কুষ্টিয়ায় দুই দিনে ১৪ কোটি টাকার কারেন্ট জাল জব্দ
Published: 14th, October 2025 GMT
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত এলাকায় পদ্মা নদীতে গত দুই দিন অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৪ কোটি টাকার অবৈধ চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল জব্দ করেছে বিজিবি। বিজিবির ৪৭ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা দৌলতপুর উপজেলার আশ্রয়ণ বিওপি এলাকায় উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ছয়টায় বিজিবির ৪৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব মুর্শেদ রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অভিযানে ৩৫ হাজার কেজি অবৈধ চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল জব্দ করা সম্ভব হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৪ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে গতকাল আশ্রয়ণ বিওপি এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন বিজিবির যশোর দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মিজানুর রহমান শিকদার। তিনি বলেন, যশোর রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকা দক্ষিণে তালপট্টি (নীলডুমুর) থেকে উত্তরে পদ্মা নদী পর্যন্ত প্রায় ৬০০ কিলোমিটার বিস্তৃত। গত এক বছরে এই এলাকায় বিজিবি ১২২ দশমিক ৩১ কেজি স্বর্ণ ও ৮২ জন আসামি আটক করেছে। মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ৪৩৩ জন আসামি আটকসহ মোট প্রায় ৪০০ কোটি টাকার পণ্য জব্দ করা হয়েছে, যার বেশির ভাগই মাদক। এ ছাড়া ২২ জন মানব পাচারকারী দালালসহ ২ হাজার ৪১৫ জনকে আটক করে মামলা দায়েরের মাধ্যমে থানায় পাঠানো হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিজানুর রহমান জানান, কুষ্টিয়ার ৪৭ ব্যাটালিয়ন ২০২৪ সালে ৮৩ কোটি টাকার মাদক ও অবৈধ মালামাল জব্দ করেছে। ২০২৫ সালে এই কার্যক্রম আরও বেগবান হয়। এ সময়ে বিপুল পরিমাণ মাদক, চোরাচালান দ্রব্য এবং ১০টি অস্ত্রসহ ১১৩ জন আসামিকে আটক করা হয়, যার মোট মূল্য প্রায় ১০৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। যৌথ টাস্কফোর্স অভিযানে প্রায় ৪৯ কোটি টাকার অবৈধ দুয়ারি, বেহুন্দা ও চায়না কারেন্ট জাল উদ্ধার ও ধ্বংস করা হয়েছে। সর্বশেষ চল্লিশপাড়া এলাকায় প্রায় ১৪ কোটি টাকার অবৈধ চায়না জাল জব্দ করা হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিজানুর রহমান বলেন, সীমান্তবর্তী জনগণের কল্যাণে সুন্দরবন এলাকায় লবণাক্ততার কারণে সুপেয় পানির সংকট নিরসনে বিজিবির অর্থায়নে স্থাপিত প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে ১১টি গ্রামের ৪ থেকে ৫ হাজার পরিবার উপকৃত হচ্ছে। এ ছাড়া তিন সহস্রাধিক দুস্থ ও অসহায় পরিবারকে খাদ্য, চিকিৎসা ও শীতবস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ১৪ ক ট এল ক য় রহম ন
এছাড়াও পড়ুন:
এসব খাবার আপনাকে সারা দিন চনমনে রাখবে
কাজের চাপে ক্লান্ত লাগলে বা দুপুরের পর অফিসে ঘুম পেলে অনেকেই কফি বা মিষ্টি কিছু খেয়ে ক্লান্তি কাটানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এমন কিছু খাবার আছে যেগুলো আপনাকে সারা দিন চনমনে রাখতে পারে, আবার কিছু খাবার আছে যেগুলো উল্টো আপনাকে দুর্বল করে দেয়!
সকালের নাশতা বাদ দেওয়া আমাদের অন্যতম বড় ভুল। এতে ক্লান্তি ও মানসিক চাপ তুলনামূলক বেশি হয়। তাই সকাল শুরু হোক এমন খাবার দিয়ে, যা ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করবে; যেমন ওটস, চিড়া, ডিম ও পূর্ণ শস্যের টোস্ট, দুধ বা দইয়ের সঙ্গে ফল ও বাদাম—এই খাবারগুলো শরীরে শর্করা, প্রোটিন ও ফাইবার সরবরাহ করে, যা আপনাকে দীর্ঘ সময় সতেজ রাখবে।
সারা দিন শক্তি ধরে রাখার কৌশলবাদাম, বীজ আর শস্যজাতীয় খাবার শক্তির অন্যতম বড় উৎস। এগুলোতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন ও ভিটামিন—যা রক্তে চিনির মাত্রা স্থির রাখে এবং হঠাৎ এনার্জি ড্রপ থেকে বাঁচায়। একমুঠো কাজু, আখরোট বা সূর্যমুখীর বীজের মতো স্ন্যাক হতে পারে আপনার দুপুরের ‘এনার্জি ব্রেক’।
প্রোটিন: ঠিকভাবে দেহের প্রতিটি কোষের কাজ চালাতে প্রোটিন অপরিহার্য। মাছ, মুরগি, ডিম, ডাল ও ছোলা হলো এমন কিছু প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, যা দ্রুত ক্লান্তি দূর করে। বিশেষ করে মাছ (যেমন ইলিশ, রুই, টুনা) শুধু প্রোটিন নয়, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও দেয়, যা মস্তিষ্ককেও সক্রিয় রাখে।
জটিল শর্করা: সাদা চাল বা পরিশোধিত ময়দা শরীরে দ্রুত শক্তি দেয়, কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি ফুরিয়েও যায়। এর পরিবর্তে বেছে নিন লাল চাল, ব্রাউন রাইস, গমের রুটি বা ওটস—এগুলো ‘কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট’, যা ধীরে হজম হয় এবং সারা দিন স্থিতিশীল এনার্জি দেয়।
শাকসবজি ও ফল: নিয়মিত রঙিন শাকসবজি ও ফল খান। আপেল, কলা, কমলা, পালংশাক, ব্রকলি, গাজর—এগুলোর ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরকে চাঙা রাখে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়।
আরও পড়ুনকৈশোরে সঠিক পুষ্টি না পেলে যা হয়, যেসব খাবার খেতে হবে১৬ নভেম্বর ২০২৫যেগুলো এড়িয়ে চলা ভালোঅতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টিজাত খাবার দ্রুত শক্তির জোগান দিলেও খুব দ্রুতই ক্লান্ত করে ফেলে।
অতিরিক্ত ক্যাফেইন সাময়িকভাবে মনোযোগ বাড়ায়, কিন্তু ঘুমের ছন্দ নষ্ট করে দেয়।
অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত বা ভারী খাবার। এগুলো হজমে সময় নেয়, ফলে ঘুম ঘুম লাগে।
ছোট ছোট টিপসপানিশূন্যতা ক্লান্তি ডেকে আনে, নিয়মিত পানি পান করুন।
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকবেন না।
পর্যাপ্ত ঘুম ও হালকা ব্যায়াম প্রাকৃতিকভাবে আপনার শক্তি বাড়াবে।
শক্তি ধরে রাখার কোনো ‘জাদুকরি খাবার’ নেই, তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাসই পারে আপনাকে সারা দিন প্রাণবন্ত রাখতে। তাই পরেরবার শক্তি কমে গেলে চিনি বা সফট ড্রিংকের দিকে না ছুটে, বেছে নিন প্রকৃতির দেওয়া সঠিক খাবারগুলো।
আরও পড়ুনএকবারে কতটা বাদাম খাওয়া নিরাপদ২১ অক্টোবর ২০২৫