ইমাম হোসাই‌নের শাহাদা‌তে কারবালার চেতনা ধারণ ক‌রে ইনসা‌নিয়াত বিপ্ল‌বের মাধ‌্যমে মানবতার সমাজ ও কল‌্যাণকর রাষ্ট্র ব‌্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জা‌নি‌য়ে‌ছেন ওয়ার্ল্ড সুন্নী মুভমেন্ট ও ওয়ার্ল্ড হিউম্যানিটি রেভুলুশনের চেয়ারম্যান আল্লামা ইমাম হায়াত।

তি‌নি বলেন, “ক‌থিত ইসলা‌মের না‌মে এজি‌দের জঙ্গিবাদ ও অত‌্যাচারী ইসলাম বি‌রোধীশাসন ব‌্যবস্থার বিরু‌দ্ধে সত‌্য ও ন‌্যয়ের ইসলাম প্রতিষ্ঠাই প‌রিবারসহ ইমাম হোসাইন শাহাদা‌তের সুরা পান ক‌রেছি‌লেন। সেই শাহাদা‌তের পথ ধ‌রে মানব মতবাদের অনাচার বিশৃঙ্খলার বিরু‌দ্ধে লড়াই কর‌তে হ‌বে। ইনসানিয়াত বিপ্লবের মাধ্যমে মানবতার রাজনীতি গড়ে তুলতে হবে। মান‌বিক সমাজ ও রাষ্ট্র কা‌য়েম কর‌তে হ‌বে।”

মুসলিম মিল্লাতের মহান শহীদ দিবস শাহাদাতে কারবালা দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লা‌বের সাম‌নে ওয়ার্ল্ড সুন্নী মুভমেন্ট ও ওয়ার্ল্ড হিউম্যানিটি রেভুলুশন, বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর শাখা আ‌য়ো‌জিত সমাবেশে প্রধান অ‌তি‌থির বক্ত‌ব্যে ইমাম হায়াত এসব কথা ব‌লেন।

আরো পড়ুন:

আশুরা উপলেক্ষে শেকৃবিতে শিবিরের গণসেহরি

আশুরায় উজ্জীবিত হয়ে গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে এগিয়ে যেতে হবে

দশ-ই মহররম শাহাদাতে কারবালা দিবসকে ঈমানী অস্তিত্বের স্মারক ও মুসলিম মিল্লাতের মহান ঈমানী জাতীয় শহীদ দিবস এবং মানবতার মুক্তির মহা শাহাদাত উল্লেখ করে ইমাম হায়াত বলেন, “প্রাণপ্রিয় ইমামে আকবর ইমাম হুসাইন রাদিআল্লাহু আনহু অতুলনীয় মহান শাহাদাতের মধ্যেই নিহিত সত্য ও জীবনের মর্মধারা তথা দুনিয়ার পূর্বাপর সমস্ত জিহাদ ও শাহাদাতের সম্মিলিত পূর্ণ মর্ম।”

তি‌নি বলেন, “প্রাণপ্রিয় আহলে রাসুল ঈমান দ্বীনের প্রাণ ও হকের মানদণ্ড, তাদের ভালোবাসা ও সম্পর্ক ই আল্লাহতাআলা ও তার হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়াসাল্লামের ভালোবাসা ও সম্পর্ক এবং তাদের শত্রুতা ও বিচ্ছিন্নতাই আল্লাহতাআলা ও তার হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়াসাল্লামের শত্রুতা ও বিচ্ছিন্নতা।”

“এ শাহাদাতের দিশা হারিয়ে ফেলা ঈমান-দ্বীন-স্বাধীনতা-অধিকার হারিয়ে ফেলা এবং এ শাহাদাতের লক্ষ্য বাস্তবায়নেই দ্বীন-মিল্লাত-মানবতার অস্তিত্ব ও মুক্তি এবং বিজয় নিহিত। বাতিল মত-পথ-মুলুকিয়তের সহযোগী হয়ে এবং লক্ষ্যহীন নিছক আনুষ্ঠানিকতায় এ শাহাদাত দিবস পালনের স্বার্থকতা নেই।”

ইমাম হায়াত বলেন, “কাফের এজিদের কারবালায় ইমাম হুসাইন রাদিআল্লাহু আনহ ও পবিত্র আহলে রাসুলের এ শাহাদাত-ঈমান ও জীবনের বিপরীত বস্তুবাদি গোত্রবাদি কুফরি চেতনার গ্রাস থেকে সত্যের কলেমার তাওহীদ রেসালাত ভিত্তিক ঈমানী সত্তা-চেতনা-জাতীয়তা ও বস্তুবাদের ঊর্ধ্বে মানবসত্তা ও মানবাধিকার রক্ষার শাহাদাত।”

“কারাবালার শাহাদাত ইসলামের নীতি আদর্শ উৎখাতকারী মহান মকবুল সাহাবায়ে কেরামের সীমাহীন ত্যাগের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত ইসলাম ও মানবতার বিশাল সাম্রাজ্য জবরদখলকারী এজিদ মোনাফেকি চক্রের বিণা‌সি গ্রাস থেকে ইসলামের মূলধারা রক্ষার মহান শাহাদাত।”

ইমাম হায়াত ব‌লেন, “এ শাহাদাত এজিদ চক্রের উমাইয়া গোত্রবাদি স্বৈরদস্যুতন্ত্র মুলুকিয়তের ধ্বংসাত্মক গ্রাস থেকে সব মানুষের নিরাপত্তা-অধিকার-স্বাধীনতাভিত্তিক সর্বজনীন মানবতার রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও মানবিক সাম্যের ভিত্তিতে মুক্ত জীবনের মুক্ত দুনিয়া খেলাফতে ইনসানিয়াত রক্ষার মহান শাহাদাত।”

ইসলামের অস্তিত্বের এ ঈমানী শাহাদাত নিয়ে বাতিল শিয়াবাদের বিকৃতি ও এজিদপন্থী বাতিল খারেজিদের বিকৃতি ও প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তি‌নি।

সমা‌বে‌শে বক্তব‌্য রা‌খেন সংগঠন‌টির মহাস‌চিব আল্লামা শেখ রায়হান রাহবার, প্রেসিডিয়াম সদস্য আল্লামা আবু আবরার চিশতী ও সুফি আহমদ শাহ মোর্শেদ, কেন্দ্রীয় নেতা আল্লামা জাকের আহসান প্রমুখ।

সমা‌বেশ শে‌ষে দেশ জা‌তি ও মুস‌লিম মিল্লা‌তের সুখ শা‌ন্তি ও সমৃ‌দ্ধি কামনা ক‌রে মোনাজাত করা হয়। নেতাকর্মীরা র‌্যা‌লি বের ক‌রেন। র‌্যা‌লি‌টি গুরত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ ক‌রে শেষ হয়।

ঢাকা/নঈমুদ্দীন/সাইফ

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ম নবত র আল ল হ আল ল ম ক রব ল ইসল ম

এছাড়াও পড়ুন:

সাখাওয়াত স্যার, আপনার কাছে জাতির যত ঋণ

৩০ নভেম্বর ক্যালেণ্ডারের একটি গুরুত্বপূর্ণ তারিখ। কারণ এটি এমন একজন মহান শিক্ষকের জন্মদিন যিনি বাংলাদেশের সাংবাদিকতা শিক্ষার ইতিহাসের একটি বড় জায়গা দখল করে আছেন।

তিনি অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত আলী খান। তাঁর হাত ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় স্নাতক কোর্সের সূচনা হয়েছিল।

আসলে তিনি আমাদের কাছে শুধু একজন শিক্ষকই নন, তিনি ‘শান্তির জন্য সাংবাদিকতা’ চর্চার এক আলোকবর্তিকা।

তাঁর প্রজ্ঞা, সত্যান্বেষণ আর মানবিকতার দীপ্ত আলো তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন প্রজন্মের পর প্রজন্মের যোগাযোগ-সাংবাদিকতার পেশাগত জীবনে।

৩০ নভেম্বর ১৯৪১ সালে জন্মগ্রহণ করা আমাদের এই শিক্ষাগুরু একাধারে সত্যান্বেষী সাংবাদিক, সাহিত্যসাধক, সমাজ-সংগঠক, গবেষক এবং মানবিক ধারার সাংবাদিকতা শিখনচর্চার অগ্রপথিক।

তাঁর ভাষায়, ‘সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়, এটি একটি নৈতিক দায়িত্ব। যুদ্ধের সময় আমি শিখেছি—সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোই সাংবাদিকতার মূল শক্তি।’

আরও পড়ুনঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সংস্কার দেখতে চাই১১ আগস্ট ২০২৪

নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার ধনুয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। ঢাকার আরমানিটোলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, ঢাকা কলেজিয়েট সরকারি হাইস্কুল এবং ঢাকা কলেজ থেকে পর্যায়ক্রমে তিনি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। অধ্যাপক খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক (সম্মান), এমএ ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

ছাত্রাবস্থাতেই সাখাওয়াত আলী খান সাংবাদিকতা শুরু করেন। প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি সাংবাদিকতার মূল স্রোতে কাজ করেছেন। প্রতিবেদক থেকে শুরু করে সম্পাদনা পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই তাঁর পেশাদারি দক্ষতা তাঁকে অনন্য এক সংবাদসৈনিকের মর্যাদার আসনে আসীন করে।

সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতাচর্চার চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতার সোনালি অধ্যায় থেকে পেশাগত জীবন-দর্শনের মর্ম সন্ধান করা যায়।

স্যারের ভাষায়, ‘দৈনিক বাংলায় কাজ করার সময় আমরা জানতাম, সত্য লিখতে গেলে জীবন বিপন্ন হতে পারে। তবু লিখেছি, কারণ ইতিহাসের কাছে দায়বদ্ধতা ছিল।’

ছাত্রাবস্থাতেই সাখাওয়াত আলী খান সাংবাদিকতা শুরু করেন। প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি সাংবাদিকতার মূল স্রোতে কাজ করেছেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ