বিহারে বিধানসভা ভোটের বাকি মাত্র তিন সপ্তাহ। এ অবস্থায় বহু পুরোনো দুর্নীতি মামলায় দিল্লির নিম্ন আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে আরজেডি নেতা লালু প্রসাদ, তাঁর স্ত্রী রাবড়ি দেবী ও পুত্র তেজস্বীর বিরুদ্ধে।

নিম্ন আদালতের এই সিদ্ধান্ত ‘রাজনৈতিক’ কি না, উঠে গেছে সেই বিতর্ক। তেজস্বী বলেছেন, ‘আমরা আগে থেকেই বলে আসছি, ভোট আসছে। বিজেপি এবার নতুন খেলা শুরু করবে।’ অভিযোগ গঠনের নির্দেশ শোনার পর গতকাল সোমবার তিনি বলেন, বিহারের মানুষ সব বোঝেন। সব জানেন। তাঁরা বুঝতে পারছেন ভোটের জন্যই এটা করা।

দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের এই নির্দেশ বিজেপিকে চনমনে করে তুলেছে। দুর্নীতির অভিযোগে লালুর সঙ্গে তেজস্বীর নাম জড়িয়ে যাওয়ায় তারা সেটা রাজনৈতিক হাতিয়ার করতে চাইছে। তেজস্বীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তারা নিশানা করছে জোটসঙ্গী কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধীকেও।

টানা ৩৫ বছর ধরে প্রধানত দ্বিমুখী লড়াইয়ের ধারাবাহিকতার অবসান ঘটিয়ে বিহার এবার ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন চমক সৃষ্টি করে কি না, সেই জল্পনার মধ্যে এই আইনি বিবাদ ভোটের রাজনীতিতে এক অন্য মাত্রা যোগ করল।

তেজস্বীর নামে অভিযোগ গঠন হওয়ায় কংগ্রেস, আরজেডি ও বামপন্থীদের মহাজোটের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণা থমকে গেল। নইলে ঠিক ছিল, আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হলেই মহাজোটের মুখ্যমন্ত্রী মুখ হিসেবে তেজস্বীর নাম ঘোষণা করা হবে।

কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারে ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত লালু প্রসাদ ছিলেন রেলমন্ত্রী। ওই সময়ে রুগ্‌ণ ও অলাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বেসরকারীকরণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই নীতি অনুযায়ী রেলমন্ত্রী লালু প্রসাদ ওডিশার পুরী ও ঝাড়খন্ডের রাঁচিতে অবস্থিত রেলে মন্ত্রণালয়ের দুটি অভিজাত হেরিটেজ হোটেল একটি বেসরকারি সংস্থাকে ইজারা দেন।

অভিযোগ, সরকারি সংস্থার সম্পত্তি বেসরকারি খাতে তুলে দেওয়ার ওই প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি করা হয়েছিল। যে সংস্থা ওই দুই হোটেল ইজারা নেয়, বিনিময়ে তারা পাটনায় ৩ একর জমি লালু-রাবড়ি-তেজস্বীর মালিকানাধীন সংস্থার নামে লিখে দেয়। সেই অভিযোগের তদন্ত সিবিআই এত দিন ধরে করছিল।

তদন্তের পর লালু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে কয়েক মাস আগেই অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল সিবিআই। তখন থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল এই মামলার পরিণতি নিয়ে। সোমবার নিম্ন আদালত অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেওয়ায় ভোটের মুখে বিরোধীরা যেমন বড় ধরনের চাপে পড়ল, তেমনই প্রচারের নতুন হাতিয়ার উঠে এল শাসক দল বিজেপির হাতে।

সোমবার রাউস অ্যাভিনিউর বিশেষ আদালতের বিচারক বিশাল গোগনে আদালতে উপস্থিত লালু প্রসাদের উদ্দেশে বলেন, ‘মনে হচ্ছে আপনিই ছিলেন দুর্নীতি ও প্রতারণার মূল পান্ডা। পদের অপব্যবহার আপনিই করেছেন। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, রাবড়ি দেবী ও তেজস্বী যাদব তাতে যুক্ত।

অভিযোগ গঠনের অর্থ, এবার এ মামলার বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হবে।

বিহার দখলে রাখতে নীতীশ কুমারের জেডিইউ, নরেন্দ্র মোদির বিজেপি, চিরাগ পাসোয়ানের লোক জনশক্তি পার্টি (এলজেপি-রামবিলাস), জিতনরাম মাঞ্জির হিন্দুস্তান আওয়ামি মোর্চা (হাম) ও উপেন্দ্র কুশওয়ার রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চা জোটবদ্ধ। তারা সবাই এনডিএর শরিক।

এনডিএ জোটের আসন ভাগাভাগিও চূড়ান্ত। বিজেপি ও জেডিইউ লড়বে ১০১টি করে আসনে। এলজেপি পেয়েছে ২৯টি আসন। জিতনরাম ও উপেন্দ্র কুশওয়ারা ৬টি করে। শেষের এই দুই শরিক প্রকাশ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

জেডিইউও অসন্তুষ্ট দুটি কারণে। প্রথমত, জোটের বড় শরিকের তকমা এই প্রথম নীতীশ হারালেন বলে। দ্বিতীয়ত, জোটে থেকেও নীতীশ ও জেডিইউর বিরোধিতা করে আসা চিরাগ পাসোয়ানকে বিজেপি অনেক বেশি আসন দেওয়ায়। এই অসন্তোষ সত্ত্বেও জেডিইউর নেতারা বিজেপির সঙ্গে স্বর মিলিয়ে বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার বিরোধিতায় নেমে পড়েছেন।

বিজেপি নেতা রবিশংকর প্রসাদ আরজেডিকে আক্রমণের পাশাপাশি রাহুল গান্ধীকেও নিশানা করেছেন। রাহুলের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, তেজস্বীর বিরুদ্ধে এবার দুর্নীতি ও প্রতারণার অভিযোগের মামলা শুরু হবে। তেজস্বীর দাবি তিনি বিহারে পরিবর্তন আনবেন। রাহুলকে জানাতে হবে, দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের হাত ধরে কীভাবে পরিবর্তন আনা যায়। বিহারের মানুষ এর জবাব চায়।

জেডিইউ নেতা কে সি ত্যাগীর কণ্ঠেও সেই সুর। তিনি বলেন, সমতা পার্টি ও জেডিইউ লালু প্রসাদের সঙ্গ ত্যাগ করেছিল তাঁর পরিবারের দুর্নীতির কারণেই।

বিহারে কংগ্রেসকে এবার গতবারের তুলনায় কম আসন পেয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। ২০২০ সালের ভোটে কংগ্রেস ৭০টি আসনে লড়ে জিতেছিল মাত্র ১৯টিতে। তুলনায় সিপিআই (এমএল) এর ফল খুবই ভালো হয়েছিল। এবার তারা বেশি আসন পেতে চলেছে।

আসন সমঝোতা যা–ই হোক, লালু ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠন নির্বাচনী প্রচারে কতটা প্রভাব ফেলে, তা আগ্রহ বাড়িয়েছে। আরজেডি নেতারা কীভাবে তার মোকাবিলা করেন, সেটাও হয়ে উঠবে অন্য আকর্ষণ। গতবারের ভোটেও বিজেপির প্রধান হাতিয়ার ছিল লালু পরিবারের দুর্নীতি ও অপশাসন। জাতভিত্তিক বিহারে তা সত্ত্বেও ৭৫ আসন জিতে এক নম্বর দল হয়েছিল আরজেডি।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: ও জ ড ইউ পর ব র র হয় ছ ল প রস দ সরক র আরজ ড

এছাড়াও পড়ুন:

বিপিএলের নিলাম শুরুর আগে অ্যালেক্স মার্শালের হুঁশিয়ারি

বিপিএলের সমান্তরালেই প্রতিবার চলে ফিক্সিং-বিতর্ক। এবার অবশ্য নিলামের ঠিক আগে গত বিপিএলে প্রশ্নবিদ্ধ ক্রিকেটারদের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। তিন সদস্যের স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে বিসিবির দুর্নীতি দমন ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল চূড়ান্ত তদন্ত করে বিসিবিকে পরামর্শ দিয়েছেন সন্দেহভাজনদের টুর্নামেন্ট থেকে দূরে রাখতে। বিসিবিও সেভাবেই করছে আজকের নিলাম।

র‍্যাডিসন হোটেলে নিলাম শুরুর আগে ভিডিও বার্তায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন অ্যালেক্স মার্শাল। বিসিবিতে প্রথমে দুর্নীতি দমন পরামর্শক হিসেবে যোগ দিলেও বর্তমানে তিনি দুর্নীতি দমন ইউনিটের প্রধানের দায়িত্ব নিয়েছেন। এ ব্যাপারে মার্শাল বলেন, ‘আগের বিভিন্ন সমস্যার অনেকগুলোই স্বাধীন তদন্ত কমিটির বিস্তৃত প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছিল। সেগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে বোর্ড সভাপতি সম্প্রতি এই ইউনিটটি গঠন করেছেন।’

ক্রিকেটে যারা কাজ করেন—খেলোয়াড়, কোচ, দল-মালিক, দল-ব্যবস্থাপনা, বোর্ড সদস্য কিংবা ইনটিগ্রিটি ইউনিট; আমরা সবাই দুর্নীতি-দমনবিরোধী নীতির আওতাভুক্ত।অ্যালেক্স মার্শাল, বিসিবি দুর্নীতি দমন ইউনিটের প্রধান

এবারের নিলাম থেকে সন্দেহভাজন ক্রিকেটারদের বাদ দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিপিএল সামনে রেখে আমি গভর্নিং কাউন্সিলকে কিছু ব্যক্তির বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছি, যাদের এই বছরের আসরে আমন্ত্রণ না জানানোটাই সমীচীন হবে। এটা অনেকগুলো প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের মধ্যে মাত্র একটি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং আমরা যখন সাম্প্রতিক বছরগুলোর ঘটনা আবার বিশ্লেষণ করছি, তখন কিছু মানুষকে দূরে রাখাই বেশি নিরাপদ বলে আমি মনে করেছি।’

বিপিএল নিলাম অুনষ্ঠানে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম

সম্পর্কিত নিবন্ধ