দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে রোদ, গ্যালারি ভর্তি দর্শক, আর ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা। নেতৃত্বে শুভমান গিল আর তার দল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে দিল দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে। ৭ উইকেটের জয় দিয়ে সিরিজ ২-০ ব্যবধানে নিজেদের দখলে নিয়ে নিল টিম ইন্ডিয়া।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে ভারতের তরুণ অধিনায়ক শুভমান গিল আরও একবার প্রমাণ করলেন তার কাঁধেই ভরসা রাখলে ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত।
আরো পড়ুন:
ভারতের ৩ কাশির সিরাপ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা
তামান্নাকে নিয়ে আন্নু কাপুরের ‘অশ্লীল’ মন্তব্য
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন গিল। আর সেই সিদ্ধান্তের যথার্থ প্রমাণ দেন যশস্বী জয়সওয়াল ও শুভমান গিল নিজেই। জয়সওয়ালের ব্যাট থেকে আসে ঝলমলে ১৭৫ রান, অন্যপ্রান্তে অধিনায়ক গিল থাকেন অপরাজিত ১২৯ রানে। তাদের দুজনের ইনিংসেই ভারত তোলে পাহাড়সম ৫১৮ রান ৫ উইকেটে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে স্পিনার জোমেল ওয়ারিকন তিনটি উইকেট নিলেও ভারতের ব্যাটিং ঝড় থামাতে পারেননি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে ভারতের বোলাররা শুরু থেকেই আগুন ঝরান। মোহাম্মদ সিরাজ, রবীন্দ্র জাদেজা ও কুলদীপ যাদব মিলে ২৪৮ রানে গুটিয়ে দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। ক্যারিবিয়ান ব্যাটারদের মধ্যে কেউই থিতু হতে পারেননি। ভারতের দাপুটে বোলিংয়ে যেন একের পর এক তাসের ঘর ভেঙে পড়ছিল তাদের ইনিংস।
তবে দ্বিতীয় ইনিংসে নাটকীয়ভাবে বদলে যায় চিত্র। ফলো-অন করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ হঠাৎ যেন রূপ নেয় ভিন্ন দলে। ওপেনার জন ক্যাম্পবেল খেলেন ১৯৯ বলে ১১৫ রানের অনবদ্য ইনিংস, সঙ্গী শাই হোপও হাঁকান ১০৩ রান। তাদের জুটিতে ম্যাচ টেনে নিয়ে যায় পঞ্চম দিনে।
জাস্টিন গ্রিভসের অপরাজিত ৫০ রানে ভর করে দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিবিয়ানরা তোলে ৩৯০ রান। যা ভারতের সামনে রাখে ১২১ রানের ছোট লক্ষ্য।
লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি ভারতের। যশস্বী জয়সওয়াল দ্রুত আউট হন মাত্র ৮ রানে। এরপর সাই সুদর্শন ও কেএল রাহুল জুটি গড়ে খেলার লাগাম টেনে ধরেন। দুজন মিলে দ্বিতীয় উইকেটে যোগ করেন ৭৯ রান।
সুদর্শন ফেরেন ৩৯ রানে, আর গিলও থামেন ১৩ রানে। তবে শেষ পর্যন্ত ধ্রুব জুরেল ও রাহুলের ব্যাটে অনায়াসে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ভারত। রাহুল অপরাজিত থাকেন ৪১ রানে, জুরেল খেলেন ঝলমলে ৩১ রানের ইনিংস।
৮ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন কুলদীপ যাদব। আর ১০৪ রান ও ৮ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরা হন রবীন্দ্র জাদেজা।
এই সিরিজ জয় শুধু সংখ্যার নয়, প্রতীকও বটে। কোহলি-রোহিতের পর ভারতীয় ক্রিকেটে নেতৃত্বের নতুন মুখ হিসেবে শুভমান গিল নিজের প্রথম বড় দায়িত্বে সফলভাবে পাশ করলেন। তার নেতৃত্বে দল যেমন স্থির, তেমনি আক্রমণাত্মকও।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ৫১৮/৫ (ডিক্লে.
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২৪৮/১০ ও ৩৯০/১০।
ফল: ভারত জয়ী ৭ উইকেটে।
সিরিজ: ভারত ২-০ ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ঢাকা/আমিনুল
উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর উইন ড জ ক র ক ট উইক ট
এছাড়াও পড়ুন:
বিব্রতকর পরাজয়ের সঙ্গে মিলল ‘‘ভুয়া, ভুয়া’ দুয়োধ্বনি
উইকেটে মাত্রই গিয়েছিলেন লিটন দাস। ঠিকঠাক থিতুও হতে পারেননি। আগেই অযাচিত শট খেলতে গেলেন। ঠিকঠাক টাইমিং মেলাতে পারেননি। ডিপ পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন সাজঘরে।
গ্যালারিতে শোরগোল পড়ে যায়, ‘ভুয়া-ভুয়া-ভুয়া’ দুয়োধ্বনি। পরের ব্যাটসম্যান ক্রিজে গিয়ে প্রথম বলও খেলে ফেলেন। কিন্তু দর্শকদের ক্ষোভ থামে না! শুধু অধিনায়ক লিটনের জন্যই না, তানজিদ, পারভেজ, সাইফ যারাই আয়ারল্যান্ডের দেওয়া ১৮২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আত্মসমর্পণ করে ফিরেছেন প্রত্যেকের জন্যই দর্শকদের জবাব প্রস্তুত ছিল! এই মাঠে আগের তিন ম্যাচেই হেরেছে দল। নতুন শুরুতে আবার সেই পুরো ফল। দর্শকদেরই বা দোষ কোথায়!
আরো পড়ুন:
বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জিং টার্গেট দিল আয়ারল্যান্ড
টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ
স্বাগতিকদের শুরুর হতশ্রী ব্যাটিং শুধুমাত্র আয়ারল্যান্ডের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে হয়নি। চরম বাজে ব্যাটিং অ্যাপ্রোচও ছিল ক্রিকেটারদের। বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম বাউন্ডারি পেতে যদি ২৮ বল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে টি-টোয়েন্টি খেলার মূল্য কোথায়? অসহায় আত্মসমর্পণে বাংলাদেশ প্রথম টি-টোয়েন্টি হেরেছে ৩৯ রানের ব্যবধানে। ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৪২ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে ভালো করবে এই আশাতেই বুক বেঁধেছিল সমর্থকরা। কিন্তু বৃহস্পতিবার ব্যর্থতার জলে হাবুডুবু খেয়েছে গোটা দল। না হয়েছে বোলিং, না হয়েছে ব্যাটিংয়ে। ২২ গজে বাজে একটি দিন কাটিয়ে বিব্রতকর পরাজয়কে সঙ্গী করেছেন ক্রিকেটাররা।
টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে আয়ারল্যান্ডের ব্যাটিং ছিল দারুণ। প্রথম ওভারে অধিনায়ক পল স্টারর্লিং দুটি বাউন্ডারি পান। তৃতীয় ওভারে টিম টেক্টর পেসার শরিফুলের ওভারে চারটি বাউন্ডারি মারেন। তানজিম সাকিব বোলিংয়ে এসে ব্রেক থ্রু এনে দিলেও আয়ারল্যান্ড ১ উইকেটে ৪৮ রান তুলে নেয় পাওয়ার প্লে’তে।
শুরুর ঝড়ো ব্যাটিং পরে ধরে রাখেন টিম টেক্টর। ১৯ বলে ৩২ রান করেন তিনি। তাকে রিশাদ থামালেও হ্যারি টেক্টর ও কার্টিস ক্যাম্ফারের ৪৪ রানের জুটি আইরিশদের এগিয়ে নেয়। টেক্টর ছিলেন দারুণ। ইনিংসের শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে তুলে নেন টি-টোয়েন্টির সপ্তম ফিফটি। ৪২ বলে করেন ৬৯ রান।
শেষ ওভারে তানজিম হাসানকে দুটি ছক্কা হাঁকান চোখের পলকে। ওই ওভারে ১৭ রান আসলে বাংলাদেশের মনোবলে কিছুটা ধাক্কা খায়। ৪১ রানে ২ উইকেট নিয়ে তানজিম ছিলেন দলের সেরা বোলার। মোস্তাফিজ ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ছিলেন সবচেয়ে নিয়ন্ত্রিত। তবে উইকেট পাননি কোনো। শরিফুল ও রিশাদ পেয়েছেন ১টি করে উইকেট।
বাংলাদেশের শুরুর চার ব্যাটসম্যানের কেউ ডাবল ডিজিটে যেতে পারেননি। তানজিদ (২), পারভেজ (১), লিটন (১) ও সাইফ (১৩ বলে ৬) আউট হন। ১৮ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর তাওহীদ হৃদয় ও জাকের আলীর ব্যাটে প্রতিরোধ বাংলাদেশ। ৩৪ বলে ৪৮ রান আসে তাদের জুটিতে।
জাকের ১ ছক্কায় ১৬ বলে ২০ রান করে ফিরে আসলেও তাওহীদ হাল ছাড়েননি। তুলে নেন টি-টোয়েন্টির পঞ্চম ফিফটি। তানজিম (৫) ও নাসুম (০) দ্রুত আউট হলে তাওহীদ নিজেকে গুটিয়ে নিতে বাধ্য হন। তবে নবম উইকেটে বাংলাদেশ পায় প্রতিরোধ। সেটা ম্যাচ জয়ের জন্য নয় অবশ্যই। পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়ে আনার। শরিফুল ও তাওহীদ ৩১ বলে ৪৮ রান করেন। যেখানে শরিফুলের অবদান ১২। তাদের এই জুটিতেই দলের রান তিন অঙ্কে যায়। শেষ পর্যন্ত তাওহীদের একার লড়াইয়ে ১৪২ করতে পারে দল। ৫০ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৮৩ রানে নটআউট তাওহীদ।
বাংলাদেশকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বাঁহাতি স্পিনার ম্যাথু হামফ্রিজ ১৩ রানে ৪ উইকেট পেয়েছেন। ৩ উইকেট নেন ব্যারি ম্যাকার্থি। ২টি পেয়েছেন মার্ক আডায়ার।
যেখানে শেষ, সেখানেই শুরু। গত ৩১ অক্টোবর এই মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ। হারের যন্ত্রণা সইতে না পেরে সমর্থকরা পুরো দলকে ‘ভুয়া-ভুয়া’ দুয়ো দেন। ঠিক পরের ম্যাচেই আবার একই স্লোগানে মুখরিত চট্টগ্রামের গ্যালারি। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরু থেকে, ম্যাচ হারের পর পর্যন্ত বারবার ভেসে এসেছে ‘ভুয়া-ভুয়া’ স্লোগান।
২৯ নভেম্বর একই মাঠে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি। সিরিজ বাঁচাতে পারবে কিনা বাংলাদেশ সেই প্রশ্নও উঠা শুরু হয়ে গেছে।
ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল