এসআইবিএলের উদ্যোক্তা পরিচালক রেজাউলের পদত্যাগ
Published: 12th, October 2025 GMT
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের (এসআইবিএল) পরিচালনা পর্ষদ থেকে উদ্যোক্তা পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর ডা. মো. রেজাউল হক পদত্যাগ করেছেন। তিনি ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা পরিচালক ছিলেন। পদত্যাগ করা চিঠিতে তিনি স্বতন্ত্র পরিচালকদের অযোগ্যতা, দুর্নীতি ও ব্যাংকের সার্বিক ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার দায় তুলে ধরেছেন।
রবিবার (১২ অক্টোবর) ব্যাংকের চেয়ারম্যানের নিকট পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।
পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, ২০১৩ সালের ৩০ জুন থেকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০১৬ সালে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদান করা হয়। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার হস্তক্ষেপে তাকে অস্ত্রের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল।
রেজাউল হক অভিযোগ করেন, এস আলম গ্রুপ রাষ্ট্রীয় সহায়তায় ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর গত সাত বছরে (২০১৭ থেকে ২০২৪) ব্যাংকটিতে ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে। এতে ব্যাংকটি প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে।
তিনি বলেন, ‘‘বর্তমান সরকার পতনের পর উদ্যোক্তারা আশা করেছিলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকৃত উদ্যোক্তাদের হাতে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে প্রস্তাবনাও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, তা না করে কিছু স্বতন্ত্র পরিচালকের সমন্বয়ে নতুন একটি পর্ষদ গঠন করা হয়। যা ছিল একেবারে ‘অকার্যকর’ সিদ্ধান্ত।’’
রেজাউল হক বলেন, ‘‘এই পর্ষদের সদস্যরা ব্যাংক কোম্পানি আইনের আলোকে উদ্যোক্তা বা শেয়ারহোল্ডার নন। তবুও তারা পর্ষদে থেকে ব্যাংক পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন। ফলে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পরেও ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।’’
তিনি অভিযোগ করেন, স্বতন্ত্র পরিচালকরা কেবল দৈনিক অফিসে উপস্থিতি ও সম্মানী নেওয়ার বাইরে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক যখন ব্যাংক মার্জার বিষয়ে শুনানির আয়োজন করে, তখন তাকে অবহিত না করেই স্বতন্ত্র পরিচালকরা তাতে অংশ নেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, উদ্যোক্তা না হয়েও তারা কীভাবে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন।
রেজাউল হক বলেন, “ব্যাংকের হাজার হাজার আমানতকারী, শেয়ারহোল্ডার এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চয়তার মুখে।” এই পরিস্থিতিতে অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে জানান তিনি।
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক বর্তমানে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
একীভূত তালিকায় অন্য ব্যাংকগুলো হলো- ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি এবং এক্সিম ব্যাংক পিএলসি। নতুন ব্যাংকের জন্য নাম প্রস্তাব করা হয়েছে দুটি—‘ইউনাইটেড ইসলামিক ব্যাংক’ ও ‘সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংক’।
ঢাকা/নাজমুল/রাজীব
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর উদ য ক ত ক প এলস কর ছ ন ইসল ম
এছাড়াও পড়ুন:
নিহত ২ জন সন্ত্রাসী পলাশ ও কালা লাভলু বাহিনীর সদস্য: পুলিশ
প্রকাশ্য দিবালোকে খুলনার আদালত পাড়ায় গুলি ও ছুরিকাঘাতে হত্যার শিকার ফজলে রাব্বি রাজন (৩৮) ও হাসিব হাওলাদার (৪৫) সন্ত্রাসী পলাশ ও কালা লাভলু বাহিনীর সদস্য ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে। সেই মামলায় আজ রবিবার (৩০ নভেম্বর) আদালতে হাজিরা দেওয়ার জন্য আসলে তাদের হত্যা করা হয়।
এ হত্যাকাণ্ডের সময় রাব্বি ও হাসিবের সহযোগী রুম্মান (৩০) আহত হয়। খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম হতাহতের তথ্য জানান।
আরো পড়ুন:
কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক
রাজশাহীতে হোটেলে যুবকের ঝুলন্ত লাশ
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) ত. ম. রোকনুজ্জামান রাইজিংবিডি-কে বলেন, ‘‘নিহত রাব্বি ও হাসিব অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী পলাশ ও কালা লাভলু বাহিনীর সদস্য ছিলেন। গত মার্চ মাসে যৌথ বাহিনীর হাতে তারা অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়। পরে জামিনে কারাগার থেকে বের হয়ে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিচ্ছিলেন।’’
প্রকাশ্যে জনসম্মুখে ডাবল মার্ডারের ঘটনায় খুলনা নগরে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। হত্যা মিশন শেষ করে সন্ত্রাসীরা নির্বিঘ্নে চলে যেতে পারায় আদালত পাড়ার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের চারতলা ভবনের সামনের মেইন রোডের ফুটপাতে দুপুর ১২টার দিকে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীরা রাব্বি ও হাসিবকে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে। পুলিশ জানায়, রাব্বি ও হাসিব সোনাডাঙ্গা থানার একটি অস্ত্র মামলার আসামি ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাব্বি ও হাসিব আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। হাজিরা শেষে আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার সময় সন্ত্রাসী তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে হাসিব মারা যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় রাব্বিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের বিরুদ্ধে মাদক কারবারে জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে।
নিহত হাসিব খুলনা নগরের নতুন বাজার লঞ্চঘাট এলাকার মান্নফের ছেলে এবং রাব্বি রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের আব্দুর রবের মোড় এলাকার এজাজ শেখের ছেলে।
আহত রুম্মান নগরের লবণচরা পুটিমারি এলাকার আক্তার গাজীর ছেলে। রুম্মান খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ২ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ৩১ মার্চ নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় অস্ত্র আইনের একটি মামলা করা হয়। ওই মামলায় আদালতে হাজিরা শেষে বের হওয়ার সময় আদালতের প্রধান ফটকের সামনে মেইন সড়কে আগে থেকে অবস্থানরত সন্ত্রাসীরা গুলি ও ছুরিকাঘাত করে স্থান ত্যাগ করে।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত মনে হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
সহকারী পুলিশ কমিশনার ত. ম. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘‘ঘটনার পর থেকে ঘটনাস্থলের সিসিটিভির ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। খুব দ্রুত হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’’
ঢাকা/নুরুজ্জামান/বকুল