ধাওয়া দিয়ে দুজনকে আটক করতে সক্ষম হলেও অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পাচারকারীদের ফেলে যাওয়া বস্তা দুটি জব্দ করা হয়। বস্তা খুলে ৪ কেজি ৩১৫ গ্রাম আইস এবং ১ লাখ ইয়াবা পাওয়া যায়। এসব মাদকের আনুমানিক দাম ২৪ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

ওই আইনজীবী জানান, এ ঘটনায় বিজিবির এক সদস্য বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে টেকনাফ থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় গত ২৪ সালের ডিসেম্বরে আদালত গ্রেপ্তার আসামি আব্দুর রহমান ও মোহাম্মদ নুরের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন। মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক দুই আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ২৫ নভেম্বর ইয়াবা পাচারের মামলায় এক রোহিঙ্গাসহ দুজনের মত্যুদণ্ড এবং দুই রোহিঙ্গার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন একই আদালত। ওই মামলায় একজনকে খালাস দেওয়া হয়।

ঢাকা/তারেকুর/রফিক

সম্পর্কিত নিবন্ধ