মুসলিম জীবনে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের ৯ উপায়
Published: 15th, October 2025 GMT
মুসলিম জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। এটি এমন একটি পথ, যা বান্দার হৃদয়ে শান্তি, আত্মায় প্রশান্তি এবং জীবনে সুখ নিয়ে আসে। প্রতিটি পদক্ষেপ যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নেওয়া হয়, তবে তা দুনিয়া ও আখেরাতে অপার সাফল্যের দ্বার খুলে দেয়।
তবে এই পথে চলতে গিয়ে মানুষের সন্তুষ্টির সঙ্গে আল্লাহর সন্তুষ্টির দ্বন্দ্ব, নিজের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা এবং সমাজের চাপের মতো বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়।
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন একটি জীবনব্যাপী সাধনা। শুধু বড় বড় আমলের মাধ্যমে নয়, বরং ছোট ছোট কাজে খাঁটি নিয়তের মাধ্যমেও তা অর্জন করা যায়।আল্লাহর সন্তুষ্টি বনাম মানুষের সন্তুষ্টিআল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথে একজন মুসলিমকে প্রায়ই মানুষের অসন্তুষ্টির সম্মুখীন হতে হয়। এটি এমন একটি পরীক্ষা, যেখানে বান্দাকে দুনিয়ার স্বার্থ ও আখেরাতের কল্যাণের মধ্যে একটি বেছে নিতে হয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, “দুনিয়ার জীবনের উপকরণ সামান্য, আর আখেরাত তাদের জন্য উত্তম যারা তাকওয়া অবলম্বন করে।” (সুরা নিসা, আয়াত: ৭৭)
রাসুল (সা.
আর মানুষের সন্তুষ্টি অস্থায়ী এবং পরিবর্তনশীল, কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টি চিরস্থায়ী ও সর্বোত্তম।
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চ্যালেঞ্জআল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। পরিবারের মধ্যে এমন চাপ দেখা দিতে পারে যেখানে একজন ব্যক্তি মানুষের সন্তুষ্টির জন্য আল্লাহর অসন্তুষ্টির পথ বেছে নেয়।
এই ধরনের পরিস্থিতি একজন মুসলিমকে আল্লাহর আনুগত্য ও পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজতে বাধ্য করে। কোরআনে বলা হয়েছে, “ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা কখনোই তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না যতক্ষণ না তুমি তাদের ধর্মের অনুসরণ করবে। বল, নিশ্চয়ই আল্লাহর পথই সঠিক পথ” (সুরা বাকারা, আয়াত: ১২০)
নেক আমল করার সময় আমাদের নিজেদের প্রশ্ন করা উচিত, আমরা কি এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করছি, নাকি মানুষের প্রশংসা ও সম্মানের জন্য?
দুনিয়ার জীবনের উপকরণ সামান্য, আর আখেরাত তাদের জন্য উত্তম যারা তাকওয়া অবলম্বন করে।সুরা নিসা, আয়াত: ৭৭রাসুল (সা.) বলেছেন, কেয়ামতের দিন তিন ধরনের মানুষের আমল বাতিল বলে গণ্য হবে: যে শহীদ লড়াই করেছে যাতে তাকে সাহসী বলা হয়, যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন ও শিক্ষা দিয়েছে যাতে তাকে আলেম বলা হয়, এবং যে ব্যক্তি দান করেছে যাতে তাকে দানশীল বলা হয়। এই সব কাজের উদ্দেশ্য ছিল মানুষের প্রশংসা, তাই তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯০৫)
আরও পড়ুনযে ৬ ব্যক্তির দোয়া আল্লাহ ফিরিয়ে দেন না২৮ জুন ২০২৫আল্লাহর সন্তুষ্টি: সর্বোচ্চ নেয়ামতজান্নাতের সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি। রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ জান্নাতবাসীদের বলবেন, “তোমরা কি সন্তুষ্ট?” তারা বলবে, “কেন সন্তুষ্ট হব না, যখন আপনি আমাদের এমন কিছু দিয়েছে যা অন্য কোনো সৃষ্টিকে দেননি?”
আল্লাহ বলবেন, “আমি কি তোমাদের এর চেয়েও উত্তম কিছু দেব না?” তারা বলবে, “হে আমাদের রব, এর চেয়ে উত্তম আর কী হতে পারে?” আল্লাহ বলবেন, “আমি তোমাদের ওপর আমার সন্তুষ্টি প্রকাশ করব, এরপর আমি কখনো তোমাদের ওপর অসন্তুষ্ট হব না।” (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৭৩৭৪)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, আল্লাহর সন্তুষ্টি হলো জান্নাতের সবচেয়ে মূল্যবান পুরস্কার।
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উপায়আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য বেশ কিছু উপায় রয়েছে, যা আমাদের জীবনে প্রয়োগ করা যায়:
১. খাঁটি নিয়ত
প্রতিটি কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করা অপরিহার্য। খাঁটি নিয়ত হৃদয়কে শক্তিশালী করে এবং আল্লাহর কাছ থেকে সাফল্য ও সন্তুষ্টি আকর্ষণ করে।
২. আল্লাহর আদেশে দ্রুত সাড়া দেওয়া
আল্লাহর আদেশ পালনে কোনো অলসতা বা বিলম্ব করা উচিত নয়। মুসা (আ.) বলেছিলেন, “হে আমার রব, আমি তাড়াতাড়ি তোমার দিকে এসেছি যাতে তুমি সন্তুষ্ট হও।” (সুরা তাহা, আয়াত: ৮৪)
৩. নিজেকে আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করা
আল্লাহ বলেন, “মানুষের মধ্যে এমন কেউ আছে যে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় নিজেকে বিক্রি করে দেয়, আর আল্লাহ বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু।” (সুরা বাকারা, আয়াত: ২০৭)
নিজেকে আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করা মানে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর আনুগত্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া। এর ফলে বান্দার জীবন সুখ ও শান্তিতে ভরে ওঠে। (মুহাম্মাদ রশিদ রিদা, তাফসিরে মানার, ২/১৭৭, দারুল ফিকর, কায়রো, ২০১০)
৪. নেতিবাচক গুণাবলি পরিহার
ইসা ইবনে মারিয়াম (আ.)-কে ইয়াহিয়া ইবনে যাকারিয়া (আ.) জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “কীভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায় এবং তাঁর অসন্তুষ্টি থেকে দূরে থাকা যায়?” ইসা (আ.) বললেন, “রাগ করো না।” তিনি আরও বললেন, রাগের উৎস হলো অহংকার, আত্মম্ভরিতা ও বড়াই। (ইবনে ওয়াহহাব, আল-জামি, পৃ. ৯৮, দারুল কুতুব, দামেস্ক, ২০১৭)
আরও পড়ুনবরকতের শত্রু অহংকার২২ জুন ২০২৫৫. সাধারণ নেয়ামতের শুকরিয়া
রাসুল (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ তাঁর বান্দার প্রতি সন্তুষ্ট হন যখন সে খাবার খায় এবং তার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে, অথবা এক ঢোক পানি পান করে এবং তার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭৩৪)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, ছোট ছোট নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করাও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি মাধ্যম।
৬. অল্পে সন্তুষ্ট থাকা
মালিক ইবনে দিনার ও মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াসি জীবনযাত্রা নিয়ে আলোচনা করছিলেন। মালিক বললেন, “একজন মানুষের জন্য সবচেয়ে ভালো হলো তার জন্য যথেষ্ট আয় থাকা।” মুহাম্মাদ বললেন, “ধন্য সেই ব্যক্তি, যে দুপুরের খাবার পায় কিন্তু রাতের খাবার পায় না, অথবা রাতের খাবার পায় কিন্তু দুপুরের খাবার পায় না, তবুও সে আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকে।” (ইবনে আবিদ দুনিয়া, আর-রিদা আন আল্লাহ বিকাদায়িহি, পৃ. ৫৫, দারুল বাশাইর, মদিনা, ২০১৯)
এটি দারিদ্র্যের প্রশংসা নয়, বরং অল্পে সন্তুষ্ট থাকার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আহ্বান।
৭. হালাল উপার্জন করা
একটি হাদিসে বলা হয়েছে, “যে ব্যক্তি হালাল উপার্জনের জন্য ক্লান্ত হয়ে রাত্রি যাপন করে, আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকেন।” (ইবনে আবিদ দুনিয়া, ইসলাহুল মাল, পৃ. ৭৮, দারুল কুতুব, কায়রো, ২০১৮)
৮. পিতামাতার সন্তুষ্টি
রাসুল (সা.) বলেছেন, “আল্লাহর সন্তুষ্টি পিতামাতার সন্তুষ্টির মধ্যে রয়েছে, আর আল্লাহর অসন্তুষ্টি রয়েছে পিতামাতার অসন্তুষ্টির মধ্যে।” (বায়হাকি, শু’আবুল ঈমান, হাদিস: ৭৪৬৭)
পিতামাতার দোয়া ও সন্তুষ্টি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৯. তকদিরের প্রতি সন্তুষ্টি
তকদির বা আল্লাহর ভাগ্যলিপির প্রতি সন্তুষ্ট থাকা দুনিয়ার শান্তি ও সুখের একটি বড় কারণ। কোরআনে খিজির (আ.)-এর ঘটনার উদাহরণে দেখা যায়, আল্লাহ একটি শিশুকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে তার পিতামাতা তার অবাধ্যতা ও কুফরের কষ্ট থেকে রক্ষা পান। (সুরা কাহফ, আয়াত: ৮০-৮১)
ধন্য সেই ব্যক্তি, যে দুপুরের খাবার পায় কিন্তু রাতের খাবার পায় না, অথবা রাতের খাবার পায় কিন্তু দুপুরের খাবার পায় না, তবুও সে আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকে।ইবনে আবিদ দুনিয়া (রহ.)আল্লাহর সন্তুষ্টির আলামতমুসা (আ.) আল্লাহর কাছে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “হে আমার রব, আপনার বান্দার প্রতি আপনার সন্তুষ্টির লক্ষণ কী?” আল্লাহ বললেন, “আমি তাকে আমার আনুগত্যের জন্য প্রস্তুত করি এবং তাকে আমার অবাধ্যতা থেকে দূরে রাখি।” (হিলিয়াতুল আওলিয়া, ৪/৪১, দারুল কুতুব, বৈরুত, ২০১৬)
এছাড়া আল্লাহর ওপর ভরসা, তাঁর ওপর নির্ভরতা, ইখলাস এবং জ্ঞানের মাধ্যমে স্থিতিশীলতা বান্দার প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষণ। (শাযারাতুয যাহাব, পৃ. ১২০, দারুল ফিকর, দামেস্ক, ২০১৫)
আল্লাহর সন্তুষ্টির ফলাফলআল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের ফলে বান্দা অসংখ্য বরকত ও কল্যাণ লাভ করে। আব্দুল্লাহ ইবনে উবায়দ ইবনে উমায়র বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির মধ্যে থাকে, আল্লাহ তার সন্তুষ্টি আরও বাড়িয়ে দেন।” (আহমদ ইবনে হাম্বল, আয-যুহদ, পৃ. ৮৫, দারুল বাশাইর, মদিনা, ২০২০)
আল্লাহ বলেন, “যখন আমি পালিত হই, আমি সন্তুষ্ট হই। আর যখন আমি সন্তুষ্ট হই, আমি বরকত দান করি। আর আমার বরকতের কোনো সীমা নেই।” (হিলিয়াতুল আওলিয়া, ৪/৪১, দারুল কুতুব, বৈরুত, ২০১৬)
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন একটি জীবনব্যাপী সাধনা। এটি শুধুমাত্র বড় আমলের মাধ্যমে নয়, বরং ছোট ছোট কাজে খাঁটি নিয়ত, আল্লাহর আদেশ পালন, নেয়ামতের শুকরিয়া ও তাঁর ভাগ্যলিপির প্রতি সন্তুষ্টির মাধ্যমেও অর্জন করা যায়। এই পথে চলার মাধ্যমে বান্দা দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তি, সুখ ও সাফল্য লাভ করে।
আরও পড়ুনইসলামে ‘নেয়ামত’ অর্থ কী০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ম ন ষ র সন ত ষ ট র অসন ত ষ ট র সন ত ষ ট র ম সন ত ষ ট থ ক র সন ত ষ ট র র আল ল হ আল ল হ ত আল ল হ ব র শ কর য় য় আল ল হ জ বন র র জন য বল ছ ন র জ বন আম দ র য় মত র ন য় মত র জন র বলল ন র ওপর
এছাড়াও পড়ুন:
সবাই আস্থা পায় এমন বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে
গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, ‘আমাদের এমন একটি বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সবাই আস্থা পায়। ঢাকার একজন ফেরিওয়ালা বা খুলনার একজন পোশাকশ্রমিকও যেন বলতে পারেন, আদালতের প্রতি ভরসা আছে। সিলেটের একজন রিকশাচালকও যেন নিশ্চিন্তে বলেন, আমরা বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা রাখি।’
আজ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক কর্মশালায় বিচারকদের উদ্দেশে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী এ কথা বলেন। গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের উদ্যোগে এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের ঢাকা কার্যালয়ের সহযোগিতায় ‘ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ: গুম-সংক্রান্ত ঘটনায় বিচার বিভাগের ভূমিকা’ শীর্ষক চতুর্থ এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ন্যায়বিচারের সর্বোত্তম নিশ্চয়তা নির্ভর করে বিচারকদের ব্যক্তিত্ব, দক্ষতা, সক্ষমতা, নিরপেক্ষতা ও সাহসিকতার ওপর। একজন বিচারককে প্রতিটি মামলা সমান উদ্যম, কঠোরতা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে বিচার করতে হবে। প্রতিদিন সকালে যখন বিচারকেরা তাঁদের পোশাক পরিধান করবেন, তখন তাঁদের সংবিধানের কথাগুলো স্মরণ করা উচিত।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনের দপ্তরের ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান হুমা খান বলেন, বিচারকদের নিরপেক্ষতা, পেশাদারত্ব ও দায়িত্বশীলতা ন্যায়বিচার নিশ্চিতের জন্য অত্যন্ত জরুরি। গুমের ভুক্তভোগীদের করুণ পরিণতি এবং তাঁদের পরিবারের দীর্ঘ অনিশ্চয়তা সমাজকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে।
হুমা খান বলেন, ‘আমি যেসব ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের অধিকাংশই সামাজিক চাপ ও মানসিক কষ্টে ভুগছে। মামলা পরিচালনায় ভয়ভীতি, তদন্ত জটিলতা এবং প্রভাবশালী মহলের চাপ ন্যায়বিচারের পথে বড় বাধা সৃষ্টি করেছে।’ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে কাজ পরিচালনার জন্য গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সার্বিক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন তিনি।
কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী বলেন, গুম-সংক্রান্ত মামলাগুলোর কার্যকর তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এখন সময়ের দাবি। কমিশন ইতিমধ্যে বিদ্যমান আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করে গুম-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, সাক্ষী সুরক্ষা ও ভুক্তভোগী পরিবারের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের প্রস্তাব প্রস্তুত করছে।
এ সময় কমিশনের সদস্য মো. নূর খান বিদ্যমান আইনি কাঠামোতে ভুক্তভোগীদের অধিকার নিশ্চিতকরণ ও ভুক্তভোগীদের দুঃসহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা।
কর্মশালার ওয়ার্কিং সেশন পরিচালনা করেন কমিশনের সদস্য মো. সাজ্জাদ হোসেন। এই পর্বে গুম-সংক্রান্ত মামলায় প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষ্য গ্রহণ, মানবাধিকার মানদণ্ডের প্রয়োগ ও বিচারপ্রক্রিয়ার জবাবদিহি নিশ্চিতের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
কর্মশালাটি পরিচালনা করেন গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস। দেশের বিভিন্ন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে কর্মরত বিচারকসহ প্রায় ৯০ জন প্রশিক্ষণার্থী এতে অংশ নেন। কমিশন আয়োজিত চারটি কর্মশালার আজ ছিল শেষ পর্ব।
শেষ পর্বের আলোচনায় গুম প্রতিরোধে শক্তিশালী আইন প্রণয়ন, বিচার বিভাগের আওতায় স্বতন্ত্র তদন্ত সংস্থা প্রতিষ্ঠা, গুম-সংক্রান্ত মামলার জটিলতা নিরসনে মনিটরিং সেল গঠনের কথা উঠে আসে। এ সময় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বিচারকদের জন্য বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ আয়োজন, ভুক্তভোগীদের মানসিক ও আইনি সহযোগিতা নিশ্চিত করা এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের বিষয়ে আলোচনা হয়।
কর্মশালার আলোচনায় আরও উঠে এসেছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ অস্ত্র ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন, অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) সহজীকরণ, চিহ্নিত মামলাগুলো অগ্রাধিকারভিত্তিতে নিষ্পন্ন করা, বিচারক ও ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছে ভুক্তভোগীদের সহজে পৌঁছানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেটদের মিথ্যা মামলা নিরসনসংক্রান্ত ক্ষমতা প্রদান এবং বিচার বিভাগ ও কমিশনের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের কাঠামো উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ উঠে আসে কর্মশালার শেষ পর্বের আলোচনায়।