পিছিয়ে ছিলেন না স্বতন্ত্ররা, সরব ডিজিটাল মাধ্যমেও
Published: 14th, October 2025 GMT
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ছাবেকুন নাহার চাকসু নির্বাচন নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত। নির্বাচনে তিনি সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে প্রার্থী হয়েছেন। প্রচারেও বেশ সরব ছিলেন।
ছাবেকুন নাহার প্রথম আলোকে বলেন, ‘দীর্ঘ ৩৫ বছর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন হচ্ছে। ইতিহাসের সাক্ষী হতে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। টিউশনির জমানো টাকা ভেঙে সীমিত পরিসরে প্রচার চালিয়েছি। হয়তো সব শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছাতে পারিনি, তবে চেষ্টা করেছি।’
শুধু ছাবেকুন নন, তাঁর মতো আরও শতাধিক শিক্ষার্থী স্বতন্ত্রভাবে এবার চাকসু নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন। বড় ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে তাঁরাও পাল্লা দিয়ে প্রচার চালিয়েছেন। কেউ কেউ অনলাইন ও ডিজিটাল মাধ্যমকে প্রাধান্য দিয়েছেন। লিফলেট না ছেপে ডিজিটাল লিফলেট পাঠিয়েছেন ই–মেইল ও হোয়াটসঅ্যাপে। প্রচারণায় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এমন উদ্ভাবনী কৌশল পছন্দ করছেন ভোটাররাও। ভোটাররা বলছেন, সাংগঠনিক শক্তি না থাকায় প্রচারে কিছুটা পিছিয়ে ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছেন শিক্ষার্থীদের কাছে নিজেদের লক্ষ্য তুলে ধরার।
চাকসু নির্বাচনের প্রচারণার শেষ দিন গতকাল সোমবার বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে দেখা গেল ক্যাম্পাসে প্রচারণা চালাতে। তাঁদেরই একজন জান্নাতুল ফেরদৌস। তিনি ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগে স্নাতকোত্তরে পড়ছেন। জান্নাতুল বলেন, ‘২০১৯ সালে ফেসবুকে পেজ খুলে খাবারের ব্যবসা শুরু করেছিলাম। পাশাপাশি টিউশনিও করি। জমানো টাকা ভেঙে নির্বাচনে কিছু খরচ করেছি। তবে প্রচারপত্র বেশি ছাপাইনি। অনলাইনে প্রচার করে ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা করেছি।’
ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করছেন। তিনি বলেন, ‘স্বতন্ত্রভাবে যাঁরা লড়াই করছেন, তাঁদের জন্য এটা সত্যিই একটা বড় চ্যালেঞ্জ। একার পক্ষে ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো সহজ নয়। আমি চেষ্টা করেছি, যতটা সম্ভব বেশি শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে। কাছের বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সহযোগিতায় প্রচারণা চালিয়েছি। একা হলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছি।’
সহসভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী অর্থনীতি বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী মো.
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক পদপ্রার্থী তাজ উদ্দিন প্রচারে নতুনত্ব এনেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি লিফলেট ছাপিনি। ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রচারণা চালিয়েছি। ট্যাবের মাধ্যমে ডিজিটাল লিফলেট দেখিয়েছি। শিক্ষার্থীরা চাইলে সেটার ছবি তুলে নিয়েছে। এতে পরিবেশও রক্ষা হয়েছে। পরে আমি শিক্ষার্থীদের ই–মেইল নিয়ে তাদের কাছে ইশতেহার পাঠিয়েছি। বাসা থেকে আর্থিক সহায়তা না পাওয়ায় এমন অভিনব পদ্ধতি ব্যবহার করেছি।’
প্রায় ৩৫ বছর পর আগামীকাল বুধবার চাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন হচ্ছে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট দিতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। ভোট গ্রহণ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এরই মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। শিক্ষার্থীরাও ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন।
এবারের নির্বাচনে ৯০৮ জন প্রার্থী হয়েছেন। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে মোট ২৬টি পদে লড়ছেন ৪১৫ প্রার্থী। একই সঙ্গে ১৪টি হল ও একটি হোস্টেলে প্রার্থী হয়েছেন ৪৯৩ জন।
উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: স বতন ত র প র র থ ল ফল ট করছ ন
এছাড়াও পড়ুন:
নিহত ২ জন সন্ত্রাসী পলাশ ও কালা লাভলু বাহিনীর সদস্য: পুলিশ
প্রকাশ্য দিবালোকে খুলনার আদালত পাড়ায় গুলি ও ছুরিকাঘাতে হত্যার শিকার ফজলে রাব্বি রাজন (৩৮) ও হাসিব হাওলাদার (৪৫) সন্ত্রাসী পলাশ ও কালা লাভলু বাহিনীর সদস্য ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে। সেই মামলায় আজ রবিবার (৩০ নভেম্বর) আদালতে হাজিরা দেওয়ার জন্য আসলে তাদের হত্যা করা হয়।
এ হত্যাকাণ্ডের সময় রাব্বি ও হাসিবের সহযোগী রুম্মান (৩০) আহত হয়। খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম হতাহতের তথ্য জানান।
আরো পড়ুন:
কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক
রাজশাহীতে হোটেলে যুবকের ঝুলন্ত লাশ
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) ত. ম. রোকনুজ্জামান রাইজিংবিডি-কে বলেন, ‘‘নিহত রাব্বি ও হাসিব অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী পলাশ ও কালা লাভলু বাহিনীর সদস্য ছিলেন। গত মার্চ মাসে যৌথ বাহিনীর হাতে তারা অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়। পরে জামিনে কারাগার থেকে বের হয়ে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিচ্ছিলেন।’’
প্রকাশ্যে জনসম্মুখে ডাবল মার্ডারের ঘটনায় খুলনা নগরে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। হত্যা মিশন শেষ করে সন্ত্রাসীরা নির্বিঘ্নে চলে যেতে পারায় আদালত পাড়ার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের চারতলা ভবনের সামনের মেইন রোডের ফুটপাতে দুপুর ১২টার দিকে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীরা রাব্বি ও হাসিবকে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে। পুলিশ জানায়, রাব্বি ও হাসিব সোনাডাঙ্গা থানার একটি অস্ত্র মামলার আসামি ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাব্বি ও হাসিব আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। হাজিরা শেষে আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার সময় সন্ত্রাসী তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে হাসিব মারা যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় রাব্বিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের বিরুদ্ধে মাদক কারবারে জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে।
নিহত হাসিব খুলনা নগরের নতুন বাজার লঞ্চঘাট এলাকার মান্নফের ছেলে এবং রাব্বি রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের আব্দুর রবের মোড় এলাকার এজাজ শেখের ছেলে।
আহত রুম্মান নগরের লবণচরা পুটিমারি এলাকার আক্তার গাজীর ছেলে। রুম্মান খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ২ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ৩১ মার্চ নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় অস্ত্র আইনের একটি মামলা করা হয়। ওই মামলায় আদালতে হাজিরা শেষে বের হওয়ার সময় আদালতের প্রধান ফটকের সামনে মেইন সড়কে আগে থেকে অবস্থানরত সন্ত্রাসীরা গুলি ও ছুরিকাঘাত করে স্থান ত্যাগ করে।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত মনে হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
সহকারী পুলিশ কমিশনার ত. ম. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘‘ঘটনার পর থেকে ঘটনাস্থলের সিসিটিভির ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। খুব দ্রুত হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’’
ঢাকা/নুরুজ্জামান/বকুল